গৃহবধূ শাহীন আক্তার: দুটি বাছুর থেকে ১৪টি গরুর মালিক
দ ট ব ছ র থ ক – দুটি বাছুর থেকে শুরু করে সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছেন গৃহবধূ শাহীন আক্তার। ২০১০ সালে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে তিনি দুটি বাছুর কিনে খামার চালানো শুরু করেন। এখন তাঁর খামারে ১৪টি শাহিওয়াল জাতের গরু রয়েছে। গরুগুলো কোরবানির হাটে বিক্রি করে তিনি অর্থ সংগ্রহ করে দেনা শোধ করার জন্য। তাঁর পরিবার জন্য স্বামী আবু সুফিয়ান হাতে খাদ্য প্রস্তুত করে থাকেন। এ সময় সে নিজে গরু পরিচর্যা করে চালিয়ে যান।
কৃষক পরিবার থেকে বাছুর প্রতিষ্ঠা
২৫ বছর আগে দরিদ্র কৃষক পরিবারে বিয়ে হয়েছিল শাহীন আক্তারের। স্বামী ছিলেন বর্গা চাষি। কুঁড়েঘরে সবসময় অভাব-অনটন লেগে ছিল। দুই একর জমি ছিল তাঁদের, কিন্তু খাবার জোটানো কঠিন হত। এর পর প্রতিবেশী ও স্বজনদের হাতে ধার নিয়ে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে স্থায়ি কাজ পাওয়া যায়নি। পাঁচ বছর পর বাধ্য হয়ে তিনি ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসেন। ধারদেনা ও সংসারের খরচের চাপে অবস্থা ভাল ছিল না।
তিনি ছোটো ঋণ নিয়ে গরু পালনে প্রবেশ করেন। বসতঘরের উঠানে খামার তৈরি করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরামর্শ মেনে তাঁর গরু পালনের ব্যবস্থা করেন। দুই একর জমি বর্গা নিয়ে ভুট্টা ও নেপিয়া ঘাস চাষ করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ঘাস কাটার যন্ত্র ও ভুট্টা মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রদান করা হয়। এতে খামারে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। দুটি বাছুর থেকে শুরু করে তিনি এখন গরু পালনে গৃহবধূ নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
বর্তমানে তাঁর খামারে গরুগুলোর মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কদিন আগে আড়াই লাখ টাকায় দুটি গরু বিক্রি করেছেন। লাভ সঞ্চয় করে সব দেনা শোধ করেন। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আকবরপাড়া এলাকায় তাঁর একতলা পাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বাড়ি সামলেই খামারে কাজ করেন শাহীন। দুটি বাছুর থেকে শুরু করে এখন তিনি সুন্দর গরু পালনের মাধ্যমে পরিবারের বৃদ্ধি ঘটিয়েছেন।
প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়া এবং প্রতিষ্ঠা
গরু পালন করতে শুরু করার পর তিনি প্রতিযোগিতার সম্মুখে পরিচয় পেন। খামার শুরুতে বেশি দেনা ছিল। প্রথমে কিছু বাছুর থেকে চালানো হয় এই ব্যবসা। কিন্তু সে সময় দেনা শোধ করা ছিল একটি কঠিন প্রক্রিয়া
