নির্বাচনী তালিকা সংশোধন ঘিরে আন্দোলন, মুম্বাই ও দিল্লিতে পুলিশের ভিন্ন ভূমিকা
Banglaprabah.com – দ ই র জ য ই ব – ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকায় বড় সমাবেশের পর দলটির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া বার্তায় দিপকে গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনে আস্থাশীল মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলেন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ যে জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটকে দেবে, সেটিই প্রতিবাদের নতুন যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।
“আমাদের এই আন্দোলন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হবে। মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথে আমরা হাঁটব। আমাদের নিয়ে কী করবে, তা সরকার ও দিল্লি পুলিশকে ভেবে দেখতে হবে।”
দিপকে আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রকাশের অধিকারকে কর্তৃপক্ষ সম্মান করবে কি না, নাকি ২০ জুলাইয়ের মতো কঠোরতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে—সেই সিদ্ধান্ত সরকার ও পুলিশের। তাঁর ভাষায়, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।
এসআইআর নিয়ে পৃথক আন্দোলনে বিরোধী শিবির
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, তাঁর অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ও সিজেপি আলাদাভাবে কর্মসূচি শুরু করেছে। সিজেপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ও একতরফা আচরণের অভিযোগ তুলেছে।
গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নয়াদিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের ডাক দেয়। অন্যদিকে সিজেপি মুম্বাই থেকে নিজেদের কর্মসূচি শুরু করে। শিবাজি পার্কের আশপাশে মানুষের উপস্থিতি ও সমাবেশের সাড়া পাওয়ার পরই দলটি দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানায়।
এই সময়ের মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। সিজেপি নেতৃত্বের ভাষ্যে, জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, তা সংগঠিত প্রতিবাদের রূপ নিচ্ছে।
একই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে দুই শহরে বিপরীত চিত্র
মুম্বাই ও দিল্লির ঘটনাপ্রবাহে পুলিশের আচরণের স্পষ্ট পার্থক্য নিয়ে দিনভর আলোচনা হয়। দুটি রাজ্যেই বিজেপি ক্ষমতায় এবং কেন্দ্রেও একই দলের সরকার রয়েছে। তবু শিবাজি পার্ক কেন্দ্রিক জমায়েতে পুলিশের ভূমিকা ছিল তুলনামূলক সংযত, আর দিল্লিতে যন্তর মন্তরমুখী বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দিল্লির লুটেন্স এলাকায় সকাল থেকেই মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয়। সশস্ত্র পুলিশ, র্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং বহু গাড়ি। বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে এগোতে চাওয়া মানুষকে থামানো হয়।
পুলিশের হিসাবে, অন্তত ১ হাজার ১০০ জনকে আটক করে বাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনায় সাংবাদিকদের কাজেও বাধার অভিযোগ ওঠে। ফলে প্রশ্ন তৈরি হয়, একই রাজনৈতিক দলের শাসনাধীন দুই রাজ্যের রাজধানীতে একই ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদের ক্ষেত্রে এমন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া কেন দেখা গেল।
মুম্বাইয়ে সিজেপির কর্মসূচি ছিল ‘জেল ভরো আন্দোলন’। তা সত্ত্বেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ কারণে দিপকে মুম্বাই পুলিশের প্রতি সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে আন্দোলনকারীদের শিবাজি পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পার্কে পৌঁছানো বিভিন্ন সড়কেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন।
শিবাজি পার্কে তারকা ও নাগরিক সমাজের সমর্থন
বিকেল চারটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চলা সমাবেশে সরকার, জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে নানা পোস্টার দেখা যায়। মঞ্চে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমি, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী বিশাল দাদলানি, চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ এবং হনসল মেহতাসহ বলিউডের অনেকে।
গান্ধীর প্রপৌত্র ও সমাজকর্মী তুষার গান্ধীও সমাবেশে অংশ নিয়ে সমর্থনের কথা জানান। রাতে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় বজরঙ্গ দলের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সমাবেশে অভিজিৎ দিপকে মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলন ও ভারতের রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসের তিন ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
“গান্ধীজি ভারতের আত্মা, বাবাসাহেব আম্বেদকর দেশের মেরুদণ্ড এবং জওহরলাল নেহরু ভারতের মন। তাঁদের বিকল্প নেই। সমকক্ষও কেউ নন। এ দেশের মানুষের মনে গান্ধীজির হত্যাকারীদের স্থান নেই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন
মুম্বাইয়ের সমাবেশের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিজেপির আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানান। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে বিমানবন্দরে তিনি বলেন, সিজেপি, ছাত্রসমাজ ও তরুণদের এই উদ্যোগের পাশে তাঁর দল রয়েছে এবং তাঁদের ওপর যেন নির্যাতন না হয়, সেই অনুরোধও জানান।
“সিজেপি, ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। অনুরোধ করছি, তাঁদের যেন অত্যাচার করা না হয়।”
তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনও এক্স হ্যান্ডলে মমতার বক্তব্য তুলে ধরে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান। জবাবে দিপকে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশ্নে সীমিত নেই; তা রাজনৈতিক অধিকার, প্রতিবাদের স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ১০ অক্টোবরের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ই র জ য ই ব?
দ ই র জ য ই ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ই র জ য ই ব matter?
দ ই র জ য ই ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

