তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের
ডারউইনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিনের জ্বলজ্বলে পারফর্ম্যান্স
Banglaprabah.com – ত নজ দ ন জম ল র - অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ঝলমলে ছবি এঁকেছেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল সবচেয়ে বেশি সময়। মাত্র একটি সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা একটু হাসি-আনন্দ পেয়েছিল, যা ছিল দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের পাঁচটি উইকেটের মধ্যে তিনটিই এসেছিল সেই শেষ সেশনে।
তানজিদের সেঞ্চুরি ও নাজমুলের অবদান
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই তানজিদ হাসান করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের এই ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, নাজমুল হোসেন শতরানের দেখা না পেলেও ১২৬ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছেন, যা বাংলাদেশের এই দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুই ওপেনারের জুটি ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি। তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লিওনের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।
মধ্যমসারির অবদান ও উইকেট পতন
মুমিনুল হক প্রথম সেশনেই ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থেকে কট বিহাইন্ড হন। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দেন ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিওডে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই। স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং-বান্ধব ছিল।
নাজমুলের ফিফটি হলেই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়িয়ে শুরু করে। টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিনি তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই তার শুরু। নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সেই বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় নাজমুলকে।
এতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি। দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশ হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।
বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে হাসান-মিরাজের দেওয়াল
দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার। কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেওয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষা থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।
সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ-হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাদের স্লেজিং মনোযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটতে পারেনি মিরাজ-হাসানের।
ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বেও ওয়েবস্টার।
ডারউইনের আবহাওয়া ও অন্যান্য তথ্য
ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হচ্ছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে। নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের 'শীতে'ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া।
বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে।
তানজিদের সেঞ্চুরিতে মুগ্ধ ওয়াহ-পন্টিং। হানিফ মোহাম্মদের পর তানজিদ—সংখ্যার খেলায় ডারউইনে দ্বিতীয় দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮।
—দ্বিতীয় দিন শেষে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ত নজ দ ন জম ল র?ত নজ দ ন জম ল র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ত নজ দ ন জম ল র matter?ত নজ দ ন জম ল র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.