Uncategorized

তথ্য কমিশনে শুধু অভিযোগই জমা পড়ছে

Untitled_2-1

তথ্য কমিশন অচল, জমছে শত শত অভিযোগ

Banglaprabah.com – তথ য কম শন শ ধ অভ – তথ্য কমিশনে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা নাগরিকদের অভিযোগ জমা পড়ছে, কিন্তু কমিশনের নেতৃত্বশূন্যতার কারণে সেগুলোর শুনানি ও নিষ্পত্তি কার্যত বন্ধ রয়েছে। প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি সীমিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে আটকে আছে।

বাংলাদেশে ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো, ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজনের কথা থাকলেও তথ্য কমিশনের কার্যকর নেতৃত্ব না থাকা নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সাড়ে ৮০০-এর বেশি অভিযোগ অনিষ্পন্ন

তথ্য কমিশনের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাড়ে ৮০০টির বেশি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। জুলাই পর্যন্ত অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৭৮০টি। কমিশনার না থাকায় নতুন ও পুরোনো কোনো অভিযোগেরই প্রয়োজনীয় শুনানি হচ্ছে না।

এখন সাড়ে ৮০০ অভিযোগ জমা রয়েছে, কিন্তু কমিশন না থাকায় সেগুলোর কোনো নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নাগরিকেরা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য চাইতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়া, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া কিংবা আবেদন নিয়ে সন্তোষজনক সাড়া না মিললে আবেদনকারী তথ্য কমিশনে অভিযোগ করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্ত ও শুনানি করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, জরিমানা আরোপ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগও আছে। ফলে কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা তথ্য অধিকার আইনের প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে শূন্য কমিশনারের পদ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও অপসারণ করা হয়। এরপর নতুন কোনো কমিশনার নিয়োগ হয়নি।

দুই বছর পার হলেও অন্তর্বর্তী সরকার নতুন কমিশন গঠন করেনি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিষ্ঠার পর এত দীর্ঘ সময় কার্যকর নেতৃত্ব ছাড়া তথ্য কমিশন থাকার নজির নেই।

নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগে গত ৯ জুলাই পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব প্রতিটি শূন্য পদের জন্য দুজন প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা। রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা থেকে নিয়োগ দেবেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদন আহ্বানের পর প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো যাচাই চলছে। তাঁর আশা, কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শেষ হতে পারে।

জবাবদিহি ও অপতথ্য মোকাবিলার বাধা

তথ্য কমিশনের দায়িত্ব শুধু অভিযোগের রায় দেওয়া নয়। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে মানুষকে জানানো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রকাশনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোও এর কাজের অংশ। কমিশন অকার্যকর থাকায় এসব কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সত্য, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আলাদা করার প্রয়োজনও বেড়েছে। নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ থাকলে গুজব ও অপতথ্য কমাতে তা সহায়ক হতে পারে। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যেও এ বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রিজওয়ান-উল-আলমের মতে, দীর্ঘদিন কমিশন কার্যকর না থাকলে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির পথে বাস্তব বাধা তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তথ্যের আবেদনকারীদের জন্য তথ্য কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকারের পথ। সেটি অচল থাকলে তথ্য দিতে অনীহা বা বিলম্বের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জমে থাকা অভিযোগ নিষ্পত্তি, পূর্ণ নেতৃত্ব নিয়োগ এবং নিয়মিত কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

সাধারণ প্রশ্ন

তথ্য না পেলে কোথায় অভিযোগ করা যায়? নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়া, অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া বা সন্তোষজনক উত্তর না মিললে তথ্য অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য কমিশনে অভিযোগ করা যায়।

কমিশনার না থাকলে অভিযোগের কী হয়? অভিযোগ জমা নেওয়া হলেও কমিশনের শুনানি ও সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় না। ফলে অভিযোগ অনিষ্পন্ন থেকে যায়।

তথ্য কমিশন কেন গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিষ্ঠানটি নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষা, কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং তথ্য গোপন বা বিলম্বের বিরুদ্ধে প্রতিকার দেওয়ার ভূমিকা পালন করে।

Frequently Asked Questions

What is তথ য কম শন শ ধ অভ?

তথ য কম শন শ ধ অভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does তথ য কম শন শ ধ অভ matter?

তথ য কম শন শ ধ অভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *