Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ছে আরেকটি ট্রেন

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ বাড়াতে মহানগর এক্সপ্রেস সম্প্রসারণের প্রস্তুতি

Banglaprabah.com – ঢ ক কক সব জ র র - পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝের একাধিক জেলার যাত্রীরা ট্রেন বদল বা সড়কপথে না গিয়ে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বর্ধিত রুটে ট্রেনটির চলাচল শুরু করা। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেন থাকলেও চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথের স্টেশনগুলোতে থামে না। ফলে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের সরাসরি রেলপথে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ সীমিত।

মাঝপথের স্টেশনগুলোর যাত্রীদের জন্য নতুন সুবিধা

মহানগর এক্সপ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পরিচিত আন্তনগর ট্রেনগুলোর একটি। বর্তমান কার্যসূচি অনুসারে এটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং রাত সাড়ে তিনটার দিকে গন্তব্যে পৌঁছায়। পথিমধ্যে বিমানবন্দরসহ ১২টি স্টেশনে এর নির্ধারিত বিরতি রয়েছে।

বিমানবন্দর ছাড়াও ট্রেনটি নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এই স্টেশনগুলোতে ওঠানামার সুবিধা থাকায় মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানো হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীরা উপকৃত হবেন। এত দিন এসব অঞ্চলের অনেক যাত্রীকে কক্সবাজার যেতে বাস বা অন্য সড়কযানের ওপর নির্ভর করতে হতো।

ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে কক্সবাজারগামী ট্রেন থামানোর দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আগ্রহ ছিল। মহানগর এক্সপ্রেসের বিদ্যমান স্টপেজ ব্যবহার করে সরাসরি সংযোগ তৈরির এই উদ্যোগ সেই চাহিদার একটি বাস্তবসম্মত উত্তর হতে পারে।

পরিকল্পিত সময়সূচি

কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রা শুরু হলে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্তমান সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে সকাল ছয়টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। বিপরীতমুখী যাত্রায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ার কথা সকাল নয়টায়। একমুখী ভ্রমণে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা।

নতুন সময়টি রাতের যাত্রার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যাত্রীরা সন্ধ্যার পর ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ভোরে কক্সবাজারে নামতে পারবেন। আবার ফিরতি ট্রেন সকালে ছাড়লে সমুদ্রসৈকত শহর থেকে দিনের শুরুতেই রাজধানীমুখী যাত্রা করা সম্ভব হবে। তবে এই সূচি কার্যকর হওয়ার আগে রেকের প্রাপ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পরিচালনাগত নানা বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে।

“কক্সবাজার রুটে প্রচুর যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।” — সুজিত বিশ্বাস, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল

বর্তমান ট্রেনসেবা ও বাড়তি চাহিদা

এখন ঢাকা-কক্সবাজার পথে দুই জোড়া বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন চলে। একইভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও রয়েছে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন। অর্থাৎ ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে মিলিয়ে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে যাতায়াত করছে। যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে চলা কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাত ১১টায় কমলাপুর ছাড়ে এবং সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছায়। অন্যদিকে পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছায়। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে ঢাকা থেকে যাত্রীদের সামনে আরেকটি সময়সূচির বিকল্প তৈরি হবে।

কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর ভ্রমণপ্রত্যাশী, পরিবারসহ যাত্রী এবং বিভিন্ন জেলার নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনসেবার চাহিদা বেড়েছে। রেলপথে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক যাত্রার প্রত্যাশা থাকায় ট্রেনের সংখ্যা, কোচের মান এবং নির্ধারিত সময় বজায় রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন ট্রেন চালু কেবল আসনসংখ্যা বাড়াবে না; ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান যাত্রাবিরতিগুলোর সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি সংযোগও তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কোচ ও সময়নিষ্ঠতার প্রশ্ন

নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের বিদ্যমান সেবার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছে। এই পথে বর্তমানে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চললেও চারটি ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহার করা হয় একটি মাত্র রেক। একটি ইঞ্জিন ও একাধিক কোচ মিলিয়ে একটি রেক গঠিত হয়। একই রেকের ওপর একাধিক ট্রেন নির্ভর করায় কোনো একটি যাত্রায় বিলম্ব হলে পরের সূচিতেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সময়মতো ট্রেন না চললে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে, বিশেষত যারা নির্দিষ্ট সময় ধরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। এই রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ও উন্নতমানের কোচ যোগ করার আলোচনা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীসংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য রেক, মানসম্মত কোচ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত যাত্রা শুরুর আগে কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে। দীর্ঘ রুটে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব প্রস্তুতি জরুরি, কারণ কেবল ট্রেন চালু করাই যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিচিত স্টেশনগুলোর যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার যাত্রা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ের জন্য নতুন যাত্রী বহন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকে সামনে রেখে প্রস্তুতি কত দ্রুত শেষ হয়, তার ওপর নির্ভর করবে কবে থেকে যাত্রীরা মহানগর এক্সপ্রেসে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঢ ক কক সব জ র র?

ঢ ক কক সব জ র র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ক কক সব জ র র matter?

ঢ ক কক সব জ র র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.