Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঢাকার যে আটটি দোকানে পাবেন নিরামিষ ও বাঙালি খাবারের স্বাদ

Published October 20, 2026 · Updated October 20, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

পূজার দিনগুলোতে ঢাকায় নিরামিষ খাবারের কয়েকটি পরিচিত ঠিকানা

Banglaprabah.com – ঢ ক র য আটট দ ক - দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ দেখা, নতুন পোশাক আর কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর মতোই খাবারও উৎসবের অভিজ্ঞতার একটি অংশ। অনেকেই এ সময়ে বাড়ির বাইরেও পেঁয়াজ-রসুনবিহীন পদ, বাঙালি নিরামিষ রান্না, পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা মিষ্টান্নের খোঁজ করেন। পুরান ঢাকা থেকে মোহাম্মদপুর, পান্থপথ ও গ্রিন রোড—বিভিন্ন এলাকায় এমন কয়েকটি ভোজনালয় ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে নিরামিষভোজীদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন পাওয়া যায়।

কোথাও ছোট স্টিলের বাটিতে সাজানো থাকে ঘরোয়া বাঙালি পদ, কোথাও আবার পনিরের বিরিয়ানি, ধোকা বা ফ্রায়েড রাইস। বিকেলের নাশতা, দুপুরের থালি, মিষ্টিমুখ বা অনলাইন অর্ডার—প্রতিষ্ঠানভেদে সুবিধাও ভিন্ন। বের হওয়ার আগে সময়সূচি ও পছন্দের খাবারের প্রাপ্যতা জেনে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।

জগন্নাথ ভোজনালয়, তাঁতীবাজার

পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার শিবমন্দিরের কাছে ১১০ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় জগন্নাথ ভোজনালয়। ২০০৫ সালে শ্যামল অধিকারী ও নিতাই পালের উদ্যোগে এর যাত্রা শুরু হয়। ২০২০ সালে নিতাই পালের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে আছেন অশোক কবিরাজ।

এখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ রকমের নিরামিষ রান্না করা হয়। শুক্তো, ফুলকপির রসা, ছানার ধোকা, লাবড়া, মোচার ঘন্ট, সয়াবিনের রসা, নানা শাক ও ভর্তা থেকে নিজের পছন্দের পদ বেছে নেওয়া যায়। পরিবেশনের ধরনেও আছে বাঙালি ভোজনালয়ের পরিচিত আবহ—প্রতিটি পদ আসে ছোট স্টিলের বাটিতে।

খাবার শেষে পায়েস, মিষ্টি দই অথবা চাটনির সুযোগ থাকে। নিরামিষ রান্নার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে এখানে পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করা হয় না। একাদশীর দিনে পুষ্পান্ন, শ্যামা চালের পায়েস, সাবুদানার ভুনা এবং সয়াবিনের রসা নিয়ে থাকে বিশেষ আয়োজন। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে; ভিড় বাড়লে কখনো রাত ১১টা পর্যন্তও পরিবেশন চলতে পারে।

অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়, তাঁতীবাজার গলি

তাঁতীবাজার গলির ৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়। এর খাবারের বিশেষ পরিচয় মহাপ্রসাদি ধাঁচের রান্না ও সাত্ত্বিক পরিবেশনা। রান্নায় ব্যবহার করা হয় দেশি ঘি এবং সূর্যমুখী তেল।

এখানকার জনপ্রিয় আইটেম ভেজ পোলাও। সয়া, গাজর ও আলু মিশিয়ে তৈরি এই পোলাওয়ের মূল্য ৮০ টাকা। মেনুতে আরও রয়েছে ছানার রসা, ডালপুরি, ছোলার ডাল, নানা ধরনের সবজি ভাজি ও পায়েস। সকালের নাশতায় পরোটার সঙ্গে সবজিও পাওয়া যায়। ভোজনালয়টি সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চালু থাকে।

গোবিন্দাস সাত্ত্বিক ফুডস, বাবর রোড

মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে গোবিন্দাস সাত্ত্বিক ফুডস নিরামিষ খাবারের পরিচিত একটি গন্তব্য। নামের সঙ্গে মিল রেখে এখানে সাত্ত্বিক পদই পরিবেশন করা হয়। দুর্গাপূজার জন্য আলাদা কোনো মেনুর বদলে নিয়মিত খাবারের স্বাদ ও মান বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পূজার দিনগুলোয় সুবাসিত পুষ্পান্ন, পনির বিরিয়ানি এবং গরম লুচি বেশ চাহিদাসম্পন্ন। এর সঙ্গে নানা ধরনের তরকারিও থাকে। সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খাবার পাওয়া যায়। বাইরে না গিয়ে খেতে চাইলে অনলাইনে অর্ডারের ব্যবস্থাও আছে; নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থায় খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

জেপিএস ভেজ কিচেন, কাদেরাবাদ হাউজিং

মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের জেপিএস ভেজ কিচেনে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি নিরামিষ খাবারের সঙ্গে তুলনামূলক আধুনিক কিছু পদও রাখা হয়। দুপুর ও রাতের খাবারের পাশাপাশি বিকেলের নাশতার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পূজার সময় কাশ্মীরি পনির দম বিরিয়ানি ও ফ্রায়েড রাইস উল্লেখযোগ্য পছন্দ হতে পারে। এ ছাড়া পনির মসলা, কাশ্মীরি দম কালিয়া, সয়া-মুগডালের ভুনা, সয়া বাঁধাকপি ভাজি, মিক্সড সবজি, ফুলকপির সাম্বার এবং সয়াবিন কারি পাওয়া যায়। সঙ্গে পরিবেশন করা হয় টক-মিষ্টি জলপাইয়ের চাটনি।

মিষ্টির তালিকায় আছে চুষির পায়েস, ঘন দই ও রাবড়ি মালাই। বিকেলে সমুচা, নিরামিষ শর্মা কিংবা লুচির সঙ্গে ছোলার ডাল খাওয়া যায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত দোকানটি খোলা থাকে। তিন বেলার খাবার ছাড়াও পঞ্চব্যঞ্জনের থালি, বেকারি পণ্য ও জন্মদিনের কেক পাওয়া যায় এখানে। অনলাইন অর্ডারের সুযোগও রয়েছে।

নীলাচল ভেজ রেস্তোরাঁ, পান্থপথ

পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে কিছুটা সামনে নীলাচল ভেজ রেস্তোরাঁ। চলতি বছরের মার্চে চালু হওয়া এই রেস্তোরাঁ সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এর মালিক সুভাষ সাহার মেরুল বাড্ডায় গোপালস নামে আরেকটি নিরামিষ রেস্তোরাঁ রয়েছে।

পাঁচ সবজি, মুগডাল, কাশ্মীরি ধোকা এবং শর্ষে দিয়ে রান্না করা পনির ও পটোল নীলাচলের উল্লেখযোগ্য পদ। পনির ফ্রায়েড রাইস, ধোকা বিরিয়ানি ও মালয়েশিয়ান সয়াবিনের রান্নাও জনপ্রিয়। মিষ্টির জন্য রাখা হয় রসগোল্লা ও চুষির পিঠা। সন্ধ্যার নাশতায় পাওয়া যায় পাস্তা, রোল, লুচি এবং আলুর দম।

রেস্তোরাঁটির নিয়মিত পদগুলো শর্ষের তেলে রান্না করা হয়। তবে একাদশীর বিশেষ খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় সূর্যমুখী তেল। সরাসরি বসে খাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও অর্ডার করা যায়।

বৃন্দাস, গ্রিন রোড

গ্রিন রোডে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের পাশের বৃন্দাস প্রায় তিন বছর ধরে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করছে। একই এলাকায় নতুন আরেকটি শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকা প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

এখানে কাশ্মীরি রোস্ট, সয়া চাপ রোস্ট ও সয়া পনির বিরিয়ানি জনপ্রিয়। সরাসরি গিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। নিজস্ব সরবরাহকর্মীরা খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। উৎসবের ব্যস্ত দিনে এমন ব্যবস্থায় বাড়িতে বা আড্ডার জায়গায় নিরামিষ খাবার পৌঁছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ঢাকার এই ঠিকানাগুলোর খাবারের ধরন এক নয়—কোনোটি মহাপ্রসাদি ও সাত্ত্বিক রান্নার জন্য পরিচিত, কোনোটি বহুপদে সাজানো নিরামিষ থালির জন্য, আবার কোনোটি পনির, ধোকা ও সয়াভিত্তিক বিশেষ পদে আকর্ষণীয়। ফলে পূজার দিনে খাবারের পরিকল্পনা করার সময় পছন্দের স্বাদ, অবস্থান, সময় এবং অনলাইন অর্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বেছে নেওয়া সহজ হতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঢ ক র য আটট দ ক?

ঢ ক র য আটট দ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ক র য আটট দ ক matter?

ঢ ক র য আটট দ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.