Uncategorized

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

Untitled_9

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানে নামছে ডিএনসিসির দেড় হাজার কর্মী

Banglaprabah.com – ড ঙ গ প রত র ধ – জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সব এলাকায় বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো হবে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে ২৪টি দলে ভাগ করে মাঠে মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁরা বাসাবাড়ি ও আশপাশের স্থান পরিদর্শন করবেন, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করবেন এবং সেগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেবেন।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর সংসদ ভবন এলাকা ও এর আশপাশকে কেন্দ্র করে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অগ্রাধিকার

কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের জন্য ডিএনসিসির অঞ্চল-৫কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবন এবং তার কাছাকাছি যেসব স্থানকে মশার প্রজননের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, সেখানে লার্ভা শনাক্ত ও নিধনের পাশাপাশি উৎস ধ্বংসের কাজ করা হবে। জমে থাকা পানি অপসারণ, পাত্র বা পরিত্যক্ত বস্তু পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে লার্ভিসাইড প্রয়োগও এ অভিযানের অংশ থাকবে।

এ কাজে অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিতসংখ্যক সুপারভাইজার ও মশকনিধনকর্মীকে অঞ্চল-৫-এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কর্মীরা যেন সময়মতো নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকেন এবং কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন, তা নিশ্চিত করতে।

তবে কেন্দ্রীয় উদ্যোগে কর্মী পাঠানো হলেও অঞ্চল-২, ৩ ও ৪-এর নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। এসব অঞ্চলের অন্য কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় এডিস মশার আবাসস্থল শনাক্ত, লার্ভা নিধন এবং উৎস অপসারণের কাজ চালিয়ে যাবেন।

সব অঞ্চলে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ

ডিএনসিসির অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ বাকি সব অঞ্চলেও শনিবার বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি এলাকায় আগে চিহ্নিত হটস্পট, সম্ভাব্য প্রজননস্থান এবং স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত জায়গাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়তে পারে। তাই শুধু উড়ন্ত মশা নিধনের ওপর নির্ভর না করে মশার জন্মের স্থান কমিয়ে আনার বিষয়টিকে এই অভিযানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টব, পানি জমে থাকা পাত্র এবং অন্যান্য ছোট-বড় আধার নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বিশেষ কর্মসূচিতে মাঠকর্মীরা প্রজননস্থল শনাক্ত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক বার্তাও পৌঁছে দেবেন। কারণ মশার বংশবিস্তার রোধে নাগরিকদের দৈনন্দিন সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভেতরে ও বাইরে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় পাত্র উল্টে রাখা এবং ব্যবহৃত পানির আধার ঢেকে রাখার মতো পদক্ষেপ এডিসের বিস্তার কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সোর্স রিডাকশনে জোর

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় শনিবারের কর্মসূচিতে ‘সোর্স রিডাকশন’ বা মশার উৎস কমানোর কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, যেখানে এডিস মশা জন্ম নিতে পারে এমন স্থান চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার করা বা ব্যবহার অযোগ্য করে দেওয়া। প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হবে, তবে মূল লক্ষ্য থাকবে জমে থাকা পানির উৎস দূর করা।

সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের কাজ তদারক করবেন। জনবল কোথায় মোতায়েন আছে, কী ধরনের প্রজননস্থল পাওয়া যাচ্ছে এবং কতগুলো উৎস ধ্বংস করা হয়েছে—এসব বিষয়ে সরাসরি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে অভিযানটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় ঝুঁকির সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সতর্কতারও ভূমিকা রয়েছে। কোনো বাসা, প্রতিষ্ঠান বা নির্মাণস্থলে পানি জমে থাকলে সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজের বাসা ও আশপাশ পরীক্ষা করলে ছোট ছোট পাত্রে জমে থাকা পানি চোখে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

দক্ষিণ প্লাজায় তথ্য ও সচেতনতামূলক স্টল

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি তথ্যকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। এটি শনিবার সকাল ৯টা থেকে খোলা থাকবে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, এডিস মশার প্রজননস্থল চেনার উপায় এবং ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে অঞ্চল-৫-এ কর্মসূচির দৃশ্যমানতা বেশি থাকলেও ডিএনসিসি জানিয়েছে, বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান একই সময়ে সব অঞ্চলেই চলবে। এ উদ্যোগের মূল বার্তা হলো—ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু ফগিং বা ওষুধ ছিটানোর বিষয় নয়; মশার জন্মের সুযোগ বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।

নাগরিকদেরও অনুরোধ করা হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে এবং বাড়ির ভেতর বা আশপাশে পানি জমে থাকার কোনো জায়গা থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে। মশার প্রজননস্থল যত দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণ করা যাবে, ডেঙ্গু ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টাও তত বেশি কার্যকর হবে।

Frequently Asked Questions

What is ড ঙ গ প রত র ধ?

ড ঙ গ প রত র ধ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড ঙ গ প রত র ধ matter?

ড ঙ গ প রত র ধ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *