ছেলে জন্মের ২৭ বছর পর বাবার স্বীকৃতি পেয়েছেন
ড এনএ পর ক ষ য় ম – ডিএনএ পরীক্ষার ফলে প্রমাণ পাওয়ার পর ছেলে তাঁর বাবার স্বীকৃতি পেয়েছেন। সে দীর্ঘদিন বাবার পরিচয় জানতে পারেনি এবং সমাজে নানা কথা শুনতে হত। আদালতের নির্দেশে মা, বাবা এবং ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল দেখে বাবা ছেলেকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন।
বাবা ছিলেন ছেলের জন্মের আগে বিদেশে। তখন মা ও বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। ছেলে বড় হতে থাকে মামার বাড়িতে। বিদেশে ফেরত আসার পর বাবা আবার একটি বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান ছেলের জন্মের আগেই। পরে আবার এসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী জজ সুব্রত দাশ প্রথম আলোকে বলেন, বাবা ও ছেলের পুনর্মিলনের দৃশ্যে কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে ছেলের দাবি সঠিক হয়। তারপর বাবা ছেলেকে মানেন নিজের সন্তান হিসেবে।
বাবার স্বীকৃতি পেয়ে ছেলে খুশি হন। তিনি বলেন, “এত বছর বাবার পরিচয় দিতে পারেনি। এখন সমাজে আর কারও কটু কথা শুনতে হবে না।” ছেলে আবেদন করেন লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ে বাবার স্বীকৃতি পেতে। বাবা সেখানে হাজির হন, কিন্তু ছেলেকে তাঁর সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য প্রথমে অস্বীকৃতি জানান।
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এরশাদুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়ে বাবা অবশেষে ছেলেকে মেনে নেন। সেই সাথে সম্পত্তি বিভাগ, ঘর করার জন্য দুই লাখ টাকা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পরিচয় করানোর লিখিত অঙ্গীকার করেন। দীর্ঘদিনের বিরোধের পর দুজন এগিয়ে আসে এবং টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়।
ছেলে বড় হওয়ার পর নিজের বাবার পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তাঁকে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২০২৪ সালের জুন মাসে ছেলে আবেদন করেন লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে। এখানে হাজির হন বাবা কিন্তু আগে ছেলেকে মানেন না। আদালতের নির্দেশে পরীক্ষা করার পর প্রমাণ পাওয়ার পর ছেলেকে বুকে টেনে নেন বাবা।
