Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঠিকানা বদলালেই কি বদলায় শিক্ষার সুযোগ?

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

ঠিকানা পরিবর্তন করলেই কি শিক্ষার সমান সুযোগ আসে?

Banglaprabah.com – ঠ ক ন বদল ল ই ক - শিক্ষার আলো সকলের জন্য সমান হওয়ার কথা, কিন্তু সেই আলোতেও আজ বৈষম্যের ছায়া স্পষ্ট। জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবুও সেই শিক্ষাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নতুন বৈষম্য। এটি অবাক করার মতো বিষয়, কারণ আমরা একই দেশে বাস করি, কিন্তু স্থানভেদে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধায় রয়েছে বিশাল পার্থক্য। শহর ও গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার এই বৈষম্যই প্রধান সমস্যা।

শহরের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। প্রতিযোগিতা, অলিম্পিয়াড, সেমিনার—এসবের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শহরের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস, অভিজ্ঞ শিক্ষকের দিকনির্দেশনা এবং টেস্ট পরীক্ষার সুযোগ পায়। অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরও তারা আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পায়।

গ্রামের শিক্ষার্থীরা একই পরীক্ষায় অংশ নিলেও সমান সুযোগ পায় না। কোথাও শিক্ষক সংকট, কোথাও পর্যাপ্ত ক্লাসের অভাব, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাদের স্বপ্ন, মেধা ও পরিশ্রম শহরের শিক্ষার্থীদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

নটর ডেম কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যে মানসম্মত শিক্ষা ও পরিবেশ পায়, প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও মান ভিন্ন। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানেও পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এই পার্থক্যের প্রভাব শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়তে পারে।

একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির সুযোগ যদি সমান না হয়, তবে তাদের কাছ থেকে একই ফলাফল আশা করা যুক্তিসংগত নয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। গ্রামের অনেক পরিবার দিনমজুরি, কৃষিকাজ বা ছোটখাটো ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। যাদের নিজেদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, তাদের পক্ষে সন্তানকে শহরে রেখে পড়ানো অনেক সময় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। উচ্চশিক্ষা বা শহরের ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা তখন তাদের কাছে প্রয়োজনের চেয়ে বিলাসিতার মতো মনে হতে পারে।

অথচ সেই পরিবারের সন্তানটিরও হয়তো বড় স্বপ্ন আছে। তারও হয়তো ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিচারক, শিক্ষক বা অন্য কোনো পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন আছে। কিন্তু শুধু অর্থ ও সুযোগের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন—শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। শিক্ষার মান ও সুযোগের বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ তার জন্মস্থান বা পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে না। শহর হোক কিংবা প্রত্যন্ত গ্রাম—প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার সমান সুযোগ পায়। কারণ, মেধার কোনো শহর-গ্রাম নেই, স্বপ্নেরও কোনো ঠিকানা নেই। সুযোগটাই শুধু সবার সমান হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : তানহা আক্তার, শিক্ষার্থী, সরকার বরিশাল কলেজ, বরিশাল

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঠ ক ন বদল ল ই ক?

ঠ ক ন বদল ল ই ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঠ ক ন বদল ল ই ক matter?

ঠ ক ন বদল ল ই ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.