Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

টানা দুই দিন কমার পর আজ বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে ২২১৬ টাকা

Published September 30, 2026 · Updated September 30, 2026 · By Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

দুই দিনের পতনের পর দেশের বাজারে আবার বাড়ল সোনার দাম

Banglaprabah.com – ট ন দ ই দ ন কম - দেশের স্বর্ণবাজারে টানা দুই দিন দর কমার পর বুধবার আবার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির ঘোষিত নতুন দরে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত এই মূল্য কার্যকর হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে সোনার দামের সাম্প্রতিক পরিবর্তনও দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রুপার দামে এবার কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

নতুন দরে প্রতি ভরি সোনার মূল্য

মূল্যবৃদ্ধির পর ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনা কিনতে লাগবে প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির নতুন মূল্য ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।

বুধবারের এই পরিবর্তনের আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা। অর্থাৎ ক্যারেটভেদে দর বাড়লেও ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির অঙ্কটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো।

সাম্প্রতিক কমা-বাড়ার হিসাব

এর আগে কয়েক দফা কমেছিল সোনার দাম। ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার মূল্য ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। এরপর গত সোমবার আরও ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং মঙ্গলবার ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে। তিন দফার এই পতনে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা নেমেছিল।

সেই ধারাবাহিকতার পর বুধবারের ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি বাজারে নতুন মোড় এনেছে। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের একটি অংশ ফিরে এলেও আগের তিন দফা কমার পুরো প্রভাব এখনো কাটেনি। যারা স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য দৈনিক দর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরির মূল্যে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

স্বর্ণের অলংকার কেনার সময় শুধু ঘোষিত প্রতি ভরির দাম দেখলেই পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায় না। গহনার নকশা ও তৈরির মজুরি আলাদা হতে পারে। পুরোনো সোনা বিক্রি বা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বিশুদ্ধতা যাচাই ও দোকানের নির্ধারিত শর্তের কারণে চূড়ান্ত মূল্য ভিন্ন হতে পারে। তাই কেনাবেচার আগে ক্যারেট, ওজন এবং মজুরির হিসাব পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন।

রেকর্ড দাম থেকে বর্তমান বাজার

দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দর উঠেছিল প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই দাম নির্ধারিত হয়। সেদিন সকালে এক ধাক্কায় প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা যোগ হয়ে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ওই পর্যায়ে পৌঁছায়।

এরপর বাজারদর একসময় প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচেও নেমেছিল। পরে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সোনার বাজার এখনো বড় ধরনের ওঠানামার মধ্যেই রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতি, স্থানীয় তেজাবি সোনার মূল্য এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব—সব মিলিয়ে এই পরিবর্তন দ্রুত দেশের খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি দর বেড়েছে

কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে দাম কমতে কমতে মঙ্গলবার সোনা সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। বুধবার আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় মূল্য। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে গোল্ড প্রাইস ডট অর্গে প্রতি আউন্স সোনার দাম দেখা যায় ৪ হাজার ১৭০ ডলার, যা দিনের হিসাবে প্রায় ২২ ডলার বেশি।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলার প্রতি আউন্সে উঠেছিল। সেই উচ্চতার তুলনায় বর্তমান দর অনেক নিচে। গত ৩০ দিনে প্রতি আউন্সে প্রায় ২০০ ডলার কমেছে সোনার দাম; ছয় মাসের ব্যবধানে পতনের পরিমাণ প্রায় ৫০০ ডলার।

সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখা যায়। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর এবার উল্টো দামের পতন হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বৃদ্ধির পরিবেশে এ ধাতুর আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ সোনায় নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না, বিপরীতে সুদবাহী সম্পদ তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

“সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এতে সোনার দামেও প্রভাব পড়ে।”

মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ ওথমান আল-জাজিরাকে এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ইঙ্গিত হলো, সোনার মূল্য শুধু যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করে না; সুদের হার এবং বিকল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

দেশের ক্রেতাদের জন্য তাই আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা, স্থানীয় বাজারের ঘোষিত দর এবং গহনা তৈরির অতিরিক্ত খরচ—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। বুধবারের বৃদ্ধি স্বর্ণবাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক গতিপথ বলছে সামনে দর আরও বদলাতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ট ন দ ই দ ন কম?

ট ন দ ই দ ন কম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ট ন দ ই দ ন কম matter?

ট ন দ ই দ ন কম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.