Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করুন

Published August 17, 2026 · Updated August 17, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

প্যারাকোয়াট: নীরব হত্যাকারীকে নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে

Banglaprabah.com – ঝ ক প র ণ ক টন - বাংলাদেশে কৃষি খাতে জিডিপির অবদান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, তবুও দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ এখনো খাবার ও জীবিকা নিশ্চিতে কৃষির উপর নির্ভরশীল। করোনা মহামারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তারপর চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত — এই সব সংকটের মাঝেও কৃষকরা খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের চাপ থেকে রক্ষা করার ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ এই খাতের কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার মৌলিক প্রশ্ন নীতিমালায় প্রায় উপেক্ষিত অবস্থায় আছে।

গবেষণার তথ্য: এক দশকের ভয়াবহ প্রবৃদ্ধি

গত মে মাসে আমেরিকান সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন সাময়িকীতে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল —

"Clinical and Laboratory Profile of Paraquat Poisoning: A Toxicological Crisis in Bangladesh"

প্রথম আলো এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানিয়েছে, কৃষিকাজে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক প্যারাকোয়াট বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দেশের ১০টি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ সালে প্যারাকোয়াট পানে মাত্র একজন আত্মহত্যা করেছিলেন; ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে। একই সময়ে বিষক্রিয়ার মোট ১ হাজার ৪২৯টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটেছে। গবেষকেরা এই পরিস্থিতিতে 'বিষবৈজ্ঞানিক সংকট' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

কৃষকের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি

শুধু আত্মহত্যার সংখ্যা নয় — প্যারাকোয়াট সরাসরি ব্যবহারকারী কৃষকদেরও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, পারকিনসনস রোগসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে এই রাসায়নিকের ব্যবহারের যোগসূত্র রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

আমদানির অবাধ প্রসার

বাংলাদেশে একসময় প্যারাকোয়াট শুধু চা-বাগানের আগাছানাশক হিসেবে আমদানি হতো। দ্রুত আগাছা দূর করার সুবিধার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর আমদানি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে ৫৩ টন আমদানি হওয়া প্যারাকোয়াট ২০২৩ সালে ৪ হাজার ৬৯৫ টনে পৌঁছে যায়।

দুঃখজনক সত্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়া অন্তত ১০ বছর আগেই এই রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে প্রায় ৭৭টি দেশে প্যারাকোয়াটের ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবুও বাংলাদেশে এই নীরব ঘাতকের ব্যবহার চলছেই — সঙ্গে চলছে বিষক্রিয়া ও মৃত্যু।

বিস্তৃত ঝুঁকি: কৃষক থেকে ভোক্তা

প্যারাকোয়াটের বাইরেও বাংলাদেশে প্রায় ২৫টি কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশক ও ইঁদুরনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উচ্চ ঝুঁকির। ২০২৫ সালের মার্চে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্টিফিক ইনোভেশনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ কৃষক কীটনাশকের সংস্পর্শে বমিভাব, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র উপসর্গে ভোগেন। ভোক্তাদেরও এই বিষাক্ত পদার্থের অবশ থেকে মুক্তি নেই।

বিকল্প নেই — বিজ্ঞান বলে নিষিদ্ধ করুন

বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার স্পষ্ট বক্তব্য: প্যারাকোয়াটের ব্যবহার বন্ধ করলে কৃষি উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। সুতরাং জনস্বাস্থ্যের জন্য এই নীরব হত্যাকারীকে আমদানি ও ব্যবহার উভয় ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ সব কীটনাশকের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঝ ক প র ণ ক টন?

ঝ ক প র ণ ক টন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঝ ক প র ণ ক টন matter?

ঝ ক প র ণ ক টন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.