Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

Published August 8, 2026 · Updated August 8, 2026 · By Charles Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

Banglaprabah.com – জ ব ল ন স কট ম - জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডাক্তারদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশ ও জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পাখি উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়।

ফ্যাসিবাদ ও অস্থিতিশীলতার চক্র

প্রধানমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ খাত নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানিসংকটে রয়েছে, তা সরকার অস্বীকার করেনি। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যনীতি ও চিকিৎসকদের প্রস্তাব

মার্কিন উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস আলভা এডিসনের একটি উক্তির উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছিলেন ভবিষ্যতের চিকিৎসকেরা কোনো ওষুধ দেবেন না; বরং রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগপ্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন। তাঁর এ নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মিল আছে।

বর্তমান সরকার 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর' নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো 'প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম'। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে, সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।

স্বাস্থ্য খাতে সরকার সারা দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করবেন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আপনাদের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পতম সময়ে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা, চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা, বেসরকারি খাতে কর্মরত লক্ষাধিক চিকিৎসকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতনকাঠামো প্রণয়ন এবং শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা।

শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পর্কিত মতবিনিময়

এ প্রসঙ্গে একটি উপলব্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কি না, বা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন, এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, একট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবারই যাঁর যাঁর মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।' তবে তিনি বলেন, অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্বপালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তারেক রহমান বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাপদ্ধতি আরও আধুনিক করতে সরকার প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রেখেছে। পর্যায়েক্রমে এই বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন, তাহলে শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থার দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতিমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ ব ল ন স কট ম?

জ ব ল ন স কট ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ব ল ন স কট ম matter?

জ ব ল ন স কট ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.