Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জেরায় সময় অপচয় করার অভিযোগ প্রসিকিউশনের

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By James Jackson - banglaprabah.com

Foto : James Jackson - banglaprabah.com

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগ: প্রসিকিউশন বনাম আসামিপক্ষের আইনজীবী

Banglaprabah.com – জ র য় সময় অপচয় কর র - মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধে জেরায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মঙ্গলবার এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মো. মনজুর আলম, যিনি ওই মামলার সাত আসামির আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

২0১৬ সালে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলি করা হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় মোট সাতজন আসামি আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং দুজন গ্রেপ্তার হয়ে আছেন। পলাতক পাঁচ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মনজুর আলম নিযুক্ত হন। একই সঙ্গে তিনি গ্রেপ্তার দুই আসামিরও আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। এই দ্বৈত ভূমিকা প্রসিকিউশনই তাঁকে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল বলে মনজুর আলম দাবি করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও জাতিগত নির্যাতনের মামলা শুনানির জন্য গঠিত। ট্রাইব্যুনাল–১ ও ট্রাইব্যুনাল–২ এই দুটি আদালত আলাদা আলাদা মামলা পরিচালনা করে। প্রতিটি মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) ও আসামিপক্ষের আইনজীবী উভয়েই সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার সুযোগ পান। এই প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠলে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আপত্তি বিবেচনা করে।

মঙ্গলবারের শুনানি: তিন মামলার সমন্বয়

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল–১-এ একই দিনে তিনটি মামলার শুনানি ধার্য ছিল। সকালে প্রথমে ৩ নম্বর মামলার—অর্থাৎ চৌগাছা ছাত্রশিবির নেতাদের পায়ে গুলির মামলার—একজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। কিছুক্ষণ জেরার পর বিরতি নেওয়া হয়। বেলা একটার দিকে আদালত আবার বসলে ১ নম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২ নম্বরে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার কিছুক্ষণ শুনানি সম্পন্ন হয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন যে, ৩ নম্বর মামলার সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর ২ নম্বরে থাকা জিয়াউল আহসানের মামলার আরও শুনানি হবে। এই নির্দেশের আলোকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুর আলম জেরা শুরু করেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ ও আইনজীবীর প্রতিরোধ

জেরার একপর্যায়ে প্রসিকিউশন একাধিকবার আপত্তি তোলেন। অভিযোগ ছিল—আইনজীবী মনজুর আলম সাক্ষীকে অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় এবং একই ধরনের প্রশ্ন বারবার করছেন, ফলে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন:

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনজুরের জেরার ধরন ও ভঙ্গি দেখে প্রসিকিউশনের মনে হয়েছে তিনি 'ডিলেটরি ট্যাকটিস' (দেরি করার কৌশল) নিয়েছেন। আইনজীবী মনজুর বেশ কিছু অপ্রাসঙ্গিক জেরা করেছেন, অপ্রয়োজনীয় জেরা করেছেন, গ্রহণযোগ্য নয় এমন জেরা করেছেন—এটা প্রসিকিউশনের দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রসিকিউশনের আপত্তির মুখে আইনজীবী মনজুর আলম একাধিকবার ব্যাখ্যা দেন। তাঁর যুক্তি ছিল—তিনি সাতজন আসামির আইনজীবী, যার মধ্যে পাঁচজন পলাতক ও দুজন গ্রেপ্তার। প্রসিকিউশনই তাঁকে বলেছে যে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি উপস্থিত আসামির পক্ষেও আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিচারকাজের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সরাসরি বলেন:

আইনজীবী মনজুরের লক্ষ্য হচ্ছে ওই মামলা বিলম্বিত করা।

আসামিপক্ষ ও ট্রাইব্যুনালের অবস্থান

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন:

এটা কী ধরনের মানসিকতা। এখানে তাঁকে জানো হচ্ছে কেন।

এরপর প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তারও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেরায় সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। ট্রাইব্যুনাল এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের কথা শুনেন। বিচারক বলেন:

এগুলো আপনাদের (প্রসিকিউটরদের) বক্তব্য। তাঁদের (আসামিপক্ষের আইনজীবী) দিকটাও দেখতে হবে।

প্রসিকিউশনের আপত্তির মধ্যে কিছু ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেন, কিছু গ্রহণ করেননি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন বুধবার।

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘকাল ধরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার ধরন নিয়ে প্রসিকিউশনের আপত্তি উঠে আসে। বিশেষ করে যখন একজন আইনজীবী একাধিক আসামির—পলাতক ও গ্রেপ্তার উভয়ের—পক্ষে কাজ করেন, তখন জেরার পরিসর প্রশ্নের সংখ্যা ও ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রসিকিউশনের দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন আসামিপক্ষের দৃষ্টিতে আসামির স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হতে পারে। এই দ্বন্দ্ব ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে নিয়মিত দেখা দেয় এবং বিচারকের আপত্তি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ র য় সময় অপচয় কর র?

জ র য় সময় অপচয় কর র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ র য় সময় অপচয় কর র matter?

জ র য় সময় অপচয় কর র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.