Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জুলাইয়ের এক মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

Published October 5, 2026 · Updated October 5, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

রুবেল হত্যা মামলায় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি

Banglaprabah.com – জ ল ইয় র এক ম মল - জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর এলাকায় পোশাকশ্রমিক রুবেল গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক পুলিশের আবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগে থেকে কারাগারে থাকা কাজী হাবিবুল আউয়ালকে রুবেল হত্যা মামলার আসামি হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান গত ২৯ সেপ্টেম্বর কাজী হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন হিসেবে রোববার নির্ধারণ করেছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, কাজী হাবিবুল আউয়াল ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকেও তিনি এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররা মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন।

পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। এতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত এগিয়ে নিতে তাঁকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে মত দেন।

আসামিপক্ষের আপত্তি

শুনানিতে কাজী হাবিবুল আউয়ালের পক্ষে আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাবেক সিইসি কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ঘটনার সময় তিনি সরকারি দায়িত্বে ছিলেন।

“এই ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।”

আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস বলেন, কোথাও গেলে কাজী হাবিবুল আউয়াল পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে থাকতেন। সেই প্রটোকলের মধ্যে থেকে আদাবরের ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে তিনি আদালতে দাবি করেন। এ কারণে তাঁকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিপক্ষের যুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লুটপাট হয়েছে এবং কাজী হাবিবুল আউয়াল তৎকালীন সরকারের ভোটের বৈধতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

“শেখ হাসিনা তাঁকে দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং সেখানে এই আসামিও ছিলেন। জুলাই আন্দোলন কীভাবে দমন করা যায়, সে বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়। তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে এই মামলার আওতায় আনা জরুরি বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

রুবেল নিহত হওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে কয়েক শ ছাত্র-জনতা আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। ওই সময় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গুলি চালান বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গুলিতে আহত হওয়ার পর রুবেলের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার বিচার চেয়ে আইনি পথে যায়।

রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি এখন তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য ও অন্যান্য উপাদানের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

আগের গ্রেপ্তার ও কারাবাস

কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সেই গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। রুবেল হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে এই মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ বা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

আদালতের এই আদেশে মামলার তদন্তের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। রুবেলের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কী ভূমিকা রেখেছেন, ঘটনার নির্দেশনা বা পরিকল্পনার সঙ্গে কারও সংযোগ ছিল কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ ল ইয় র এক ম মল?

জ ল ইয় র এক ম মল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ল ইয় র এক ম মল matter?

জ ল ইয় র এক ম মল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.