জুন মাস কি আর শেষ হবে না
যাদুকাটা সেতু: সময়ের সাথে দৌড়, কিন্তু শেষ হচ্ছে না
নির্মাণে বিলম্ব ও মানের প্রশ্ন
Banglaprabah.com – জ ন ম স ক আর শ - জুন মাস কি আর শেষ হবে না—এটিই এখন যাদুকাটা সেতু নিয়ে উঠে আসা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। গত ১৯ মে রাতের ঘটনাটি সেতু নির্মাণের মান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। কাজ চলার সময়ে নদীতে ভেঙে পড়ে পাঁচটি গার্ডার। এই দুর্ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এতদিন ধরে কাজের গতি ও মান পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ কী করছিলেন?
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতু এখন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা ও জবাবদিহির ঘাটতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। তখন ধারণা করা হয়েছিল প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই সেতুটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
সময় পেরিয়ে যাওয়া লক্ষ্যমাত্রা
কিন্তু সেই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় বছর আগে। চার বছর ধরে এলাকাবাসী শুনে আসছেন, আগামী জুনে কাজ শেষ হবে। এখন আবার নতুন কথা শোনা যাচ্ছে, কাজ শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর। নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন মাস।
এটি শুধু সময়ক্ষেপণের ঘটনা নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে সরকারি অর্থের অপচয়, জনগণের ভোগান্তি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার বিশ্বাসযোগ্যতা। এরই মধ্যে সেতুর ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৫৩টি এবং ১৫টি স্ল্যাবের মধ্যে ১০টির কাজ শেষ হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যুক্তি ও প্রশ্ন
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করোনা, বন্যা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি কিংবা যোগাযোগ সমস্যার মতো নানা কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব বাস্তব সমস্যা হতে পারে। কিন্তু একটি প্রকল্প বছরের পর বছর পিছিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে এগুলো অনন্তকাল ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ এগিয়ে নিতে পারেনি।
গত বছর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পরও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।
সেতুর গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই সেতুর গুরুত্ব কেবল স্থানীয় যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চালু হলে তাহিরপুর, মধ্যনগর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। ঢাকা থেকে মধ্যনগরের মহিষখলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলেও যাদুকাটা নদী যেন সেই যোগাযোগব্যবস্থার একটি বড় বাধা হয়ে আছে। খেয়া পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ফলে শুধু উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নয়, নিরাপদ যোগাযোগের জন্যও সেতুটি প্রয়োজন।
এখন নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে দ্রুত কাজ শেষ করার কথা বলা হচ্ছে। শুধু নতুন সময়সীমা ঘোষণা করলেই হবে না, ২০২৮ সালের জুন যেন আরেকটি 'আগামী জুন' হয়ে না যায়, সে জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, মাসভিত্তিক অগ্রগতি, নির্মাণ মানের কঠোর তদারকি এবং নিয়মিত অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে গার্ডারধসের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ জরুরি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
যাদুকাটা সেতু কতদিন ধরে নির্মাণাধীন? সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ মাসে বা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন মাস।
সেতু নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে? প্রাথমিক ধারণা ছিল প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গার্ডার ধসের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? গত ১৯ মে রাতের ঘটনায় পাঁচটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে দ্রুত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সেতুটি চালু হলে কী কী এলাকার মানুষ উপকৃত হবে? সেতুটি চালু হলে তাহিরপুর, মধ্যনগর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। ঢাকা থেকে মধ্যনগরের মহিষখলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলেও যাদুকাটা নদী যেন সেই যোগাযোগব্যবস্থার একটি বড় বাধা হয়ে আছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জ ন ম স ক আর শ?জ ন ম স ক আর শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জ ন ম স ক আর শ matter?জ ন ম স ক আর শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.