জীবন যাবে, জুলাই দিব না: রংপুরে জামায়াতের আমির
রংপুরের সমাবেশে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান
Banglaprabah.com – জ বন য ব জ ল ই - ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করার কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তাঁদের কর্মসূচি সংসদের ভেতর ও বাইরে অব্যাহত থাকবে।
“জীবন চলে গেলেও জুলাই ছেড়ে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজি, আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়, অপশক্তি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান চলবে। তাঁর ভাষ্য, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁরা মাঠে নেমেছেন এবং সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নেবেন না। আট দফা দাবি ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন হলে এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি শেষে রংপুরে পৌঁছে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা মিছিল মাঠে ঢুকতে থাকে। একপর্যায়ে মাঠে জায়গা না থাকায় অনেকে আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। মাঠে মাগরিবের নামাজের জামাতও অনুষ্ঠিত হয়।
আট দফাকে জনগণের দাবি হিসেবে তুলে ধরা
শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের লংমার্চে ১১-দলীয় ঐক্য ছয় দফা সামনে এনেছিল। রংপুরের কর্মসূচির আগে আরও দুটি দাবি যুক্ত হওয়ায় তা আট দফায় উন্নীত হয়েছে। এসব দাবির কোনোটিই দলীয় স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে তিনি দাবি করেন।
“আমরা যে আটটি দাবি নিয়ে নেমেছি, তার একটিও আমাদের নিজস্ব দলীয় দাবি নয়; এগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি।”
তিনি সরকারের প্রতি সতর্ক করে বলেন, মানুষের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা জরুরি। তাঁর বক্তব্যে গণভোটের প্রসঙ্গও উঠে আসে। রংপুরে নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণ যে রায়ে সমর্থন জানিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার কতটা আন্তরিক ছিল।
সমাবেশে তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়কে নারীসহ সাধারণ মানুষ লংমার্চকে উৎসাহ ও সংহতি জানিয়েছেন। আন্দোলনের সঙ্গে মায়েদের অংশগ্রহণকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কর্মীদের জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষার আহ্বান জানান।
“জাতিকে যে কথা দেওয়া হয়েছে, তা থেকে যেন কেউ সরে না যায়; মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন
রংপুর বিভাগের মানুষের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তিস্তা মহাপরিকল্পনাও সমাবেশের বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। লালমনিরহাটের একজন মন্ত্রীর নির্বাচনী সময়ের বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর পানিসম্পদমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণ সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়।
“যে নামেই হোক, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখন আর তেমন নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না কেন?”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি রংপুরের কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া নতুন দাবিগুলোর একটি। এই দাবি উত্তরাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক বাস্তবতা ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সমাবেশে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিও আট দফায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বক্তব্য
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির কারণে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তিনি তোলেন।
সরকারকে একই ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে অতীতের সরকারের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং জনস্বার্থের দাবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়।
নেতাদের উপস্থিতি ও আয়োজন
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্য নেতারা।
আয়োজকদের ভাষ্য, রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা ডেকোরেটরকর্মী অমূল্য চন্দ্র রায় জানান, মাঠের ভেতরে ৮০টি এবং মাঠের বাইরের বিভিন্ন সড়কে ১২০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছিল।
গত ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে আনা হয়েছিল। রংপুরের সমাবেশে সেই তালিকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়ে আট দফা রূপ নেয়। সমাবেশের বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে ১১-দলীয় ঐক্য আগামী দিনেও রাজনৈতিক চাপ ও জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখতে চায়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জ বন য ব জ ল ই?জ বন য ব জ ল ই is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জ বন য ব জ ল ই matter?জ বন য ব জ ল ই matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.