জার্মানিকে জিততে না দিয়ে দুইয়ে গ্রিস, শীর্ষে ডাচরা
থেসালোনিকিতে জার্মানির গোলখরা, গ্রিসের অবস্থান আরও মজবুত
Banglaprabah.com – জ র ম ন ক জ তত - ফেরার ম্যাচে প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল জার্মানির। অগসবুর্গে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেসালোনিকির লড়াইটি ছিল তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের সংখ্যা এবং মাঠে প্রাধান্য—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত জয়ের সমান হয়ে ওঠেনি। গ্রিসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেই মাঠ ছেড়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের বড় প্রাপ্তি গ্রিসের। লিগ এ-এর গ্রুপ টু-তে জার্মানির ওপরে অবস্থান ধরে রেখেছে তারা। চার ম্যাচ শেষে জার্মানির সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট, তাদের অবস্থান তৃতীয়। অন্যদিকে এখনো অপরাজিত গ্রিস সমানসংখ্যক ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।
গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। তলানিতে থাকা সার্বিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ডাচদের পয়েন্টও ৮। ফলে গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের সমান পয়েন্ট থাকলেও গোলশূন্য ড্র জার্মানির জন্য চাপ বাড়িয়েছে।
দখল ছিল, গোল ছিল না
পরিসংখ্যানের দিক থেকে জার্মানির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। গ্রিসের রক্ষণভাগ ভাঙার চেষ্টা করে তারা ২১টি শটও নেয়। তবু জালে বল পাঠানোর উপায় খুঁজে পায়নি সফরকারীরা।
এই ব্যর্থতার কারণ শুধু সুযোগ কম পাওয়া নয়। জার্মানি আক্রমণের ছন্দ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও ফিনিশিংয়ে প্রয়োজনীয় ধার দেখা যায়নি। গ্রিস নিজেদের রক্ষণভাগ গোছানো রেখে জার্মানির চাপ সামলেছে এবং ম্যাচকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে একটি পয়েন্টই তাদের জন্য মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
শুরুর দিকেই অবশ্য ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত। গ্রিসের গিওর্গিস মাসোউরাস একটি হেডে জার্মানির গোলকে পরীক্ষায় ফেলেন। গোলকিপার ইয়োনেস উরবিগ সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে না দিলে স্বাগতিকদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। ওই মুহূর্ত সামাল দেওয়ার পর জার্মানি ধীরে ধীরে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
প্রথমার্ধ যত এগিয়েছে, জার্মানির চাপও তত বেড়েছে। মাঝমাঠে বল ঘুরিয়ে আক্রমণের পথ খুঁজেছে তারা, দুই প্রান্ত ব্যবহার করে ক্রস তুলেছে এবং গ্রিসের বক্সে উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে রক্ষণাত্মকভাবে দৃঢ় থাকা প্রতিপক্ষের সামনে তাদের পরিকল্পনা পূর্ণতা পায়নি।
ভিএআরে বাতিল বারকার্দতের গোল
৩২ মিনিটে জার্মানি ভেবেছিল, অপেক্ষার অবসান হয়েছে। একটি ক্রস থেকে জোনাথন বারকার্দত বল জালে পাঠান। কিন্তু উদ্যাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার আগে জার্মান মিডফিল্ডার টম বিশচফের হাতে বল লেগেছিল। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি। গোলটি বহাল থাকলে জার্মানির সামনে খেলার ধরন বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো, আর গ্রিসকে আরও সামনে উঠে খেলতে হতো। পরিবর্তে স্কোরলাইন শূন্যেই থেকে যায়, যা গ্রিসকে নিজেদের পরিকল্পনায় স্থির থাকার সুযোগ দেয়।
বাতিল গোলের পরও জার্মানি আক্রমণের চেষ্টা কমায়নি। কিন্তু গ্রিসের গোলমুখে তৈরি হওয়া চাপকে তারা কার্যকর ফিনিশিংয়ে রূপ দিতে পারেনি। ২১টি শট নেওয়ার পরও গোল না পাওয়া জার্মানির আক্রমণভাগের হতাশাকেই সামনে এনেছে। অগসবুর্গে হার এবং থেসালোনিকিতে ড্র—দুই ম্যাচ মিলিয়ে গ্রিসের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি তারা।
শেষ আটের আশা এখনো বেঁচে আছে
পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে থাকলেও জার্মানির জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আগামী মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে সার্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পেলে শেষ আটে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে ক্লপের শিষ্যরা। অর্থাৎ বাকি দুই ম্যাচ তাদের জন্য সরাসরি হিসাবের সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোচ হিসেবে ক্লপের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রথম চার ম্যাচে জার্মানি জিতেছে মাত্র একবার। গ্রুপে তাদের অবস্থান এখন তৃতীয় হওয়ায় পরের ম্যাচগুলোতে শুধু ভালো খেলা যথেষ্ট হবে না; পয়েন্টও তুলতে হবে। গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখিয়েছে, মাঠে আধিপত্য বজায় রাখলেও শেষ ফল নিজেদের পক্ষে আনতে না পারলে সেই নিয়ন্ত্রণের মূল্য কমে যায়।
জার্মানির অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ম্যাচ শেষে দলের ইতিবাচক দিকটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সুযোগ তৈরি ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার জায়গায় দল খারাপ করেনি।
“আমরা অনেক চাপ তৈরি করেছি। কিন্তু গোল পাইনি। সব মিলিয়ে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে সন্তুষ্ট হওয়া যায়। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। তবে এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি।”
ভির্টৎসের কথায় বাস্তবতাও আছে। জার্মানির পরবর্তী পথ বন্ধ হয়নি, কিন্তু ভুলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামার পর নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে লড়াইটি গ্রুপের চূড়ান্ত সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রিসের জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ফল। জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা অপরাজিত অবস্থান ধরে রেখেছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ৮ পয়েন্টে থাকার কারণে তাদের সামনেও শেষ আটের দৌড়ে থাকার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
থেসালোনিকির রাতটি তাই দুই দলের জন্য দুই রকম বার্তা রেখে গেল। গ্রিস পেয়েছে মূল্যবান একটি পয়েন্ট এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে থামানোর আত্মবিশ্বাস। জার্মানি পেয়েছে সতর্কসংকেত—বল দখল ও শটের সংখ্যার চেয়ে গোলের হিসাবই শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার ছবি নির্ধারণ করে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জ র ম ন ক জ তত?জ র ম ন ক জ তত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জ র ম ন ক জ তত matter?জ র ম ন ক জ তত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.