Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জসীম সাহেবের হাতে ফাইট শিখেছি…

Published October 9, 2026 · Updated October 9, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

জসীম সাহেবের হাতে গড়া অ্যাকশনের নতুন ধারা

Banglaprabah.com – জস ম স হ ব র হ - ঢাকাই চলচ্চিত্রে জসীম সাহেবের অবদান শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরে তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের প্রিয় নায়ক। অ্যাকশন, আবেগ ও সংগ্রামী চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয়।

চিত্রনায়ক জসীম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম আবদুল খায়ের জসীম উদ্দিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নম্বর সেক্টরে অংশ নেন। যুদ্ধফেরত এই তরুণ পরবর্তী সময়ে সিনেমার পর্দায় সাহস, বীরত্ব ও প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠেন।

১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হলেও ১৯৭৩ সালের ‘রংবাজ’ ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন। ছবিটির অ্যাকশন দৃশ্যে কাজ করে তাঁর নিজস্ব জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ। এই কাজই তাঁকে প্রযোজক ও পরিচালকদের নজরে নিয়ে আসে।

খলনায়ক থেকে দর্শকের নায়ক

দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে গব্বর সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করে জসীম ব্যাপক পরিচিতি পান। হিন্দি ‘শোলে’র রিমেক এই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে ভয়ের আবহ তৈরি করেছিল। কথিত আছে, দর্শকেরা সিনেমা হলে ঢোকার সময় বলতেন, তাঁরা জসীমের মার খেতে যাচ্ছেন। ভারতীয় অভিনেতা আমজাদ খানও তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন।

আজকের অনেক ফাইট ডিরেক্টর ও স্টান্টম্যান গর্বের সঙ্গে বলেন, তাঁরা জসীম সাহেবের হাতে ফাইট শিখেছেন।

‘আসামি হাজির’ ছবিতে ওয়াসিমের সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের দৃশ্য দেখতে দর্শকের আগ্রহ ছিল প্রবল। এরপর সুভাষ দত্তের ‘সবুজ সাথী’ ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটির সাফল্যের পর তিনি আর খলনায়ক চরিত্রে ফেরেননি; বরং শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন পর্দায়।

জনপ্রিয় জুটি ও স্মরণীয় চলচ্চিত্র

শাবানার সঙ্গে জসীমের জুটি ছিল দর্শকপ্রিয়। প্রেমিক ও ভাই—দুই ধরনের চরিত্রেই তাঁদের অভিনয় সাড়া ফেলেছিল। ‘ভাইবোন’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পরিবার’ ও ‘বুকের ধন’-এ তিনি পারিবারিক আবহের নায়ক, আর ‘লালু মাস্তান’, ‘বারুদ’ ও ‘নবাবজাদা’য় শক্তিশালী অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিতি পান। রোজিনার সঙ্গেও তাঁর জুটি ছিল সফল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ-নাগিনী’, ‘বদলা’, ‘বারুদ’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘কালিয়া’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘গরিবের ওস্তাদ’, ‘রাজা বাবু’, ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘মেয়েরাও মানুষ’ ও ‘বুকের ধন’। এসব ছবির অনেকগুলোতেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দরিদ্র মানুষের সংগ্রাম, প্রেম ও পারিবারিক মূল্যবোধ উঠে এসেছে।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতা মারা যান। তবু ইউটিউব, ফেসবুক রিলস ও নানা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অভিনয়, সংলাপ, নাচ এবং অ্যাকশন দৃশ্য নতুন প্রজন্মের কাছেও আলোচিত। জসীম সাহেবের স্মৃতি তাই ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে আছে।

প্রশ্নোত্তর

জসীম সাহেবের আসল নাম কী?

চিত্রনায়ক জসীমের আসল নাম ছিল আবদুল খায়ের জসীম উদ্দিন।

জসীম কবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন?

তিনি ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন।

জসীম কেন অ্যাকশন ধারার গুরুত্বপূর্ণ নাম?

তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রে ফাইটিং গ্রুপ গড়ে অ্যাকশন দৃশ্যের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং বহু ফাইট ডিরেক্টর ও স্টান্টম্যানকে প্রশিক্ষণ দেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জস ম স হ ব র হ?

জস ম স হ ব র হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জস ম স হ ব র হ matter?

জস ম স হ ব র হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.