Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ছয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকার পর যেমন চেহারা দাঁড়িয়েছে সেন্ট মার্টিনের

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক নিষেধাজ্ঞা ও বর্ষাকালীন প্রভাব

Banglaprabah.com – ছয় ম স পর যটক য ত - পর্যটকের চেনা কোলাহল আর জাহাজঘাটের ভিড় এখন আর নেই। সৈকতের এক প্রান্ত থেকে হাঁটা শুরু করলে কেবল বিস্তৃত নীল জলরাশি আর সাদা ফেনা মাথাতে থাকা ঢেউয়ের দৃশ্য চোখে পড়ে। সারি সারি নারকেলগাছের নুয়ে পড়া পাতার ফাঁক দিয়ে এই দৃশ্য দেখে মনে হয় একখণ্ড স্বর্গ সাগরের বুকে রচিত হয়েছে। পর্যটকের যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষাকালীন মৌসুমি বাতুর প্রভাব, যার কারণে দ্বীপবাসীর বাইরে যাতায়াতও অনেকটা সীমিত। এমন বিচ্ছিন্ন পরিবেশে সেন্ট মার্টিনের প্রকৃতি নতুন প্রাণ পেয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে নতুন উজ্জীবন

দ্বীপের সেই পরিবর্তন আর দ্বীপবাসীর হালচাল দেখতেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সম্প্রতি দ্বীপটিতে আসা। এখানে এসেই চোখে পড়ল, গত আড়াই বছরে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আর পর্যটক সীমিতকরণের ফলে দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। কেঁয়া বনে ঝুলে আছে ফল-ফুল, সৈকতে ভিড় করেছে গাঙচিল, বালুচরে লাল কাঁকড়া আর শামুক-ঝিনুকের বিচরণ। সৈকতে কাছিমের ডিম ফোটানোর হ্যাচারিতেও দেখা গেল ব্যস্ততা।

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বেড়েছে কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, পাখি ও কাছিমের বিচরণ; কমেছে দূষণ। তবে পর্যটননির্ভর অন্তত ৫ হাজার মানুষ বেকার হয়ে সংকটে পড়েছেন। মাছের সংকটও তীব্র। এর সঙ্গে সমুদ্রভাঙন, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট দ্বীপবাসীর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার কষ্ট

কিন্তু দ্বীপের অন্য চিত্রও রয়েছে। এখানকার পর্যটননির্ভর বাসিন্দাদের বেশির ভাগের জীবনেই নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে। পর্যটন মৌসুমে বাড়তি আয় যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার নেওয়া সরকারের নানা পদক্ষেপে তারা খুশি হলেও বিকল্প আয়ের সংস্থান না হওয়ায় হতাশ।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা ১০ হাজার ৭০০ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি জেলে, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও খেটে খাওয়া মানুষ। দ্বীপের দশ হাজার পরিবারের অর্ধেকেরই বসবাস ঝুপড়ি ঘরে। ৮ ও ৯ আগস্ট দুদিন দ্বীপের ১২টি গ্রামের ১২০ জন মানুষের সঙ্গে কথা হল। তাঁদের সবাই পরিবেশ সংরক্ষণের নীতি সমর্থন করলেও নিজেদের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ।

জীবনের হিসাব মিলছে না। ৮ আগস্ট বিকেলে দ্বীপের পূর্ব সৈকতে মাছ ধরার বড়শি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় জেলে আবদুল শুক্কুর। তাঁর বাড়ি দ্বীপের গলাচিপা এলাকার। ৩২ বছর ধরে তিনি মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছেন। সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধের মৌসুমে এবং পর্যটকের নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাঁর হাতে তেমন কাজ থাকে না। এক সময়ে দ্বীপে পাঁচ মাস পর্যটক থাকতেন। হোটেল-মোটেলে সারা বছরই ট্রলারে পর্যটক আসতেন। ফলে দোকানদারি করে, ভ্যান চালিয়ে সে সময়ে বেশ ভারি আয় হতো। এখন সেসব বন্ধ হওয়ায় সংসার চালাতে পারছেন না বলে জানালেন। তাঁর মতে দশা এখানকার সব জেলেদেরই। তা ছাড়া সাগর এখন প্রায় সময় উত্তাল থাকছে। ফলে গভীর সাগরে নৌকা নিয়েও যেতে পারছেন না। বড় মাছ ধরা পড়লেও বাজারে কেনার মতো লোক নেই। আবহাওয়া খারাপ থাকলে মাছ টেকনাফও পাঠানো যায় না। গত তিন মাস সাগরে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান শুক্কুর (৫৪)। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি অনেক ক্ষোভের কথা বললেন। সেসব সংক্ষেপে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, 'সরকার বলেছে দ্বীপ বাঁচাতে হবে। আমরা এই দ্বীপের সন্তান, আমরা চাই না দ্বীপটা ধ্বংস হোক। কিন্তু পেটে তো ভাত নেই। সাগরে জাল ফেললেও মাছ ওঠে না। আট সদস্যের সংসার আর চলছে না। কোনো হিসাবই এখন মিলছে না।'

সরকারি সিদ্ধান্ত ও পর্যটক সীমিতকরণ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের যাতায়াত সীমিত করে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাস অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে দৈনিক দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে যেতে পারবেন। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাস পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে রাত যাপন করতে পারবেন, কিন্তু নভেম্বর মাসে রাত যাপনের সুযোগ রাখা হয়নি। দিনে গিয়ে দিনে কক্সবাজার ফিরে আসতে হয়। এ হিসাবে গত দুই মৌসুমে (৬ মাসে) ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেন। তিন বছর আগে পাঁচ মাস দীর্ঘ মৌসুমে ভ্রমণ করতেন ১০-১৫ লাখ মানুষ।

শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সংকট

পরিবেশসংশ্লিষ্ট সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটক সীমিতকরণের প্রভাবে দ্বীপের শ্রেণিপেশার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। বছরের অবশিষ্ট ৯ মাস দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল রিসোর্ট-কটেজ বন্ধ থাকায় ৩ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। চার শতাধিক ইজিবাইক, তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও আড়াই শতাধিক বাইসাইকেল ভাড়া দিয়ে অন্তত ১ হাজার পরিবারের সংসার চলত, পর্যটক না থাকায় সেসব পরিবারও অভাব অনটনের শিকার।

কিন্তু এর বিপরীতে দ্বীপের লোকজনের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাও নেই। দ্বীপের ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ (৫০) বলেন, এক সময়ে তাঁর দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকত। কয়েক মাস ধরে তাঁর দোকান বন্ধ। তাতে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, দ্বীপে পানীয় জলের সংকট

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ছয় ম স পর যটক য ত?

ছয় ম স পর যটক য ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ছয় ম স পর যটক য ত matter?

ছয় ম স পর যটক য ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.