Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

‘ছেলে তো মরলই, শেষবারের মতো লাশটা দেখতে চাই’

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Charles Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে হামলায় প্রাণ গেল মতলবের যুবকের

Banglaprabah.com – ছ ল ত মরলই শ ষব র - চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সিপাইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউন এলাকায় নিজের দোকানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টিনশেডের ওই দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। হামলার সময় দোকানে থাকা তাঁর এক বন্ধু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জামালের মৃত্যুর খবর সিপাইকান্দি গ্রামে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক নেমে আসে। বিদেশে উপার্জন করা জামালই ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে রেখে তিনি চলে গেলেন; বাড়িতে এখন তাঁর মরদেহ ফেরার অপেক্ষা।

আগুন দেওয়ার পর ওপর থেকে গুলি

জামাল কুইন্সটাউন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি দোকান পরিচালনা করতেন। বুধবার সন্ধ্যার পর তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে দোকানেই ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর টিনের ছাউনি কেটে ওপরের দিক থেকে জামাল ও তাঁর বন্ধুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

গুলিতে জামালের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশে থাকা বন্ধুটিও আহত হন। আশপাশের লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার কারণে দোকানটিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে হামলার ধরনটি পরিবারটির জন্য আরও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দূর দেশে থাকা প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরের সঙ্গে এখন মরদেহ দেশে ফেরানোর অনিশ্চয়তাও তাদের সামনে এসেছে।

পাঁচ বছর আগে ঋণ করে বিদেশযাত্রা

জামাল হোসেন ছিলেন সিপাইকান্দি গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ধার করা টাকা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে কুইন্সটাউনে দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

সেই দোকানের আয় দিয়েই দেশে থাকা পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় চলত। স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিবারের যে প্রত্যাশা ছিল, আকস্মিক এই মৃত্যুতে তা ভেঙে গেছে। গ্রামের বাড়িতে তাঁর বাবা-মা ও স্বজনেরা বারবার জামালের কথা স্মরণ করছেন।

বিদেশে কাজ বা ব্যবসা করা অনেক পরিবারের জন্য শুধু একজন সদস্যের ব্যক্তিগত পথচলা নয়; তা পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। জামালের ক্ষেত্রেও তাঁর উপার্জন ছিল পরিবারের চলার প্রধান ভিত্তি। ফলে শোকের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

বাবার আকুতি

ছেলের মরদেহ একবার দেখার আকুতি জানিয়েছেন জামালের বাবা ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি চান, ছেলেকে দেশে এনে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হোক।

ছেলে মারা যাওয়ায় আমাগো সব শেষ। ছেলে হারানোর কষ্টের কথা কারে শোনামু। কে দূর করব আমার বুকের কষ্টটা। ছেলে তো মরলই, শেষবারের মতো লাশটা দেখতে চাই। নিজ হাতে দাফন–কাফন করতে চাই। তাইলে কিছুটা হলেও কষ্ট দূর অইব।

প্রবাসে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। পরিবারের কাছে এই সময়টি বিশেষভাবে কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ তারা দূরে থেকে মৃত্যুর ঘটনা, মরদেহ সংরক্ষণ ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির খবরের অপেক্ষায় থাকেন। জামালের পরিবারও এখন তাঁর মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা দ্রুত হওয়ার প্রত্যাশা করছে।

সহযোগিতার আশ্বাস পুলিশের

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান জামাল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে আনা কিংবা দেশে পৌঁছানোর পর দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্বজনদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা জামালকে শেষবারের মতো দেখা এবং নিজ গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা। সিপাইকান্দির বাড়িতে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সেই অপেক্ষাতেই দিন কাটাচ্ছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ছ ল ত মরলই শ ষব র?

ছ ল ত মরলই শ ষব র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ছ ল ত মরলই শ ষব র matter?

ছ ল ত মরলই শ ষব র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.