চোখ টিপেই কাজ সারতেন ব্রহ্মানন্দ
চ খ ট প ই ক জ – মারগাঁও হতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পানজি শহরের তালেইগাঁও গ্রামের সেন্ট মাইকেল চার্চের সামনে রাস্তা ধরে একটি খোলা মাঠ থাকে। ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ার সময় ছাত্রদের দেখে ছিলেন ব্রহ্মানন্দ সগুন কামত শঙ্খওয়ালকর, পর্তুগিজ ও গোয়ান খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ফুটবলের কৌশল ছিল আলাদা। ছিমছাম সামনে শান্ত আবহে ঘেরা আবাসিক ভবনে বসে তাঁর সারা জীবন স্মৃতির বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছিলেন কিংবদন্তি।
স্ত্রী এবং একজন চিত্রশিল্পী কন্যার সাথে তাঁর নিভৃত পরিবার ছিল। মারগাঁওয়ে অন্য কন্যা থাকেন। তাঁর বড় ভাইগুলি ছিলেন সাধারণ ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। যাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট ভাই। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রহ্মানন্দ সগুন কামত শঙ্খওয়ালকর।
১৯৫৪ সালের ৬ মার্চ তালেইগাঁও গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। তখন গোয়া পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল। শৈশবে সেন্ট মাইকেল চার্চের পাশে খেলতে শুনেছিলেন তাঁর অহংকার নেই, প্রশান্তি আছে।
অসাধারণ মাঠে অনুশীলন
তাঁর আদর্শ ছিলেন রাশিয়ার গোলকিপার লেভ ইয়াসিন। দিল্লি থেকে কেনা একটি বইয়ে তাঁর গল্প পড়ে ব্রহ্মানন্দ বেশি উৎসাহিত হন। গল্পটি বলতে বলতে তাঁর চোখ চকচক করে উঠেছিল, ‘১৫ বছর বয়সে ডায়নামো মস্কোর কোচ সময়মতো অনুশীলন করতে পারেন নি, কিন্তু ইয়াসিন কোচের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। এই বিষয়টি তাঁর জীবনে আনন্দ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস জন্ম দেয়।’
পিটার থঙ্গরাজের কাছে তাঁকে সন্তোষ ট্রফিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর দৃঢ় স্বাভাবিক স্পর্শ দেখিয়েছিল গোয়ার জার্সিতে খেলার জন্য। গোয়া দলের জীবনে তাঁকে দীর্ঘ দুবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
রেকর্ড ছাড়া কি চলতে পারে বুকে?
১৯৮৪ সালে চেন্নাই সন্তোষ ট্রফিতে পাঞ্জাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ব্রহ্মানন্দ ক্লিন শিট রেকর্ড গড়েছিলেন প্রায় ৫৭৬ মিনিট। রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি মৃদু হেসে বলেছিলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি ম্যাচ খেলেছিলাম এবং কোনো গোল খাইনি। সেই হিসাবে সেটি ৭২০ মিনিট। রেকর্ডটি আজও অক্ষত রয়েছে।’
সত্তর-আশির দশকে কলকাতায় খেললে তারকা হওয়া যায় বলে সকলেই মনে ছিল। কিন্তু গোয়ার সালগাওকরে এক মাত্রা খেলে পুরো ভারতের মন জয় করেছিলেন তিনি।
আতিথেয়তার স্মৃতি কেন রয়েছে?
১৯৮২ এ
