‘ঘুষ নিয়ে’ করেছিলেন নামজারি, ‘আরও না দেওয়ায়’ ৪৩ দিন পর বাতিল
ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিলের অভিযোগ: ৪৩ দিন পর সাকিলের লিখিত অভিযোগ
Banglaprabah.com – ঘ ষ ন য় কর ছ ল - রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক সেবাগ্রহীতা দাবি করছেন, তিনি চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় তার জমির নামজারি বাতিল করা হয়েছে। গত ২ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মো. সাকিল আহমেদ। বয়স ২৫ বছর। তিনি তানোর উপজেলা সদরের গোল্লাপাড়া মহল্লার বাবুল হোসেনের ছেলে।
তানোর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ (সজীব) এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। জমির নামজারির আবেদন করতে গিয়ে সাকিল তানভীরের সাথে দেখা করেন। মৌখিকভাবে নামজারি ও আদালতের নথিপত্রের বিবরণ শোনার পর তানভীর বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
টাকা দিতে অস্বীকার করলে ফাইলে নানা ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন আটকে রাখা হয়। পরে উপায় না পেয়ে সাকিল তানভীরকে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর তানভীর নামজারির প্রস্তাব দিলে ৭ এপ্রিল উপজেলা ভূমি কার্যালয় থেকে তিন একর আট শতকের একটু বেশি জমির নামজারি মঞ্জুর করা হয়। সরকারি নিয়মে ডিসিআর ফি পরিশোধ করে প্রস্তাবিত খতিয়ান অনলাইন থেকে বের করে নেওয়া হয়।
নামজারি বাতিলের পর নোটিশ না পাওয়ায় অভিযোগ
নামজারি মঞ্জুরের পর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে হোল্ডিং খুলে অনলাইন দাখিলা সংগ্রহ করতে গেলে সাকিলের কাছে আবার ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ। ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হলে 'ইন্টারনেট নেই' বলে হোল্ডিং খুলে দিতে টালবাহানা শুরু করেন। পরে প্রায় ৫ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে অনলাইনে হোল্ডিংয়ে দাখিলা জমা করে দেন। এই সময় 'এমন কাজ করব সারা জীবন পস্তাইবা' বলে হুমকি দেন তিনি।
এই ঘটনার কয়েক দিন পর ওয়ারিশরা হোল্ডিং চেক করতে গিয়ে দেখেন, কোনো জমি নেই। পরে অনলাইনে প্রস্তাবিত খতিয়ান চেক করে দেখেন ৭ এপ্রিল মঞ্জুর করা নামজারি ২০ মে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাপারে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁর নামজারি বাতিল করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফোন কল রেকর্ডে তানভীরের প্রতিশ্রুতি
ভুক্তভোগী সাকিল বিষয়টি নিয়ে নাঈমা খানের কার্যালয়ে গিয়ে জানালে তিনি 'ভুলক্রমে আপনার নামজারি বাতিল হয়ে গেছে' বলে জানান এবং আবার নতুন করে নামজারির আবেদন করতে বলেন। এই ঘটনার পরদিন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ ভুক্তভোগী সাকিলকে ফোন দেন। সেই কল রেকর্ডে তানভীরকে বলতে শোনা যায়, 'আমি তোমার খারিজ নষ্ট করেছি, আমিই ঠিক করে দিব। রাজশাহীতে এসো আমি নিজেই সব ঠিক করে দেব।'
অভিযোগের বিষয়ে তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কোনো ঘুষ নেননি। তাকে ফাঁসানোর জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, খারিজ বাতিল হতেই পারে। আবার নামজারি করে দিতে রাজশাহীতে দেখা করতে বলার কল রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, 'মিস কেসের মাধ্যমে আমি সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি।'
জানতে চাইলে তানোরের ইউএনও নাঈমা খান প্রথম আলোকে বলেন, যাদের নামজারি বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করেছেন। এখন যেহেতু আপিল চলমান, এখানে তাঁর কিছুই করার নেই। তবে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি শুনানির তারিখ দেওয়া হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঘ ষ ন য় কর ছ ল?ঘ ষ ন য় কর ছ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঘ ষ ন য় কর ছ ল matter?ঘ ষ ন য় কর ছ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.