Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঘরের খাটের বক্সে পাওয়া গেল ৯০ হাজার ইয়াবা, ৩৫ লাখ টাকা

Published September 8, 2026 · Updated September 8, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

কক্সবাজারের নির্মাণাধীন ভবনে ড্রাগসম্প্রচারের বড় ধরনের অভিযান: খাটের ভেতর লুকানো ৯০ হাজার ট্যাবলেট ও ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধার

Banglaprabah.com – ঘর র খ ট র বক স - কক্সবাজার শহরের উত্তর হাজীপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) হাতে গেল ৯০ হাজার ট্যাবলেট এবং এই ট্যাবলেটগুলোর বিক্রি থেকে আসা ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা। অভিযানটি সম্পন্ন হয়েছে আজ সোমবার সকালে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একই ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের বড় পরিসরের মাদক-অভিযান কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক বিরল। স্থানীয় বাণিজ্য-সংযোগের কারণে এই উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাদকবাজারের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। টেকনাফের সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথের সংযোগ এই এলাকাকে মাদকসম্প্রচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তাই ডিএনসির এই অভিযান কেবল একটি আইনি ঘটনা নয়, বরং এলাকার মাদক-অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

অভিযানের স্থান ও পদ্ধতি

অভিযান চালানো হয় কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজার পাওঁার হাউস সংলগ্ন উত্তর হাজীপাড়া কবরস্থান গেটের সামনে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবনের ভেতরে আশিক মোমেনের থাকার ঘরের একটি কক্ষে কাঠের তৈরি খাটের বক্সের ভেতরে বিশেষ কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ট্যাবলেটগুলো লুকিয়ে রাখা ছিল। সেই বক্স থেকেই ৯০ হাজার ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া অভিযানে তিনটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে। এই ফোনগুলো সম্ভবত মাদক-ব্যবসার যোগাযোগ ও লেনদেনের নথি রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ও হেফাজতের বিবরণ

গ্রেপ্তার দুজন হলেন টেকনাফের পশ্চিম পানখালী এলাকার আশিক মোমেন (২৩) এবং তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা (২৩)। হেফাজতে নেওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরের বাড়িও টেকনাফে। তিনজনই উত্তর হাজীপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

টেকনাফ থেকে কক্সবাজার শহরে ভাড়া বাসা নিয়ে মাদক-সংরক্ষণের কাজ চালানো এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি নির্দেশ করে যে মাদক-সম্প্রচারকারীরা স্থায়ী ঠিকানা থেকে সরে গিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক আশ্রয় নিয়ে কাজ করছেন, যা তদন্তের জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।

ডিএনসির পক্ষ থেকে নিশ্চিতকরণ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল বিকেলে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,

"গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আশিক মোমেনের থাকার ঘরের একটি কক্ষের কাঠের তৈরি খাটের বক্সের ভেতরে বিশেষ কাগজে ইঁাবাগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ৯০ হাজার ইঁাবা বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এ সমস্ত ইঁাবা বিক্রির ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, অভিযানে তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আইনি পদক্ষেপ ও পরবর্তী তদন্ত

গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে বিকেলেই কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বিস্তারিত তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান।

৩৫ লাখ টাকার মতো বড় অঙ্কের নগদ টাকার উদ্ধার এই ঘটনাকে একটি ছোটখাটো স্থানীয় মামলা থেকে বড় পরিসরের মাদক-ব্যবসার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে। এই পরিমাণ ট্যাবলেটের বাজারমূল্য ও বিক্রি-পথের তদন্তে ডিএনসি সম্ভবত আরও বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে জড়িত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপপরিচালক সোমেন মন্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

এলাকার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে মাদকসম্প্রচারের সমস্যা বহু বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের বিষয়। উপকূলীয় ভূগোল, আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংযোগ এবং পর্যটন-বাণিজ্যের প্রবাহ এই এলাকাকে মাদক-বাজারের এক প্রাকৃতিক গলি হিসেবে গড়ে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাদক-নির্ভরতার হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়।

ডিএনসির এই অভিযান সেই প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে একক অভিযান মাদক-সম্প্রচারের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভাঙতে পারে না। স্থায়ীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশ, ডিএনসি, এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ও নিয়মিত তৎপরতা অপরিহার্য। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলা ও তদন্তের ফলাফল আগামী দিনে এই এলাকার মাদক-অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে স্থানীয় জনগণ।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঘর র খ ট র বক স?

ঘর র খ ট র বক স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঘর র খ ট র বক স matter?

ঘর র খ ট র বক স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.