গ্যাস–সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানা
গ্যাস সংকটে নিত্যপণ্য কারখানা বন্ধের ধারা
Banglaprabah.com – গ য স স কট এক এক - নারায়ণগঞ্জের মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ১২টি কারখানা একের পর এক বন্ধ হচ্ছে। চিনি, গম, সয়াবিনবীজ ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেল প্রক্রিয়াজাতকরণের এই কারখানাগুলোতে গত বুধবার থেকে উৎপাদন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরেই উৎপাদন কমছিল, তবে সংকট তীব্র হলে কারখানাগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।
এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, গ্যাসনির্ভর সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তাই এসব কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা প্রয়োজন।
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও এর প্রভাব
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। সাধারণত জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালনাধীন টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হয়। তবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত এটি প্রায় অর্ধেক সক্ষমতার চলছিল।
জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, বুধবার গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২০৩ কোটি ঘনফুটে। দৈনিক প্রায় ৩৮৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট।
শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অবস্থা
এমজিআইয়ের হিসাবে, তাদের কারখানাগুলোতে দিনে প্রায় ৯ হাজার টন এবং বছরে প্রায় ৩৩ লাখ টন নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে প্রধান সাত পণ্য ও কাঁচামালের মোট আমদানির ২২ শতাংশ এই শিল্পগোষ্ঠীর।
এমজিআইয়ের ১২টি নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আরেক বড় শিল্পগোষ্ঠী টি কে গ্রুপের ২৮টি প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানার ২০টি বন্ধ রয়েছে। গত অর্থবছরে আলোচ্য সাত পণ্য ও কাঁচামাল আমদানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এই গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করেছে। সয়াবিন ও পামতেল, গম ও ডাল প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করে তারা।
নাবিল গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রেখেছে গ্রুপটি।
টি কে গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হাওদার প্রথম আলোকে বলেন, তাদের ২৮টি কারখানার মধ্যে চারটি কারখানার সীমিতভাবে উৎপাদন চলছে। অন্য কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে।
বাজারে সরবরাহে প্রভাব
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চিনি, গম, ভোজ্যতেল ও ডালসহ সাতটি প্রধান নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টন। অর্থাৎ দিনে প্রায় ৪২ হাজার টনের বেশি পণ্য ও কাঁচামাল দেশে এসেছে। এর বড় একটি অংশ অপরিশোধিত বা অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আমদানি হয় এবং দেশে কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করার পর বাজারজাত করা হয়।
সে কারণে গ্যাস-সংকট দীর্ঘ হলে কাঁচামাল হাতে থাকলেও কারখানা থেকে প্রস্তুত পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এমজিআইয়ের অংশ নিত্যপণ্যের বাজারে বড়। ফলে এতগুলো কারখানার উৎপাদন একসঙ্গে বন্ধ হওয়ায় বাজারে সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্যাস-সংকট শুধু এমজিআইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বড় নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী আরও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিছুসংখ্যক কারখানার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে বা সক্ষমতার অনেক নিচে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।
গ্যাসের এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলগুলোতে। শুধু নিত্যপণ্য নয়, গ্যাস ও বয়লারনির্ভর ইস্পাত, কাচ, বস্ত্রসহ বিভিন্ন শিল্পেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট তীব্র হওয়ার তথ্যও পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ য স স কট এক এক?গ য স স কট এক এক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ য স স কট এক এক matter?গ য স স কট এক এক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.