Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গুলশানে ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তৎপরতা

Published August 20, 2026 · Updated August 20, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

গুলশানের ১১৪ কাঠা জমিতে বেসরকারি আবাসন প্রস্তাব: প্রশ্নের ঝড়

Banglaprabah.com – গ লশ ন ওয় স র ১১৪ - ঢাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী আবাসিক এলাকা গুলশানে এখনো কিছু খালি প্যাচ দেখা যায়। গুলশান-২-এর ৫৫ নম্বর সড়কের পাশে এমন একটি জমি অবস্থিত, যার আয়তন ১১৪ কাঠা। ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন বোর্ডের (ডিডব্লিউএসএসবি) নামে এই জমিটি চিহ্নিত। বর্তমানে এখানে ঘন ঘন বৃক্ষ, ইট-বসানো হাঁটার পথ এবং উঁচু সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এক পাশে ওয়াসার চারজন কর্মকর্তার বাসস্থান, অন্যদিকে ডাকবাংলো—যা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জন্য সংরক্ষিত। গুলশান লেকের তীরেই এই জমিটি।

যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব ও শেয়ার বণ্টন

এশিউর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন নামের একটি বেসরকারি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই জমিতে যৌথ উদ্যোগে ভবন গড়ার প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. শেখ সাদী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ আসনে তার মনোনয়ন আবেদন ছিল, তবে মনোনয়ন পাননি তিনি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ শেষে ৫১ শতাংশ মালিকানা ডিডব্লিউএসএসবি-র এবং ৪৯ শতাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে। ওয়াসা এই প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করেছে। জমির মালিকানা, বর্তমান ব্যবহার, প্রস্তাবের সুবিধা-অসুবিধা এবং আর্থিক দিক যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এক দফা সভায় প্রস্তাবটির পক্ষে মতামত দেওয়ার চেষ্টা হলেও বিরোধিতার কারণে তা সফল হয়নি।

১৯ তলা 'আইকন ক্যাটাগরি' ভবনের পরিকল্পনা

সূত্র জানায়, এশিউর ডেভেলপমেন্টের পরিকল্পনায় জমিটিতে ১৯ তলা 'আইকন ক্যাটাগরি'র আবাসিক ভবন গড়ার কথা রয়েছে। মোট দেড়শর মতো ফ্ল্যাট তৈরি হবে, যার প্রতিটির আয়তন ৪ হাজার ৭০০ বর্গফুটের বেশি। পাঁচ বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটি ভবন নির্মাণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলছে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গুলশানে বর্তমানে ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। গত জানুয়ারিতে রাজউক গুলশানে কয়েকটি ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, যেখানে দাম ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি বর্গফুট। তবে 'আইকন ক্যাটাগরি'র ফ্ল্যাটের দাম বর্গফুটপ্রতি ২৫ হাজার টাকার আশপাশে দাঁড়াবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। ফলে ৪ হাজার ৭০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দেড়শর ফ্ল্যাটের মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।

জমির মূল্য ও ইতিহাস

দুটি আবাসন কোম্পানির সূত্র অনুযায়ী, গুলশানে ডিডব্লিউএসএসবি-র এই জমির প্রতি কাঠার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১১৪ কাঠার মোট মূল্য দাঁড়াবে ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

জমিটির ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) গুলশান মডেল টাউন প্রকল্পের সূচনা করে। ১৯৮৭ সালে ডিআইটি রূপান্তরিত হয়ে রাজউকে। রাজউক গুলশানে বিভিন্ন সরকারি সেবা-সংস্থাকে জমি বরাদ্দ করেছে। ডিডব্লিউএসএসবি-কে দেওয়া হয় ওই ১১৪ কাঠা। সংস্থাটিকে আরও ৩২ কাঠা দেওয়ার কথা ছিল, যা পরে মেট্রোরেল পরিচালক ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) অধিগ্রহণ করে।

২০০৯ সালে রাজউকের সঙ্গে ডিডব্লিউএসএসবি-র মধ্যে জমি ইজারার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আবাসনের উদ্দেশ্যে ২৮ হাজার ৮৪৪ টাকা সালে এই জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার মেয়াদ গণনা শুরু হবে ১৯৬৪ সাল থেকে।

প্রশ্নবিদ্ধ তৎপরতা

গুলশানের মতো প্রাচীন ও প্রভাবশালী এলাকায় এত বড় আকারের জমি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কেন এই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিল, কেন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি ওয়াসার কাছে পৌঁছাল, ওয়াসা কেন তা কমিটির সামনে রাখল—এই সব প্রশ্নের উত্তর চাইছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ওয়াসা কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, জমিটির ওপর একটি গোষ্ঠীর চোখ পড়েছে এবং তারাই এই তৎপরতার পেছনে কাজ করছে।

সরকারি সম্পদ কারও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির মাধ্যম হতে পারে না। এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে কার স্বার্থ কাজ করেছে, সেটি স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

— অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান, নগর ও অঞ্চল-পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নথিপত্রের ধারা

ওয়াসার অভ্যন্তরীণ নথিপত্র থেকে জানা যায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাব পেশ করে ৬ জুন। এরপর ১৬ জুলাই ডিডব্লিউএসএসবি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে জমির মালিকানা ও বর্তমান অবস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব, সুবিধা-অসুবিধা এবং ওয়াসা ও সরকারের স্বার্থসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম কমিটির সঙ্গে যুক্ত।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে এশিউর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান শেখ সাদীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। খুদে বার্তা পাঠানো হয়, তবে কোনো উত্তর আসেনি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গ লশ ন ওয় স র ১১৪?

গ লশ ন ওয় স র ১১৪ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ লশ ন ওয় স র ১১৪ matter?

গ লশ ন ওয় স র ১১৪ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.