Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ক্যানসারে এক পরিবারে চার মৃত্যু, আক্রান্ত আরও দুজন, অনিশ্চয়তায় দুই শিশু

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By James Jackson - banglaprabah.com

Foto : James Jackson - banglaprabah.com

ছয় বছরে চারজন ক্যানসারে মৃত্যু, দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

Banglaprabah.com – ক য নস র এক পর ব - রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আতানারায়ণপুর গ্রামে একটি পরিবারের জীবন একেবারে উল্টে গেছে। ছয় বছরের মধ্যে চারজন ক্যানসারে মারা গেছেন। বাকি দুজন এখনও এই রোগের সাথে লড়াই করছেন। এসারুল ইসলামের পরিবারে পাঁচ ভাই ছিলেন। মেজ ভাই সাদরুল ইসলাম ২০১৯ সালে লিভার ক্যানসারে মারা যান। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪৬ বছর। এরপর ২০২২ সালে এসারুলের বাবা আবদুল হামিদ মারা যান। ৮০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও লিভার ক্যানসার ধরা পড়েছিল। ২০২৪ সালে সেজ ভাই মামুন অর রশিদ লিভার ক্যানসারে মারা যান। তাঁর বয়সও ছিল প্রায় ৪০ বছর। এক বছর দুই মাস আগে মারা যান এসারুল ইসলাম। তাঁর বয়সও ৪০ বছর হয়েছিল।

এসারুলের মৃত্যুর এক মাস পরেই তাঁর স্ত্রী মোসা. ঝরনার ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি চতুর্থ পর্যায়ে আক্রান্ত। এছাড়া ২০২২ সালের দিকে ইসরাতের বড় চাচা শফিকুল ইসলামের কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি স্থানীয় একটি হাইস্কুলের শিক্ষক। তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে দৈনিক গড়ে ৪৫৮ জন নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। বছরে যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন। আর ক্যানসারে দৈনিক গড়ে মারা যাচ্ছে ৩১৯ জন। এক বছরের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন। মৃত্যুও দেখা যায় পুরুষের বেশি। বছরে লাখে ৫৩ জন নতুন ক্যানসার রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি করে ক্যানসার সেন্টার থাকা দরকার। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। মানসম্পন্ন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা দরকার; কিন্তু আছে মাত্র ২২টি। এর সিংহভাগই রাজধানী ঢাকায়।

পরিবারের বর্তমান অবস্থা

ক্যানসার দীর্ঘস্থায়ী রোগ। এ রোগের চিকিৎসা চলে দীর্ঘদিন। ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষের পক্ষে চিকিৎসা শেষ করে আরোগ্য লাভ করা কঠিন। রোগের প্রকোপের তুলনায় দেশে চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৮৫টি দেশের ক্যানসার পরিস্থিতির অনুমিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সেখানে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান আছে।

ক্যানসারে বিপর্যস্ত পরিবারটি এসারুল ইসলাম উপজেলার মোহনপুর মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পর প্রথম জীবনে ঢাকার বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন। ২০১১ সালে ঝরনার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ঝরনার বাবার বাড়ি গাজীপুরে। তাঁরা প্রথমে ঢাকার ও পরে মোহনপুর উপজেলা সদরে বাসা নিয়ে থাকতেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাঁদের জীবনটা একেবারে উল্টে গেছে।

ইসরাতের মা ঝরনাকে এখন নিয়মিত কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে স্ট্রোক করে তাঁর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে গেছে। ঢাকার ব্রেইনে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এরপর থেকে কিছু ঠিকমতো মনে রাখতে পারেন না। কিছু বলতে গেলেই আটকে যান। তাঁর শাশুড়ি বেঁচে আছেন; কিন্তু মেয়ের বাড়িতে থাকেন। ফলে তাঁদের দেখাশোনা করার মতো বাড়িতে আর কেউ নেই।

শিশুদের ভবিষ্যৎ

পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ইসরাত জাহানের পাঁচ বছর বয়সী ছোট এক ভাই রয়েছে। তার নাম জুনায়েদ ইসলাম। ইসরাত এখনও বুঝতে পারছে না তার মায়ের কখন কী হবে। অবশ্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশু দুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এরই মধ্যে রাজশাহী শহরের 'এসওএস' শিশু পল্লিতে কথা বলে রেখেছেন।

ইসরাতের অন্য চাচারা পৃথক বাড়ি করেছেন। মামুন অর রশিদ এই বাড়িতে থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীর অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে। তাঁর দুটি ছোট বাচ্চা ছিল। একটি মায়ের সঙ্গে, আরেকটি নানির সঙ্গে থাকে। মামুনের পাকা ঘরটি এখন খালি পড়ে রয়েছে।

এসারুলের চিকিৎসার জন্য সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় আট লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সেই ঋণের এখনও পাঁচ লাখ টাকা তাঁর পরিবারের কাছে রয়েছে। ইসরাতের মা ঝরনা বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন; কিন্তু সেই টাকা ব্যাংক তাঁদের দিচ্ছে না। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রেখেছে। এখন বাড়ির ভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। কীভাবে চিকিৎসা হবে, কীভাবে তার দুই সন্তান বেঁচে থাকবে, তার কোনো ব্যবস্থা নেই। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মুঠোফোন বিক্রি করে তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন।

মুখে কোনো হাসি নেই ইসরাতের। ইসরাত জাহানের দাদার পরিবারটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও বড় একটি পরিবার। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ইসরাত জাহানদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে বিশাল একটি মাটির দোতলা, অন্য পাশগুলোতে ইটের ঘর দিয়ে ঘেরা। মাঝখানে বড় উঠান। মাটির দোতলার দরজা আর খোলা হয় না। ফুটবল মাঠের মতো উঠানটাও শেওলা জমেছে। দুটি শিশু ছাড়া অত বড় উঠানে পা ফেলার কেউ নেই। ছোট্ট জুনায়েদ চটপটে। মা ঝরনা বললেন, ও রান্নার জন্য তরকারি কাটে। রান্না করে। সব পারে; আর ইসরাত চুপচাপ থাকে।

মা–বাবার সঙ্গে চারবার ভারতে গেছে ছোট্ট ইসরাত জাহান। সেখানে ইসরাতের সময় কাটে না। বাবা রংপেনসিল কিনে দেন। বাবা চিকিৎসা নেন আর ইসরাত বসে বসে ছবি আঁকে। ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের প্রকৃতি, স্মৃতিসৌধ। তার সেই ছবিগুলো এখনও আছে; কিন্তু বাবা নেই।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ক য নস র এক পর ব?

ক য নস র এক পর ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক য নস র এক পর ব matter?

ক য নস র এক পর ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.