Uncategorized

কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়

062238DHAKADH162420260916SAVAR2-16.09.26.JPG

বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কে দুর্ভোগ, নির্মাণকাজ ও গর্তে ধীরগতি

Banglaprabah.com – ক থ ও খ ন খন দ – সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন নিয়মিত যাত্রী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও চালকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। কোথাও ইট উঠে তৈরি হয়েছে গর্ত, কোথাও কাদায় পিচ্ছিল পথ, আবার বিভিন্ন স্থানে চলমান নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের কাজ সড়ককে সরু করে দিয়েছে। ফলে অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও দীর্ঘ সময় লাগছে যানবাহনের।

ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলার পাশাপাশি ড্রেন ও নতুন সড়ক নির্মাণের কারণে পথের কয়েকটি অংশে চাপ বেড়েছে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সাভার–আশুলিয়া এলাকার লাখো শ্রমজীবী মানুষ এবং অসংখ্য কারখানার পণ্যবাহী যান এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া ও দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগেও পথটির গুরুত্ব রয়েছে।

বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ধরনের বাধা

১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, বাইপাইল মোড়ে এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। সড়কের পাশে কাদা জমে থাকায় এবং চলাচলের জায়গা কমে যাওয়ায় সেখানে ঘন ঘন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত অংশে ইটের সলিং রয়েছে। বহু জায়গায় ইট সরে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়ক নির্মাণ হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে কার্পেটিং চলছে। নরসিংহপুরে নির্মাণসামগ্রী ও কাজের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে।

কিছু স্থানে এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের পাশে উঁচু করে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়েই গাড়ি চলতে হচ্ছে। নিশ্চিন্তপুরে ড্রেন নির্মাণের কাজের প্রভাব পড়েছে চলাচলের জায়গায়। আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ হয়েছে। তবে বোরাক পলিটেকনিক থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে উঁচু-নিচু অংশ ও গর্ত রয়ে গেছে; কয়েকটি জায়গায় এখনো কার্পেটিং চলছে।

যানবাহনের ক্ষতি ও পণ্যের ঝুঁকি

খানাখন্দ পেরোতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনকে ধীরগতিতে দুলতে দুলতে চলতে হচ্ছে। চালকদের ভাষ্য, এই ধাক্কাধাক্কিতে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে।

“রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয়।”

আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলামের এই অভিজ্ঞতা সড়কটির দৈনন্দিন বাস্তবতারই প্রতিফলন। গর্তে পড়ে ব্রেক, চাকা এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক চালককে বাড়তি সতর্কতায় গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

গাজীপুর থেকে কাভার্ড ভ্যানে সিরামিকপণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যান মো. মামুন মিয়া। তাঁর গাড়িতে থাকা ভঙ্গুর পণ্য ঝাঁকুনিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়।

“এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।”

পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য সড়কের অবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়মতো কারখানা বা বাজারে পণ্য না পৌঁছালে পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক চাপও বাড়ে। শিল্পকারখানাগুলোকেও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাইপাইলসংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম জানান, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি দিয়ে পণ্য পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নবীনগর ও সাভারের পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যাতে খরচ বাড়ছে।

সবজি থেকে শিল্পপণ্য, বাড়ছে পরিবহন খরচ

বাইপাইল আড়ত থেকে কাঁচাবাজার ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ভাঙা পথে গাড়ির ধাক্কায় মালামাল পড়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিবহন ভাড়াও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান তাঁরা।

“যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।”

জামগড়া চৌরাস্তার কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশের বক্তব্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চাপের চিত্র উঠে আসে। রাস্তার সমস্যা শুধু যাত্রার সময় বাড়াচ্ছে না, নিত্যপণ্য পরিবহনের খরচও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রোগী নিয়ে বিকল্প পথে ছুটছেন পরিবারগুলো

বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজারের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার বসবাস করেন। সড়কঘেঁষা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে এই পথ ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু ধুলাবালি, গর্ত ও যানজটের কারণে অসুস্থ মানুষ নিয়ে দ্রুত যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কেউ কেউ ঘুরে সাভারের হাসপাতালগুলোতে যাচ্ছেন।

আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, শিশুদের অসুস্থতার সময় আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে যেতেন। এখন সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি সাভারের দিকে চিকিৎসার জন্য যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সার্ভিস সেতুতে কিছু সুবিধা, অপেক্ষা আরও কাজ শেষের

২ সেপ্টেম্বর ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সেতুর কাছাকাছি থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য পরিবহনে কিছুটা সুবিধা হয়েছে।

তবে দূরের এলাকা থেকে কারখানা বা বাজারে যেতে হলে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত সড়কাংশ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক এবং পণ্যবাহী যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজটি শেষ হলে এ পথে চলাচলের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তত দিন পর্যন্ত সড়কের চলমান কাজ, গর্ত এবং সরু পথের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা কঠিনই থাকবে।

Frequently Asked Questions

What is ক থ ও খ ন খন দ?

ক থ ও খ ন খন দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক থ ও খ ন খন দ matter?

ক থ ও খ ন খন দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *