Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

কেইনের পেনাল্টি মিস, ইংল্যান্ডকে ভুলের ‘শাস্তি’ দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

Published September 27, 2026 · Updated September 27, 2026 · By Jessica Brown - banglaprabah.com

Foto : Jessica Brown - banglaprabah.com

ওয়েম্বলিতে নাটকীয় জয়ে নেশনস লিগ শুরু করল স্পেন

Banglaprabah.com – ক ইন র প ন ল ট - ওয়েম্বলির ম্যাচটি ভুল, সুযোগ নষ্ট এবং প্রত্যাবর্তনের এক রোমাঞ্চকর গল্প হয়ে থাকল। ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিস ইংল্যান্ডের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে এসেছে, আর শেষ দিকে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল স্পেনকে এনে দিয়েছে স্মরণীয় জয়।

২০২৪ ইউরোর ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে ফেরার পর এটি ছিল টমাস টুখেলের দলের প্রথম পরীক্ষা। ম্যাচের এক পর্যায়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও ছিল স্বাগতিকেরা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং রক্ষণে কয়েকটি ব্যয়বহুল ভুলের কারণে শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা।

ইয়ামালের দ্রুত গোল, ইংল্যান্ডের জবাব

খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার মার্ক গেহি পেছনে থাকা ইয়ামালকে খেয়াল করতে পারেননি। বল নিয়ন্ত্রণে ঘুরতেই তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা, এরপর গোল করে ওয়েম্বলিতে নিজের প্রথম উপস্থিতিকে বিশেষ করে তোলেন।

গেহির জন্য ঘটনাটি ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতা। শুরুর এমন ভুলের পর ইংল্যান্ডকে দ্রুত ছন্দে ফেরার পথ খুঁজতে হয়। অন্যদিকে স্পেন গোলের পর আরও কিছু ভালো আক্রমণ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ফেরান তোরেস প্রথমার্ধে দুটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু দুবারই গোলের দেখা পাননি।

প্রথম সুযোগে তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড, যিনি নিয়মিত গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের বদলে খেলছিলেন। আরেকটি প্রচেষ্টায় তোরেস লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। স্পেনের এই অপচয়ের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাল্টাতে শুরু করে।

চার মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন

৩৬ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে ইংল্যান্ড। দুটি গোলের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড। পাল্টা আক্রমণে জুড বেলিংহামের পাস পেয়ে অ্যান্থনি গর্ডন সমতা ফেরান। তাঁর গোল ইংলিশ দলকে নতুন উদ্যম দেয় এবং গ্যালারিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর নিকো ও’রাইলির চিপ থেকে ডাইভিং হেডে বল জালে পাঠান কেইন। বলটি স্পেনের বাঁ দিকের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার উরু ছুঁয়ে গোললাইনের ওপারে যায়। প্রথম মুহূর্তে আত্মঘাতী গোলের মতো মনে হলেও গোলটির কৃতিত্ব দেওয়া হয় ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইনকেই।

বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইংল্যান্ডের সামনে ছিল ইউরো ফাইনালের হতাশা মুছে দেওয়ার সুযোগ। স্পেনের বিপক্ষে একই ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য স্বাগতিক সমর্থকদের জন্য স্বস্তির ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আবার ভিন্ন মোড় নেয়।

কেইনের মিসে বদলে যায় ম্যাচের গতি

৫৪ মিনিটে বক্সের মধ্যে বেলিংহামের পায়ে চাপ দেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি। ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর ইংল্যান্ড পেনাল্টি পায়। ৫৫ মিনিটে স্পটকিক নিতে আসেন কেইন, কিন্তু তাঁর শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, শট নেওয়ার সময় কেইনের বাঁ পা সামান্য পিছলে গিয়েছিল। ফলে তাঁর শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বল লক্ষ্যে রাখা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের এই মুহূর্তটি ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ সফল হলে ব্যবধান ৩-১ হতে পারত।

কেইনের পেনাল্টি ব্যর্থ হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই স্পেন সমতায় ফেরে। ইংল্যান্ডের বাঁ দিকের খেলোয়াড় নিকো ও’রাইলির ভুল পাস থেকে আক্রমণের সুযোগ পায় স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন। ইংল্যান্ডের এগিয়ে থাকার স্বস্তি তখন মুহূর্তেই উধাও।

দুই বদলির সমন্বয়ে স্পেনের জয়সূচক আঘাত

৭৪ মিনিটে আসে ম্যাচ নির্ধারণী গোল। স্পেনের দুই বদলি খেলোয়াড়ের সমন্বয় ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ভেঙে দেয়। বায়েনার পাস পেয়ে ওইয়ারসাবাল ট্র্যাফোর্ডের ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক এগিয়ে এলেও বলের গতিপথ থামানোর সুযোগ পাননি।

দুই বছর আগে ইউরোতে স্পেনের শিরোপাজয়ী গোল করেছিলেন ওইয়ারসাবাল। এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর গোলই পার্থক্য গড়ে দিল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্পেনের প্রথম ম্যাচে এমনভাবে পিছিয়ে পড়ে জয় তুলে নেওয়া দলটির মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয়।

এই ফলের মাধ্যমে স্পেনের অপরাজিত ধারাও ৩৯ ম্যাচে পৌঁছাল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য ম্যাচটি নিশ্চয়ই স্বস্তির, কারণ তাঁর দল শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বিরতির আগে পিছিয়ে পড়েছিল। পরে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে জয় ছিনিয়ে নেওয়া নেশনস লিগের জন্য ইতিবাচক সূচনা।

ইংল্যান্ডের হতাশার কেন্দ্রে থাকবে তিনটি ঘটনা—গেহির শুরুর ভুল, ও’রাইলির ভুল পাস এবং কেইনের পেনাল্টি মিস। টমাস টুখেলের দল লড়াই করে ম্যাচে ফিরেছিল, আক্রমণেও কার্যকর ছিল কিছু সময়। তবে স্পেনের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ছোট ভুলও যে বড় মূল্য দাবি করে, ওয়েম্বলির রাতটি সেটিই আবার মনে করিয়ে দিল।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ক ইন র প ন ল ট?

ক ইন র প ন ল ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক ইন র প ন ল ট matter?

ক ইন র প ন ল ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.