Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

কারাগারে চিকিৎসা নিয়ে এই অবহেলা কেন

Published October 2, 2026 · Updated October 2, 2026 · By Michael Martin - banglaprabah.com

Foto : Michael Martin - banglaprabah.com

কারাগারে চিকিৎসার ঘাটতি বন্দীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে

Banglaprabah.com – ক র গ র চ ক ৎস - কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বন্দীদের মৃত্যুর সংখ্যা একটি গভীর মানবিক ও প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ বছর ৯ মাসে ১ হাজার ২৩৫ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ও বহু বন্দীর জীবনাবসান হচ্ছে। এই পরিসংখ্যান শুধু চিকিৎসাব্যবস্থার দুর্বলতার কথা বলে না; এটি বন্দীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নও সামনে আনে।

কারাবাস মানে স্বাধীনতা হারানো, স্বাস্থ্যসেবা বা মানবিক মর্যাদা হারানো নয়। সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন—সব বন্দীর জীবন ও চিকিৎসার অধিকার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে কারাগারের পরিবেশ, খাদ্য, চিকিৎসকসংকট এবং জরুরি পরিবহনের অপ্রতুলতা মিলিয়ে অসুস্থ একজন বন্দীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বিলম্বই জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

ধারণক্ষমতার বহু বেশি মানুষ, বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি

দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দী রাখার অনুমোদিত সক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন। অথচ সেখানে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ বন্দী রয়েছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সক্ষমতার প্রায় আড়াই গুণ বন্দীকে কারাগারে রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় কেবল বসবাসের অসুবিধা তৈরি করে না; সংক্রামক রোগ ছড়ানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়া এবং দুর্বল ব্যক্তিদের আলাদা যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা সৃষ্টি করে।

গাদাগাদি পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাটালে বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল এবং আগে থেকেই জটিল রোগে আক্রান্ত বন্দীরা বিশেষ ঝুঁকিতে থাকেন। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি কিংবা লিভারের অসুখে নিয়মিত পরীক্ষা, ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। এসব রোগের চিকিৎসা কেবল উপসর্গ দেখে সীমিত রাখা যায় না। সময়মতো পরীক্ষা না হলে বা শারীরিক অবনতি শনাক্ত না হলে পরিস্থিতি হঠাৎ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্য ও চিকিৎসা—দুই ক্ষেত্রেই সংকট

সাধারণ বন্দীর খাবারের জন্য প্রতিদিন মাথাপিছু বরাদ্দ ১০৮ টাকা। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই অর্থে একজন মানুষের প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্ন এড়ানো যায় না। শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, শাকসবজি ও নিরাপদ খাবার দরকার। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অনেক সময় চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা খাদ্যব্যবস্থারও প্রয়োজন হয়। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা থাকলে সেই প্রয়োজন মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

অপর্যাপ্ত খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একসঙ্গে থাকলে অসুস্থতা বাড়ার আশঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তারপরও যদি চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত থাকে, তাহলে সাধারণ রোগও জটিল আকার নিতে পারে। কারাগারের চিকিৎসাসেবাকে তাই কেবল অসুস্থ হওয়ার পরের ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; প্রতিরোধ, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত রেফারেলের সমন্বিত কাঠামো হিসেবে দেখতে হবে।

অনুমোদিত পদ আছে, চিকিৎসক নেই

কারা ব্যবস্থায় চিকিৎসকের অনুমোদিত স্থায়ী পদ ১৪৮টি হলেও স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২ জন। বাকি সেবা অনেকটাই নির্ভর করছে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রেষণে আসা চিকিৎসকদের ওপর। এই ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা, পর্যাপ্ত সময় এবং রোগীর দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ার কথা। অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকেরা দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় দিতে পারেন, যা বিপুলসংখ্যক বন্দীর প্রয়োজনের তুলনায় স্পষ্টতই অপ্রতুল।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিত্রটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ১৩ হাজার বন্দীর জন্য ৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। তাঁদের প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী পর্যন্ত দেখতে হয়। এত বিপুল রোগী সামলাতে গিয়ে বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া, শারীরিক পরীক্ষা করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত দেওয়া বা চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে জ্বর, পেটের সমস্যা বা চর্মরোগের মতো সাধারণ উপসর্গের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও জটিল রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একজন বন্দীর বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া বা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গকে দ্রুত গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ কারাগারের ভেতরে সামান্য দেরিও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

হাসপাতালে যাওয়ার পথ যেন মৃত্যুর কারণ না হয়

গুরুতর অসুস্থ বন্দীকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স নেই। ফলে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই প্রধান উদ্বেগ। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৩০০ বন্দীর মৃত্যু প্রমাণ করে যে জরুরি পরিবহনব্যবস্থা শুধু একটি আনুষঙ্গিক বিষয় নয়; এটি চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কারা কর্তৃপক্ষও এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জেল সুপারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেবল নির্দেশনা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, জরুরি ওষুধ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা, দ্রুত হাসপাতাল-সমন্বয় এবং দায়িত্ব নির্ধারণ ছাড়া কার্যকর পরিবর্তন আসবে না। জরুরি রোগী শনাক্ত হওয়ার পর কোন সময়ে, কীভাবে এবং কোথায় তাঁকে পাঠানো হবে—এ বিষয়ে প্রতিটি কারাগারে সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

মানবিক আচরণ রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা

২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বন্দীদের সঙ্গে আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ড নিয়ে যে রেজোল্যুশন গৃহীত হয়, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, অমানবিক পরিবেশে রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়া কিংবা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করাকে শাস্তির অংশ বানানো যাবে না। বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তরও বন্দীদের মানবিক আচরণ, বাসস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তাকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে।

এই নীতির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক যত দীর্ঘ হবে, ততই বন্দীদের মৃত্যু নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন তীব্র হবে। একজন মানুষ কারাগারে আছেন বলেই তাঁর অসুস্থতা উপেক্ষিত থাকবে—এ ধারণা কোনো সভ্য রাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারে না। বিশেষত যাঁরা বিচারাধীন, তাঁদের একটি বড় অংশ এখনো অপরাধে দণ্ডিত নন। তবু স্বাস্থ্যঝুঁকির বোঝা তাঁদেরও বহন করতে হচ্ছে।

কারাগারের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা তাই দয়া বা বিশেষ সুবিধার বিষয় নয়; এটি আইন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন। শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ, বন্দীসংখ্যা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ, খাদ্যবরাদ্দের বাস্তবসম্মত পর্যালোচনা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি পরিবহনব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। বন্দীর জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্র বা কারা কর্তৃপক্ষের নেই।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ক র গ র চ ক ৎস?

ক র গ র চ ক ৎস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক র গ র চ ক ৎস matter?

ক র গ র চ ক ৎস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.