কর মওকুফের আবেদন
কর মওক ফ র আব দন: এক নিম্নমধ্যবিত্তের আক্ষেপ
Banglaprabah.com – কর মওক ফ র আব দন - রফিক সাহেব অফিসে পৌঁছেই ঠিক করলেন, আজ বসের কাছে কর মওক ফ র আব দন জানাবেন। অনেক সাহস সঞ্চয় করে কাঁচুমাচু মুখে বসের কক্ষে ঢুকে বললেন, “স্যার, একটা কথা ছিল!”
বস অবাক হয়ে বললেন, “একটাই কথা?” রফিক সাহেব তড়িঘড়ি যোগ করলেন, “না মানে, কয়েকটাই। আমি একজন নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ। মাসের শুরুতে বেতন পাই, প্রথম কয়েক দিনেই তা শেষ হয়ে যায়। বউ-বাচ্চা নিয়ে চলতে খুব কষ্ট।”
কথার ফাঁকে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, “কেউ বোঝে না বুকের বেতা!” সঙ্গে সঙ্গে জিবে কামড় দিলেন তিনি। বসের চোখের ভাষা দেখে রফিক সাহেব আরও অস্বস্তিতে পড়লেন। তারপর পাউরুটির দাম, স্বল্প আয় এবং মাসিক খরচের কথা তুলে ধরে মূল প্রসঙ্গে এলেন।
৬৬৬ টাকার হিসাব
রফিক সাহেব জানালেন, প্রতি মাসে তাঁর বেতন থেকে ৬৬৬ টাকা আয়কর কেটে নেওয়া হয়। সেই টাকায় সাড়ে ৬৬টি শিঙাড়া, ৬৭টি সমুচা, চার দিনের লাঞ্চ, সাড়ে ষোলো দিনের নাশতা, সাত দিনের মেট্রোভাড়া, আটটি বার্গার, তিনটি চিকেন বিরিয়ানি, ৬৭ কাপ রং চা, প্রায় ৪৪টি ডিম কিংবা প্রায় ১৩৩টি কলা কেনা সম্ভব।
বস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “হ্যাঁ, বলুন।” রফিক সাহেব তখন বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলেন, তাঁর আয়করটা মাফ করা যায় কি না। বস সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন, বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।
“গরিবের পেটে ঘুষি নাহয় একটু না-ই মারলেন।”
ছোট আবেদন থেকে বড় কর মওকুফ
সেই রাতেই রফিক সাহেবের বস আমজাদ হোসেন তাঁর এমডিকে ই-মেইল করলেন। সেখানে নিজের মাসিক ১৬ হাজার ৬৬৬ টাকা কর কাটার কথা লিখে কর ছাড়ের আবেদন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্থে মাসে কয়েকটি বুফে ডিনার এবং স্ত্রীর জন্য আড়ংয়ের কিছু জামাকাপড় কেনা যেত।
ই-মেইল পড়ে এমডির মাথায় নতুন ভাবনা এল। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ চেয়ে চিঠি পাঠালেন। যুক্তিটিও প্রায় একই—তিনি গরিব মানুষ, এত টাকা কর কিস্তিতেও দেওয়া সম্ভব নয়, তাই দয়ার দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।
অবশেষে এমডি কর মওকুফ পেয়ে গেলেন। কিন্তু রফিক সাহেবের বেতন থেকে পরের মাসেও কেটে নেওয়া হলো ৬৬৬ টাকা, আর আমজাদ সাহেবের করও থাকল ১৬ হাজার ৬৬৬ টাকা।
মওকুফেরও যখন মওকুফ হয়
সরকার পরিবর্তনের পর পুরোনো হিসাবপত্র ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, এমডিকে মওকুফ করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতেই হবে। এতে এমডি ক্ষুব্ধ হয়ে আপিল, উচ্চ আদালত, বড় উকিল এবং দীর্ঘ মামলা চালানোর কথা বললেন। প্রয়োজনে ৬৬৭ কোটি টাকা খরচ করেও তিনি এ অন্যায়ের শেষ দেখবেন বলে ঘোষণা দিলেন।
অন্যদিকে মাসশেষে পে-স্লিপ হাতে রফিক সাহেব ও আমজাদ সাহেবের মন খারাপ হয়। তাঁরা ভাবেন, এমডির মতো তাঁদেরও যদি আইনের পথে যাওয়ার সামর্থ্য থাকত! রফিক সাহেব শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে লিখলেন, এমন কোনো উকিল আছেন কি, যিনি নিজের ফি মওকুফ করে এমনভাবে কর মওক ফ র আব দন মঞ্জুর করাতে পারবেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার সেই মওকুফও বাতিল করতে না পারে?
প্রশ্নোত্তর
রফিক সাহেবের মূল সমস্যা কী?
তাঁর অভিযোগ, সীমিত আয়ের মধ্যে প্রতি মাসে ৬৬৬ টাকা আয়কর কেটে নেওয়ায় সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এমডির আবেদনের সঙ্গে রফিক সাহেবের আবেদনের পার্থক্য কোথায়?
দুজনের আবেদনেই আর্থিক কষ্টের যুক্তি আছে, তবে রফিক সাহেবের করের অঙ্ক ৬৬৬ টাকা আর এমডির প্রতিষ্ঠানের করের অঙ্ক ৬৬৬ কোটি টাকা।
গল্পটির ব্যঙ্গ কোথায়?
ক্ষমতাবান ব্যক্তি বড় অঙ্কের কর মওকুফ পেলেও সাধারণ কর্মীদের সামান্য কর কাটার বাস্তবতা বদলায় না—এই বৈপরীত্যই গল্পটির মূল ব্যঙ্গ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is কর মওক ফ র আব দন?কর মওক ফ র আব দন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does কর মওক ফ র আব দন matter?কর মওক ফ র আব দন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.