মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে একটি চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান
Banglaprabah.com – কর ণ নয় ম ধ ও য – জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া জীবনের নানা সংকট পেরিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। এখন তাঁর প্রত্যাশা একটি স্থায়ী চাকরি, যা তাঁকে ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে স্বাবলম্বী জীবনের কিছুটা নিশ্চয়তা দিতে পারে। তিনি করুণার বদলে নিজের শিক্ষা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজের সুযোগ চান।
২৫ বছর বয়সী মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে। সাত ভাইবোনের পরিবারে তিনিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছোটবেলায় মাকে হারান তিনি; কৈশোরে হারান বাবাকেও। পরিবারের অভাব, শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং অভিভাবকহীন জীবনের চাপ—সবকিছুর মধ্যেও তাঁর পড়াশোনার পথ থেমে যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন মিজান। সেখানে তিনি ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ২০২৫ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করা তাঁর জন্য শুধু একটি একাডেমিক অর্জন নয়; প্রতিকূলতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার ফলও বটে।
মিজানের বাবা খোরশেদ মিয়া রিকশা চালিয়ে পরিবার চালাতেন। মিজান যখন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন তাঁর বাবা মারা যান। সেই সময় পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সহায়তা এবং একটি বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষাজীবনের এই অভিজ্ঞতা দেখায়, সুযোগ ও সহায়তা পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী একজন শিক্ষার্থীও উচ্চশিক্ষার ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করতে পারেন। কিন্তু ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ না হলে সেই সক্ষমতা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্ত্রীর আয়ে চলছে সংসার
২০২৩ সালে হাবিবা বেগমকে বিয়ে করেন মিজান। বর্তমানে তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করেন। সংসারের প্রধান উপার্জনকারী এখন হাবিবা বেগম। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং মাসে আট হাজার টাকা বেতন পান।
এই সীমিত আয়ে তাঁদের দৈনন্দিন খরচ কোনোমতে মেটানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হাবিবা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন এ কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও পরিবারটি উদ্বিগ্ন।
আমি এখন পুরোপুরি স্ত্রীর উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর আয়ে কষ্ট করে সংসার চলছে। কিন্তু তিনি অসুস্থ, তাই অনেক দিন এই কাজ চালাতে পারবেন না। আমার একটি চাকরি খুব দরকার। আমি করুণা চাই না; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ চাই।
মিজানের এই বক্তব্যে চাকরির আবেদনকে শুধু আর্থিক সহায়তার অনুরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে পরিবারকে স্থিতিশীল করতে চান। একটি নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা হলে স্ত্রীকে কঠিন শারীরিক শ্রমের কাজ থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলেও তাঁদের আশা।
বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগের আবেদন
গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন মিজান মিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে তাঁকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় ওই আবেদনে। সেখানে তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, শিক্ষাগত অর্জন এবং পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজের সুযোগ চাওয়ার ক্ষেত্রে মিজানের মূল বক্তব্য হলো, তাঁর প্রতিবন্ধকতাকে অক্ষমতার পরিচয় হিসেবে না দেখে যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক। টেলিফোন অপারেটরের মতো দায়িত্বে যোগাযোগ, মনোযোগ এবং নিয়মিত কর্মসম্পাদন গুরুত্বপূর্ণ—আর এই ধরনের পদে কাজের উপযোগিতা মূল্যায়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি ব্যক্তিগত সহানুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি যখন নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পান, তখন তা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বদলানোর পাশাপাশি সমাজে প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ জানায়।
সহযোগিতার আশ্বাস
হাবিবা বেগম স্বামীর জন্য একটি চাকরির সুযোগের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মিজানের একটি কাজ হলে তাঁদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসবে। পরিবারের বর্তমান অবস্থায় এটি তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার একটি ভিত্তি হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও মিজান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে তাঁরা সুপারিশ করবেন বলেও জানান তিনি।
দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আমরা অবশ্যই সুপারিশ করব।
মিজানের জীবনের পথচলা শিক্ষা, সহায়তা ও কর্মসংস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনে আনে। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর একজন যোগ্য প্রার্থীর জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হলে সেটি শুধু একটি পরিবারের আয় বাড়াবে না; অর্জিত শিক্ষা ও সক্ষমতার বাস্তব মূল্যও নিশ্চিত করবে। তাঁর প্রত্যাশা তাই সহানুভূতির কোনো সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং যোগ্যতার স্বীকৃতিতে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is কর ণ নয় ম ধ ও য?
কর ণ নয় ম ধ ও য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does কর ণ নয় ম ধ ও য matter?
কর ণ নয় ম ধ ও য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

