Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ফ্লাইটের পাইলটের গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের পাইলটের গাঁজা সেবনের তদন্তে নিশ্চিততা

Banglaprabah.com – এয় র ইন ড য় র স - চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ করে উচ্চতা হারিয়ে নিচে নেমে যাওয়া একটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটের পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর গাঁজা সেবনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এই বিমানটি ক্রুজিং উচ্চতা থেকে প্রায় তিনশো ফুট নিচে নেমে পড়লে অন্তত চব্বিশ জন যাত্রী আহত হন। পরবর্তীতে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।

পাইলটের আচরণ ও বিমানের গতিবিধি

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পর পাইলটদের ড্রাগ স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষার ফল জানার পর বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরেকটি মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলাফলেও গাঁজা সেবনের বিষয়টি পজিটিভ এসেছে।

কেবিন ক্রুরা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে এক অভিযোগে দাবি করেছিলেন, পাইলট পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিমানের পাইলটের আচরণ পরীক্ষা করে দেখছেন বলে জানা গেছে। বিমানের যেকোনো ফ্লাইটে সাধারণত পাইলটের কাছেই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং আইনি দায়িত্ব থাকে।

এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অ্যালার্ট বা সতর্কসংকেত বাজার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না; বরং কো-পাইলটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিমানের এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরের দিকে উঠে যায়। সে সময় কো-পাইলট বিমান চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি বিমানের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে আনেন।

বিমানের গতিবিধি ও পাইলটের প্রতিক্রিয়া

এই কৌশলের কারণে তীব্র নেগেটিভ-জি এক্সকারশন বা ওজনহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যায়। এর ফলে আলগা জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাইলট এবং কো-পাইলটও ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন। পাইলট বলেন, তিনি নিজে ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন। একই সময় তিনি ককপিটে বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং তাঁর কো-পাইলটকে শূন্যে ভাসতে দেখেন। তিনি কোনাকুনিভাবে কষ্ট করে নিজের আসনে ফিরে যান। সে সময়ই সিটবেল্ট বাঁধার সাইন চালু করেন।

নিজের আসনে বেল্ট বাঁধার পর পাইলট 'আই হ্যাভ কন্ট্রোলস' (আমার নিয়ন্ত্রণে আছে) বলে নিম্নমুখী বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। বিমানের গতি ও উচ্চতার ক্ষতি রোধ করে এটিকে স্থিতিশীল করতে পাইলট থ্রোটল সর্বোচ্চ কন্টিনিউয়াস থ্রাস্টে ঠেলে দেন। কিন্তু ততক্ষণে বিমানটি প্রায় তিনশো ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

তদন্ত ও প্রযুক্তিগত তথ্য

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিমানের সিস্টেমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং লগ থেকে জানা যায়, বিমানের হাইড্রোলিক সিস্টেমে নিম্নচাপের সংকেত দেখা দিয়েছিল। হাইড্রোলিক সিস্টেম বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল, ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেক এবং অন্যান্য ভারী মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ চালনার জন্য চাপযুক্ত তরল ব্যবহার করে থাকে। বিমানের অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও রেকর্ড করা হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের পিচ কন্ট্রোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পিচ কন্ট্রোলের মাধ্যমে পাইলট বিমানের সামনের অংশ ওঠাতে বা নামাতে পারেন, যা বিমানটি ওপরে উঠবে, নিচে নামবে নাকি সমান্তরালে উড়বে, তা ঠিক করে।

এয়ার ইন্ডিয়া প্রাথমিক এক বিবৃতিতে বলেছিল, ফ্লাইটটি 'ক্রুজ অবস্থায় থাকার সময় সাময়িকভাবে ঝাঁকুনির মুখে পড়েছিল, যার ফলে বিমানের উচ্চতায় ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। এ বিষয়ে জানতে 'দ্য ইনডিপেনডেন্ট' বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো 'বর্তমানে সব প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা এবং মানব-সম্পর্কিত উপাদানগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করে দেখছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে বিমান ও তার বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা, রেকর্ড করা ফ্লাইট ডেটা, প্রাসঙ্গিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব উপাদান ও প্রমাণাদি সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

ঘটনাটি এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য নতুন এক ধাক্কা। বিমান সংস্থাটি ইতিমধ্যেই সুরক্ষা-সম্পর্কিত একাধিক তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে তাদের একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটি ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। ওই ঘটনার পর একাধিক ত্রুটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং ভারতের বিমান চলাচল খাতে নজরদারি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is এয় র ইন ড য় র স?

এয় র ইন ড য় র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এয় র ইন ড য় র স matter?

এয় র ইন ড য় র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.