Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এবার স্যুট পরে ইতালির মুখোমুখি জিদান, সেই ‘ঢুস’ নিয়ে অনুশোচনা নেই

Published October 2, 2026 · Updated October 2, 2026 · By Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

Foto : Jennifer Rodriguez - banglaprabah.com

ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে জিদানের নতুন অধ্যায়

Banglaprabah.com – এব র স য ট পর ইত - ফ্রান্সের ফুটবলে জিনেদিন জিদানের নতুন ভূমিকার শুরুটা আবেগে ভরা। নেশনস লিগে আজ রাতে সেন্ট ডেনিসে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স, আর জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ঘরের মাঠে এটি জিদানের প্রথম ম্যাচ। দুই দশক আগে বার্লিনে ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনি ছিলেন ফরাসি দলের জার্সি গায়ে মাঠের নায়ক। এবার তাঁকে দেখা যাবে ডাগআউটে, সম্ভবত স্যুট পরে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের সঙ্গে ইতালির সেই ম্যাচের স্মৃতি এমনভাবে জড়িয়ে আছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখনও তীব্র। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল ফ্রান্স। কিন্তু ম্যাচের ফলের বাইরেও অতিরিক্ত সময়ের একটি ঘটনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

বার্লিনের সেই মুহূর্ত

ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাথা দিয়ে তাঁকে আঘাত করেছিলেন জিদান। মাতেরাজ্জি মাঠে পড়ে গেলে রেফারি লাল কার্ড দেখান ফরাসি অধিনায়ককে। বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে জিদানের মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটি তখন কোটি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

ফাইনালের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেননি জিদান। ফলে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ছবি হিসেবে অনেকের চোখে রয়ে গিয়েছিল সেই লাল কার্ড এবং হতাশ হয়ে মাঠ ত্যাগের মুহূর্ত। দীর্ঘ সময় পর ইতালির বিপক্ষে নতুন দায়িত্বে দাঁড়ানোর আগে সংবাদ সম্মেলনেও স্বাভাবিকভাবেই ফিরে এসেছে সেই প্রসঙ্গ।

“ছবিগুলো আমাকে সব সময় সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, সেগুলো বারবার দেখানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত আমার ক্যারিয়ারে শুধু এটাই ঘটেনি, কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিও রয়েছে।”

জিদানের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ওই ঘটনাকে তাঁর জীবনের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে দেখেন না। তবে অতীত বদলানোর আকাঙ্ক্ষা বা এ নিয়ে অনুতাপও নেই তাঁর। বরং সেটিকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বাস্তব অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

“এগুলো অনুশোচনা নয়, আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা ঘটেছে, সে জন্য আমি গর্বিত নই; তবে আপনি সব সময় শুধু ভালো কাজ করতে পারবেন না। আমাদের সবার জীবনযাত্রায় এমন সময় আসে, যখন আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যা সেরা কাজ নয়। এখন সামনের দিনগুলোয় কী আছে, সেটাই আসল কথা।”

খেলোয়াড় থেকে কোচ

২০০৬ সালে অবসরের সময় জিদান জানতেন না, একদিন ফ্রান্স দলের কোচ হয়ে তিনি আবার ফিরবেন। তাই ওই ফাইনালের বিদায় তাঁকে কঠিনভাবে নাড়া দিয়েছিল। খেলোয়াড় হিসেবে শেষ রাতের চাপ, হারের বেদনা এবং বিতর্কিত বিদায়—সব মিলিয়ে সেই সময়টিকে তিনি সহজে পেছনে ফেলতে পারেননি।

“হ্যাঁ, কারণ তখন আমি জানতাম না যে একদিন কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটাই ছিল শেষ এবং আমি বলতে পারি সময়টা খুব খুব কঠিন ছিল। আমি ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে ফেরার জন্য প্রস্তুত, আমার যা কিছু আছে তার সবই উজাড় করে দিতে চাই।”

ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত জুলাই থেকে শুরু হয়েছে তাঁর নতুন যাত্রা। প্রথম দুই ম্যাচে তুরস্ক ও বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তাঁর দল। দুটি জয়ের ফল একই হলেও কোচ জিদানের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং দলকে নিজেদের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

সেন্ট ডেনিসের ম্যাচটি তাই শুধু নেশনস লিগের আরেকটি লড়াই নয়। জিদানের জন্য এটি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ঘরের দর্শকদের সামনে প্রথম পরীক্ষা। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই সেই উপলক্ষ আসায় ম্যাচটির আবেগ আরও বেড়েছে।

“আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা তৃতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং কোনো সমস্যা নেই। সমর্থকদের সামনে জয়ের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেব।”

মাতেরাজ্জির সঙ্গে আর কথা হয়নি

বার্লিনের ঘটনার পর মাতেরাজ্জির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জিদান খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন। দুই সাবেক প্রতিপক্ষের মধ্যে এরপর আর কোনো কথা হয়নি।

“না। একদমই না।”

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ২০০৬ সালের ফাইনালের ঘটনা ফুটবলের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে। জিদানের অসাধারণ খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার, ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয় কিংবা ফ্রান্সের হয়ে তাঁর অন্য স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর পাশে ওই একটি দৃশ্যও স্থায়ী হয়ে আছে। তবে বর্তমানে তাঁর লক্ষ্য পুরোনো বিতর্কে আটকে থাকা নয়; নতুন প্রজন্মের ফরাসি দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

এই ম্যাচে চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে থাকছেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব করবেন উসমান দেম্বেলে। ফলে আক্রমণভাগে নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের মানসিক ভারসাম্যও ধরে রাখার দায়িত্ব থাকবে তাঁর ওপর। ইতালির মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই দায়িত্ব সহজ হবে না।

জিদানের জন্য ইতালির ম্যাচ মানেই অতীতের একটি বড় স্মৃতির মুখোমুখি হওয়া। কিন্তু এবার তিনি আর মাঠ ছেড়ে যাওয়া একজন খেলোয়াড় নন; তিনি পরিকল্পনা সাজানো কোচ, যাঁর চোখ পরের ফলাফল ও দলের ভবিষ্যতের দিকে। সেন্ট ডেনিসে তাঁর প্রথম ঘরের ম্যাচ তাই একই সঙ্গে স্মৃতির পুনরাগমন এবং নতুন শুরুর প্রতীক।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is এব র স য ট পর ইত?

এব র স য ট পর ইত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এব র স য ট পর ইত matter?

এব র স য ট পর ইত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.