Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এতিম কিশোর, ৩ লাখ ডলারের ঋণ আর ‘বিষপান’, বিশ্বজুড়ে গাড়িশিল্পের নেতৃত্বে আসলেন ওয়াং চুয়ানফু

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By Michael Martin - banglaprabah.com

Foto : Michael Martin - banglaprabah.com

ওৱাং চুৱানফু: এত ম ক শ র ৩ থেকে বিশ্ব নেতা

Banglaprabah.com – এত ম ক শ র ৩ ল - ২০০৮ সালের একটি ঘটনা আজও স্মরণীয়। ওৱারেন বাফেটের প্রতিনিধিরা চোখ কপালে তুলে দেখলেন, একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ ব্যাটারির ইলেকট্রোলাইট তরল সরাসরি গ্লাস থেকে চুমুক দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে, কিন্তু ওৱাং চুৱানফু অবলীলায় তা পান করলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার—নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যাটারি কতটা নিরাপদ, তা প্রমাণ করা। এই দুঃসাহসী কাজের ফলেই বাফেট বিওৱাইডিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

দারিদ্র্য থেকে সাফল্যের গল্প

ওৱাং চুৱানফুর জীবনযাত্রার কাহিনি কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। ১৯৬৬ সালে পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে এক অতি দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। মা-বাবা উভয়েই ধানচাষি ছিলেন। ওৱাংয়ের বয়স যখন মাত্র তেরো, বাবা মারা যান। এর দুই বছর পর মাও হঠাৎ কাজের চাপে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আট ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ওৱাং।

পিতামাতার মৃত্যুর পর ওৱাংয়ের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বড় ভাই ও মেজ বোন ত্যাগ স্বীকার করে ওৱাংয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিজনেস ইনসাইডার ও এল পাইস জানায়, ওৱাংয়ের পারিবারিক খরচ জোগাতে মেজ বোন বিয়ে করে ফেলেন এবং বড় ভাই স্কুল ছেড়ে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ওৱাংয়ের জন্য ভাই-বোনদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ছিল তাঁর জীবনের মূল চালিকা শক্তি।

উচ্চশিক্ষার জন্য ওৱাং সেন্ট্রাল সাউথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন রসায়নশাস্ত্রে। পরে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বেইজিং থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিওৱাইডির সূচনা ও উত্থান

১৯৯৫ সাল। শেনজেন ততদিনে চীনের এক ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ২৯ বছর বয়সী ওৱাং তাঁর আত্মীয় লু জিয়াংইয়াংয়ের কাছ থেকে ৩ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে বিওৱাইডি প্রতিষ্ঠা করেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, শুরুতে এটি ছিল মুঠোফোনের রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরির একটি ছোট কারখানা।

সে সময়ে বাজারে জাপানি কোম্পানিগুলোর রাজত্ব ছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওৱাং লক্ষ্য করলেন, জাপানিরা দামি রোবট ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। ওৱাং জাপানের ঠিক উল্টো পথে হাঁটলেন। তিনি দামি যন্ত্রপাতির বদলে নিজে সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি নকশা করেন এবং দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে খরচ কমিয়ে আনেন। তাঁর এই কৌশল এতটাই সফল ছিল যে ২০০২ সালের মধ্যেই বিওৱাইডি মটোরোলা ও নকিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যাটারি সরবরাহকারীতে পরিণত হয়।

গাড়িশিল্পে প্রবেশ ও বাফেটের বিনিয়োগ

২০০৩ সালে ওৱাং একটি দেউলিয়া সরকারি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'কিনচুয়ান অটোমোবাইল' কিনে নেন। তখন তাঁর বিনিয়োগকারীরা তাঁকে 'পাগল' ভেবেছিলেন। শেয়ারবাজারে বিওৱাইডির দর এক ধাক্কায় ৩১ শতাংশ কমে যায়। সবাই ভেবেছিল, একজন ব্যাটারি নির্মাতা কেন গাড়ি বানাতে যাবেন?

ইলন মাস্ক বলেছিলেন, 'ওদের গাড়ি আমি দেখেছি, আমার মনে হয় ওদের পণ্য খুব একটা উন্নত নয়।' কিন্তু ওৱাংয়ের দূরদর্শিতা ছিল প্রখর। তিনি জানতেন, ভবিষ্যতের গাড়িশিল্প হবে ব্যাটারিনির্ভর। ফরচুন সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ সালে তিনি 'এফ-৩' মডেলের একটি সাশ্রয়ী সিডান গাড়ি বাজারে আনেন। এই গাড়িটি দেখতে টয়োটা করোলার মতো হলেও এর দাম ছিল জাপানি গাড়ির অর্ধেক। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল নাগাদ এই গাড়িটিই চীনের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত মডেলে পরিণত হয়।

২০০৮ সালে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওৱারেন বাফেটের সহযোগী চার্লি মুঙ্গার প্রথম ওৱাং চুৱানফুকে 'আবিষ্কার' করেন। ফরচুন সাময়িকী বলছে, মুঙ্গার বাফেটকে বলেছিলেন, 'এই লোকটা হলো টমাস এডিসন আর জ্যাক ওয়েলচের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। তিনি কারিগরি সমস্যা সমাধানে এডিসনের মতো দক্ষ আর লক্ষ্য অর্জনে জ্যাক ওয়েলচের মতো কঠোর।' বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ২০০৮ সালে বিওৱাইডিতে ২৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। এই এক বিনিয়োগই ওৱাংকে রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করে তোলে। ফোর্বস ও হুরুনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো চীনের শীর্ষ ধনীর তালিকায় স্থান পান।

অ্যান্টি-ইলন মাস্ক: নিভৃতচারী নেতা

ইলন মাস্কের সঙ্গে ওৱাংয়ের অমিল চোখে পড়ার মতো। বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ব্লুমবার্গ তাঁকে সরাসরি 'অ্যান্টি-ইলন মাস্ক' হিসেবে অভিহিত করেছে। মাস্ক যেখানে প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন, ওৱাং সেখানে নিভৃতচারী। তিনি আজও শেনজেনে তাঁর কারখানার ক্যানটিনে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খান। স্পেনের এল পাইস পত্রিকা জানিয়েছে, ওৱাং বিদেশ ভ্রমণে গেলে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াত করেন এবং নিজের সুটকেস নিজেই বহন করেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর মিতব্যয়িতা এতটাই যে একবার বিনিয়োগকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেওয়ার আগে তাঁর কাছে ভালো জুতো ছিল না।

"ওৱাং চুৱানফু প্রমাণ করেছেন যে, দারিদ্র্য কোনো বাধা নয়, বরং এটি সাফল্যের প্রথম ধাপ।"

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ওৱাং চুৱানফু কত বছর বয়সে বিওৱাইডি প্রতিষ্ঠা করেন? ওৱাং চুৱানফু ১৯৯৫ সালে ২৯ বছর বয়সে বিওৱাইডি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিওৱাইডিতে বাফেটের কত ডলার বিনিয়োগ হয়? ২০০৮ সালে ওৱারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে বিওৱাইডিতে ২৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে।

ওৱাং চুৱানফু কেন 'অ্যান্টি-ইলন মাস্ক' হিসেবে পরিচিত? মাস্ক যেখানে প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন, ওৱাং সেখানে নিভৃতচারী। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন এবং প্রচার এড়িয়ে চলেন।

ওৱাং চুৱানফুর প্রথম গাড়ি মডেলের নাম কী? ২০০৫ সালে তিনি 'এফ-৩' মডেলের একটি সাশ্রয়ী সিডান গাড়ি বাজারে আনেন।

ওৱাং চুৱানফু কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন? তিনি বেইজিং থেকে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is এত ম ক শ র ৩ ল?

এত ম ক শ র ৩ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এত ম ক শ র ৩ ল matter?

এত ম ক শ র ৩ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.