Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ আবার বন্ধ, সরবরাহ শুরু করেছে সামিট

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

সামিট টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু

Banglaprabah.com – এক স ল র ট র ট - দেশে গ্যাসের সংকট তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি জাহাজ পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে রাতের মধ্যে সামিট টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা হবে। ফলে ইতিমধ্যে সামিট টার্মিনাল থেকে স্বল্পমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ চালু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকালের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার কথা।

এক্সিলারেট টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও সরবরাহ বন্ধ

পেট্রোবাংলার অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করা হয়, যেখানে আমদানির দায়িত্বে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আমদানির সাথে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ বিকেল চারটায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আবার বন্ধ হয়ে গেছে। রাত আটটা পর্যন্ত সরবরাহ শুরু করতে না পারায় গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটি ভিন্ন ছিল। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সামর্থ্য ওই জাহাজে ছিল না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। টার্মিনাল থেকে আগেই আপত্তি জানানো হলেও আরামকো জাহাজটি পাঠিয়েছিল। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরামকোর নতুন জাহাজ ও সরবরাহ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা

গতকাল জাহাজটি ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও আরামকো এর বদলে আরেকটি এলএনজি জাহাজ পাঠিয়েছে। ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়ার কোনো অসুবিধা হবে না, কারণ টার্মিনাল এই ধরনের জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়ার অভ্যস্ত।

এলএনজি সরবরাহে যুক্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভিটলের জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে আজ রাত ২টায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হবে, সকালে এটি ৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।

সরবরাহ কমানোর ধাপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

টার্মিনালে আগের মজুত থেকে সামিট ইতিমধ্যে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ দিচ্ছে। মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে জানান, বৈরী আবহাওয়ায় জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরে সামঞ্জস্য না থাকায় আরামকোর জাহাজ থেকে এলএনজি নিতে পারেনি সামিট। আরামকো নতুন একটি জাহাজ পাঠাবে। আরেকটি জাহাজ থেকে ইতিমধ্যে এলএনজি নেওয়া শুরু করেছে সামিট। এক্সিলারেটের টার্মিনালে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় আবার সরবরাহ শুরু করবে।

টার্মিনালের সক্ষমতা ও আগুনের পরিস্থিতি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশি কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় এবং সংকট বেড়ে যায়। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনে সিএনজি পেতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি পড়ে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে, প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এটি বন্ধের পর গ্যাস সরবরাহ শূন্য হয়ে গেছে। এটি আজ রাতের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, ফলে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের।

সরবরাহ ও চাহিদার হিসাব

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। ফলে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকাল বিকেলের আগে এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।

সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হবে। এতে এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ হবে ৮০ কোটি ঘনফুট। দিনের মোট সরবরাহ দাঁড়াবে ২৪৩ কোটি ঘনফুটে। এতে গ্যাসের তীব্র সংকট কিছুটা কমে আসবে, তবে ঘাটতি পুরোপুরি মিটবে না। এক্সিলারেটের টার্মিনাল রাতে ঠিক না হলে গ্যাসের সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুট কমে আগামীকালও ২০৩ কোটি ঘনফুট থাকতে পারে, ফলে সংকটের তীব্রতা বজায় থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ কতদিন বন্ধ থাকবে? উত্তর: পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, ফলে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের।

প্রশ্ন: সামিট টার্মিনাল থেকে কতটুকু গ্যাস সরবরাহ করা হবে? উত্তর: সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হবে।

প্রশ্ন: বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ কত? উত্তর: গতকাল বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। ফলে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is এক স ল র ট র ট?

এক স ল র ট র ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এক স ল র ট র ট matter?

এক স ল র ট র ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.