Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন, ছবিও তুলেছেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Charles Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Charles Hernandez - banglaprabah.com

বিয়ের আনন্দ শেষে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত চারজন

Banglaprabah.com – একসঙ গ উচ ছ ব স ম - চট্টগ্রাম নগরে বড় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরছিলেন একই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। রাতের উৎসব, ছবি তোলা ও একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ার স্মৃতি নিয়ে শুরু হওয়া সেই পথচলাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রূপ নেয় শোকে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মাইক্রোবাস দুমড়েমুচড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কনের মা-বাবাসহ আরও চারজন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায়। কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দারা একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথেই কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিহতদের মধ্যে কনের ভাই-বোন ও মামা

নিহত চারজন হলেন মোরশেদ নেওয়াজ মেহেদী (২৬), তাঁর বোন ও কলেজছাত্রী জাছিয়া ইসমে মিমতা (২০), তাঁদের মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসচালক হাছান মোহাম্মদ মুন্না (৪২)। মেহেদী ও মিমতা ছিলেন নববধূ তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের ভাই-বোন।

আহত হয়েছেন মেহেদী-মিমতার বাবা মনজুর আলম, মা নীলুফা ইয়াছমিন, স্বজন আবুল কালাম ও আরফা বেগম। মনজুর আলম ও নীলুফা ইয়াছমিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবুল কালামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আরফা বেগম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

উৎসবের রাতেই নেমে আসে শোক

তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিয়ের আয়োজন হয়েছিল চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের একটি রেস্তোরাঁয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কক্সবাজার থেকে এসেছিলেন পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়েরা। বিয়ের আসরে ছিল স্বাভাবিক উৎসবের আবহ—স্বজনদের গল্প, আড্ডা, ছবি তোলা এবং নতুন দম্পতিকে ঘিরে আনন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতের দিকে কনেপক্ষের লোকজন কয়েকটি গাড়িতে করে বাড়ির পথে রওনা দেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ভোরের দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর। কিন্তু শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনায় সেই পরিকল্পনা ভেঙে যায়। একই গাড়িতে থাকা চারজনের আর বাড়ি ফেরা হয়নি।

বিয়ের পর একটি পরিবারের জন্য যে সময়টি সাধারণত নতুন সম্পর্ক ও আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকে, সেই রাতেই তাঁদের সামনে আসে প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর বাস্তবতা। যাঁরা কিছুক্ষণ আগেও একসঙ্গে ছিলেন, তাঁদের কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

হাসপাতালের সামনে স্বজনদের উৎকণ্ঠা

দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কেউ আহতদের অবস্থা জানতে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন, কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবস্থা করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ বা আহত আত্মীয়ের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন।

একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যের এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। নিহতদের শেষ বিদায় এবং আহতদের চিকিৎসা—দুই পরিস্থিতিই সামলাতে হচ্ছে তাঁদের। পরিবারের জন্য আনন্দের যে আয়োজন ছিল, সেটিই এক রাতের মধ্যে দীর্ঘ শোকের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

ভাই ও ভাগনে-ভাগনি হারানোর বেদনা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিহত মেহেদী ও মিমতার মামা আজিজুল হক জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা চারটি গাড়িতে রওনা দিয়েছিলেন। তাঁর বোন এবং ভাগনে-ভাগনিদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি পথে তেল নেওয়ার জন্য কিছু সময় থেমেছিল। অন্য গাড়িগুলো ততক্ষণে অনেকটা সামনে চলে যায়।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসঙ্গে রওনা দিয়েছিলাম চারটি গাড়িতে করে। বোন এবং ভাগনে-ভাগনিদের বহনকারী গাড়ি তেলের জন্য একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছিল। এ সময় আমাদের গাড়ি অনেক দূর চলে যায়। ক্লান্ত এবং রাত হওয়ায় গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ একটি ফোন আসে। এরপর খবর শুনে কাঁপতে থাকি। গাড়ি ঘুরিয়ে এসে যেটি দেখেছি, সেটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।

দুর্ঘটনাস্থলে ফিরে তিনি বিধ্বস্ত মাইক্রোবাসটির অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতবিক্ষত ছিল এবং জানালার কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আহত ও নিহতদের গাড়ি থেকে বের করা হয়।

গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। কাচ ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। গাড়ির ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখি, রক্ত আর রক্ত। পুলিশ ও আশপাশের লোকজনের সহায়তায় গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসি। কিন্তু সবার অবস্থা খারাপ। এভাবে ভাগনে-ভাগনিদের হারিয়ে ফেলব, তা ভাবিনি। এখন বোন ও দুলাভাইকে নিয়ে চিন্তা।

এই দুর্ঘটনা আবারও রাতের দীর্ঘ সড়কযাত্রায় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তবে এই পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো চারজনের মৃত্যু এবং চারজন আহত স্বজনের চিকিৎসা। বিয়ের আনন্দঘন রাত শেষে তাঁদের ঘরে ফিরছে না উৎসবের গল্প; ফিরছে হারানোর বেদনা, হাসপাতালের উদ্বেগ আর প্রিয়জনদের জন্য অপেক্ষা।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is একসঙ গ উচ ছ ব স ম?

একসঙ গ উচ ছ ব স ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does একসঙ গ উচ ছ ব স ম matter?

একসঙ গ উচ ছ ব স ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.