জাদুঘর দিবসে জাতীয় জাদুঘর উদ্বোধন করলেন মহাপরিচালক
একট দ শ কতট সভ য ত – আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস-২০২৬ উদ্যাপনের উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেন যে একটি দেশের সভ্যতা ও আধুনিকতা তার জাদুঘরে প্রতিফলিত হয়। বক্তব্যে তিনি বলেন, জাদুঘরে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের কোনো বিভক্তি নেই।
প্রতিপাদ্য অনুযায়ী জাদুঘরের সম্প্রীতি
বর্তমান জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য হল ‘বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর’ (মিউজিয়ামস ইউনাইটিং আ ডিভাইডেড ওয়ার্ল্ড)। আইকম নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্যের আওতায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।
প্রতিপাদ্যের সম্পর্কে তিনি বলেন, জাদুঘর কেবল অতীত সংরক্ষণের জায়গা নয়, এটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। আমরা নিরলস কাজ করছি যাতে জাদুঘর জ্ঞানচর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী কর্তৃক বিশেষ উদ্বোধন
আজ সোমবার সকালে জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম স্বাগতিক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জাদুঘর দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উপলক্ষ নয়, এটি আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ দেয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী নিজের বক্তব্যে জাদুঘরের গুরুত্ব বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জাদুঘর শিশুদের সংস্কৃতিমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। আজ সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ‘সভ্যতায় কৃষি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।
জাদুঘরের ভবিষ্যত নির্দেশনা
জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম বলেন, জাদুঘর সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ ও বিকাশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। তিনি জাদুঘরকে আরও জনপ্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার দাবি করেন। এ কাজে নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগিতা হিসেবে আঁকা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতার আয়োজনে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। দিনব্যাপী উপস্থিত ছিল বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। সভাপতির বক্তব্যে তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, দিবসটি উদ্যাপনের মাধ্যমে জাদুঘরকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
