Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এআই আমাদের বেকার করবে না, বরং বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল করবে—সানি মো. আশরাফ খান

Published September 18, 2026 · Updated September 18, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

এআই-সক্ষম কর্মশক্তিই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি শক্তি

Banglaprabah.com – এআই আম দ র ব ক র - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করলেও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গবেষক সানি মো. আশরাফ খান এটিকে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দক্ষতা গড়ে তোলা গেলে এআই মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার বদলে কর্মীদের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে পারে।

দুই দশকেরও বেশি সময় প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত আশরাফ খান ২০০৮ সালে ইনফ্রাটেক কনসালট্যান্টস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর ভাবনায় এআই-সক্ষম জনশক্তি, এজেন্টিক এআই, ভার্চ্যুয়াল রেমিট্যান্স এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।

চাকরি কমার ঝুঁকি আছে, তবে পরিবর্তনের সুযোগও আছে

অটোমেশন কিছু প্রচলিত কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে—এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। বিশেষত যেসব কাজ একই ধরনের নিয়ম মেনে বারবার করতে হয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কর্মীর ভূমিকা বদলাবে। তবে তাঁর দৃষ্টিতে প্রযুক্তির ইতিহাস কেবল পেশা বিলুপ্তির গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের কাজ, নতুন দায়িত্ব ও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনও তৈরি করে।

“এআই আসবে কি না, সেটি এখন আর প্রশ্ন নয়। এটি ইতিমধ্যেই এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের মানুষ এই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত।”

তিনি মনে করেন, এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে কাজের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এআই ব্যবহারে দক্ষ একজন কর্মী এমন অনেক কাজ দ্রুত শেষ করতে পারবেন, যা আগে পাঁচ বা দশজনের সমন্বয়ে সম্পন্ন হতো। এতে কাজের গতি বাড়লেও মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে না; বরং পরিকল্পনা, যাচাই, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত এবং গ্রাহক বোঝার মতো মানবিক সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়বে।

সব পেশাতেই ঢুকে পড়বে এআই দক্ষতা

একসময় কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা আলাদা একটি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে ধরা হতো। পরে তা প্রায় প্রতিটি পেশার স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছে। আশরাফ খানের ধারণা, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিবর্তন আসবে।

একজন দর্জি এআইয়ের সহায়তায় নতুন পোশাকের নকশা ভাবতে, বাজারের পছন্দ বিশ্লেষণ করতে বা ক্রেতার জন্য দ্রুত ধারণা তৈরি করতে পারেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উৎপাদনের হিসাব, বিক্রির পরিকল্পনা, প্রচারণার লেখা কিংবা বিদেশি ক্রেতা খোঁজার কাজে এআই ব্যবহার করতে পারেন। আবার কোডিংয়ে গভীর দক্ষতা না থাকা একজন তরুণও এআইয়ের সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজ শুরু করতে পারেন।

“আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মেশিনের সঙ্গে লড়াই করা নয়, মেশিনকে কাজে লাগানোর যোগ্যতা অর্জন করা।”

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন প্রযুক্তি আমদানির ওপর নির্ভর করেছে। নতুন এআই যুগে দেশের বড় শক্তি হতে পারে দক্ষ মানুষ। বৈশ্বিক বাজারে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা থাকবে, কিন্তু সেই দক্ষতার সংজ্ঞা দ্রুত বদলাবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী করা গেলে আন্তর্জাতিক কাজের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

প্রশিক্ষণের সঙ্গে আয় ও বাজারের সংযোগ জরুরি

মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আশরাফ খান বলেন, দেশে প্রতিভার অভাব নেই; সীমাবদ্ধতা অনেক সময় সুযোগে পৌঁছানোর পথে। তাঁর নেতৃত্বে নকশা ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সাড়ে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী এবং ৪ হাজারের বেশি মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার রয়েছেন।

তাঁর দৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ কেবল সনদ পাওয়ার বিষয় নয়। প্রশিক্ষণের পর একজন মানুষ আয় করতে পারছেন কি না, বাজারে কাজ পাচ্ছেন কি না এবং নিজের উদ্যোগ দাঁড় করাতে পারছেন কি না—এসবই সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি স্টার্টআপ সহায়তা পেয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোক্তাদের ৩৬ শতাংশ নারী।

বাস্তব দক্ষতা, বাজারের সঙ্গে পরিচয় এবং আয়ের পরিষ্কার পথ একজন তরুণের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাই মানবসম্পদে বিনিয়োগকে সামাজিক ব্যয় হিসেবে না দেখে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জেনারেটিভ এআইয়ের পরের ধাপ এজেন্টিক এআই

বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত জেনারেটিভ এআই সাধারণত প্রশ্নের উত্তর দেয়, লেখা বা ছবি তৈরি করে, কোডে সহায়তা করে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে। এর পরের ধাপ হিসেবে আশরাফ খান এজেন্টিক এআইয়ের কথা বলেন। এই ধরনের এআই কেবল পরামর্শ দেবে না; ব্যবহারকারীর অনুমতি ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতেও পদক্ষেপ নেবে।

উদাহরণ হিসেবে ভ্রমণ পরিকল্পনার কথা ধরা যায়। এখনকার এআই ফ্লাইট ও হোটেলের বিকল্প দেখাতে পারে। ভবিষ্যতের একটি এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর পছন্দ, ক্যালেন্ডার ও প্রয়োজন বুঝে ফ্লাইট খুঁজবে, হোটেল তুলনা করবে এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ভ্রমণের আয়োজন এগিয়ে নেবে। বড় সিদ্ধান্ত বা অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অনুমোদন থাকবে, কিন্তু প্রতিটি ধাপ নিজে হাতে পরিচালনা করার প্রয়োজন কমে যাবে।

“আজ মানুষ সফটওয়্যার পরিচালনা করে; সামনে এআই মানুষের হয়ে সফটওয়্যার চালানোর দিকে এগোবে।”

এজেন্টিক এআই কার্যকর হলে একটি কাজের জন্য একাধিক অ্যাপ খুলে অনেক ধাপ অনুসরণ করার অভ্যাস বদলাতে পারে। ব্যবহারকারী তাঁর লক্ষ্য জানাবেন, আর এআই প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার, তথ্য ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে সেই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করবে। এর ফলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতার ধারণাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে।

এই পরিবর্তনের জন্য তরুণদের শুধু এআই টুল ব্যবহার শেখালেই যথেষ্ট হবে না। তাদের সমস্যা শনাক্ত করা, সঠিক নির্দেশনা দেওয়া, ফলাফল যাচাই করা, তথ্যের সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এআইয়ের যুগে সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ হবেন সেই কর্মী, যিনি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারবেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is এআই আম দ র ব ক র?

এআই আম দ র ব ক র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এআই আম দ র ব ক র matter?

এআই আম দ র ব ক র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.