ইয়ংবিয়নে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা উত্তর কোরিয়ার: আইএইএ
ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসনে পারমাণবিক কার্যক্রম বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
Banglaprabah.com – ইয ব য ন নত ন প - উত্তর কোরিয়া তাদের প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি করেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। একই সময়ে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছের ক্যাংসন কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও পারমাণবিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষণ মিলেছে।
ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের এই সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, পিয়ংইয়ং একাধিক স্থানে পারমাণবিক সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে চলেছে। এই তৎপরতা শুধু নতুন ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমিত নয়; অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও ইঙ্গিত করছে।
দ্বিতীয় সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ইয়ংবিয়নে
ইয়ংবিয়ন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে শনাক্ত হওয়া নতুন দোতলা ভবনটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দ্বিতীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আইএইএ মনে করছে।
গত জুনে দেশটির নেতা কিম জং–উন একটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই সফরের ছবি এবং উপগ্রহচিত্র মিলিয়ে নতুন ভবনটি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবনটির দুই তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ২৮টি ক্যাসকেড বসানো সম্ভব। গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে ইউরেনিয়ামের নির্দিষ্ট আইসোটোপ আলাদা করে সমৃদ্ধ করা হয়। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ব্যবহার বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান তৈরির ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে এ ধরনের স্থাপনার আকার, বিন্যাস ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্বেগ আরও বেশি, কারণ দেশটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করছে। ২০০৯ সালের পর থেকে আইএইএর কোনো পরিদর্শককে দেশটিতে ঢোকার অনুমতি দেয়নি পিয়ংইয়ং।
ক্যাংসন কেন্দ্রেও নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত
ইয়ংবিয়নের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের নিকটে অবস্থিত ক্যাংসন ইউরেনিয়াম কেন্দ্রেও পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে নির্মিত একটি সংযুক্ত ভবনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্পষ্ট আলামত পেয়েছে আইএইএ।
ক্যাংসনের অবকাঠামো নিয়ে বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে। ইয়ংবিয়নের বাইরে অন্য কোনো স্থানে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হলে উত্তর কোরিয়ার সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, একটি স্থাপনার গতিবিধি দেখেই পুরো কর্মসূচির পরিধি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।
আইএইএ বর্তমানে সরাসরি পরিদর্শনের বদলে উপগ্রহচিত্র, প্রকাশ্য ছবি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। এ পদ্ধতিতে স্থাপনার নির্মাণ, ভবনের পরিবর্তন বা নতুন যন্ত্রপাতির উপস্থিতির মতো বিষয় শনাক্ত করা গেলেও ভেতরে কী পরিমাণ উপাদান উৎপাদিত হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা কঠিন।
গ্রোসির গভীর উদ্বেগ
সোমবার আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসনের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। তাঁর বক্তব্যে পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকা এবং অস্ত্রের উপযোগী উপাদান উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
“ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসন কেন্দ্রে পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
আইএইএর দৃষ্টিতে উত্তর কোরিয়ার এই কার্যক্রম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে অতীতে নিরাপত্তা পরিষদ একাধিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
আইএইএর কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়ের
উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই আইএইএর মূল্যায়ন ও তদারকির অধিকার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে। ভিয়েনায় দেশটির মিশন বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত এবং পরিবর্তনযোগ্য নয়।
“পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান এখন চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।”
পিয়ংইয়ংয়ের যুক্তি, তারা পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য নয়। তাই এনপিটির বাইরে থাকা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আইনগত অধিকার আইএইএর নেই বলেও দাবি করেছে দেশটি।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকির ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। সরাসরি পরিদর্শনের সুযোগ না থাকায় উত্তর কোরিয়ার কর্মসূচি নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্য তথ্যের বিশ্লেষণেই খুঁজতে হয়। নতুন স্থাপনা, সম্প্রসারিত ভবন এবং সেন্ট্রিফিউজ বসানোর সক্ষমতা তাই শুধু কারিগরি বিষয় নয়; এগুলো কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পারমাণবিক বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইয ব য ন নত ন প?ইয ব য ন নত ন প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইয ব য ন নত ন প matter?ইয ব য ন নত ন প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.