Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ইতিহাসের উষ্ণতম জুন-জুলাই পেরোল ইউরোপ, আরও বিপদ আসছে

Published August 10, 2026 · Updated August 10, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

ইউরোপে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার জুন-জুলাই: এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ

Banglaprabah.com – ইত হ স র উষ ণতম জ - গত সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, ইতিহাসের উষ্ণতম জুন ও জুলাই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে পশ্চিম ইউরোপে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই গ্রীষ্মে রেকর্ড মাত্রার তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপ। এ বছর গ্রীষ্মের প্রথম দুই মাসে অঞ্চলটি একের পর এক তাপপ্রবাহ, তীব্র গরম এবং চরম শুষ্ক আবহাওয়া ও দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে।

রেকর্ড তাপমাত্রা ও মাটির আর্দ্রতার অবনতি

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিসিএস) বলছে, জুন-জুলাই মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা একই সময়ে আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের রেকর্ডটি হয়েছিল ২০২২ সালে। কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, এ গ্রীষ্মে দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া থাকার কারণেই তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতা উঠেছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, এমনকি পশ্চিম ইউরোপে সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাই মাসে দেখা দেওয়া ভয়াবহ খরার তুলনায় এখন সেখানে মাটির আর্দ্রতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য রকম কম, যা ওই অঞ্চলে শুষ্ক পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

এল নিনো ও সমুদ্রের তাপমাত্রা

কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো বলেন, ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের কিছু অংশে অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা গেলেও সমুদ্রের রেকর্ড তাপমাত্রার পেছনে মূল চালিকা শক্তি সম্ভবত ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো।

আমরা এখন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি, যার তীব্রতা সম্ভবত নজিরবিহীন হতে পারে। এটা স্পষ্ট, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা প্রভাব এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

— কার্লো বুয়োনতেম্পো, জলবায়ুবিজ্ঞানী

জুলাই মাসে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালে হওয়া আগের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের আশপাশের সমুদ্রাঞ্চলে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোর প্রভাবে জুলাই মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বিশ্বের মহাসাগরগুলোর তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

নদী, দাবানল ও প্রভাব

গত জুলাই মাসে ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরিসহ পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চরম শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা গেছে। একই ধরনের শুষ্ক আবহাওয়া যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের কিছু অংশেও পরিলক্ষিত হয়েছে। নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ছিল অস্বাভাবিক রকম কম। বিশেষ করে ফ্রান্সের সেইন, জার্মানির রাইন এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দানিউব নদী খরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের কয়েকটি দেশে পরিবহন, সেচব্যবস্থা এবং জ্বালানি উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্যও অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে দাবানল-সহায়ক চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এবার ফ্রান্স ও স্পেন সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মোকাবিলা করেছে। এ ছাড়া ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডাতেও বড় বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুচক্রের উষ্ণ পর্যায়, যা সাময়িকভাবে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এরই মধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনো আরও অতিরিক্ত তাপ যোগ করে। সাধারণত এল নিনো বছরের শেষ দিকে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। এরপর সমুদ্রে সঞ্চিত অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

কার্লো বুয়োনতেম্পো বলেন, বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। এল নিনোর প্রভাবেই ২০২৩ ও ২০২৪ সাল যথাক্রমে রেকর্ডের দ্বিতীয় ও প্রথম উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। কোপার্নিকাস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গত জুলাই ছিল রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম জুলাইগুলোর একটি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ইত হ স র উষ ণতম জ?

ইত হ স র উষ ণতম জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ইত হ স র উষ ণতম জ matter?

ইত হ স র উষ ণতম জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.