ইউজিসির ১০ কোটি টাকার আবাসিক এলাকায় ফাঁকা তিন ডুপ্লেক্স, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ
ইউজিসির ১০ কোটি টাকার তিন ডুপ্লেক্স বাসভবন কেন খালি?
Banglaprabah.com – ইউজ স র ১০ ক ট ট - মিরপুরের ১৪ নম্বর এলাকায় ইউজিসির আবাসিক কমপ্লেক্সের পাশে তিনটি ডুপ্লেক্স বাসভবন দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে এই বাসভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য তৈরি এই তিনটি বাসভবনের দুটি ২০১৫ সাল থেকে এবং একটি ২০১০ সাল থেকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তারা বাসভবনে না থেকে বিদ্যালয় ভাতা গ্রহণ করছেন।
নির্মাণের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
২০০১ সালে মিরপুর ১৪ নম্বরে প্রায় তিন একর জায়গায় ইউজিসির আবাসিক এলাকার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এই এলাকায় মোট নয়টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পাঁচতলা ও কিছু তিনতলা। ইউজিসির প্রায় চারশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৭ জন এই ভবনগুলোতে আবাসনের সুবিধা পান।
চেয়ারম্যানের জন্য তৈরি বাসভবনের আয়তন প্রায় তিন হাজার চারশত বর্গফুট। অন্যদিকে সদস্যদের জন্য তৈরি দুটি বাসভবনের প্রতিটির আয়তন প্রায় দুই হাজার ছয়শত বর্গফুট। কিন্তু বড় আয়তনের এই তিনটি বাসভবন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারহীন।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বাসভবনগুলোর দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। লোহার গ্রিল ও জানালার মরিচা ধরেছে। দেয়ালে শেওলা জমেছে। কয়েক বছর আগে ভেঙে যাওয়া মূল ফটকের লোহার দরজাগুলোর আর কোনো হদিস নেই। বাসভবনগুলোর সামনে আগাছা ও ঝোপঝাড় বেড়ে উঠেছে। ভেতরে তেমন কোনো আসবাবপত্রও নেই।
কেন বাসভবনগুলো খালি?
সদস্যদের জন্য তৈরি দুটি বাসভবনে ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট দশজন সদস্য বসবাস করেছেন। এরপর থেকে বাসভবন দুটি খালি পড়ে আছে। চেয়ারম্যানের জন্য তৈরি বাসভবনে কোনো চেয়ারম্যান কখনো বসবাস করেননি। তবে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে একজন কর্মকর্তা বসবাস করেছিলেন।
ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান বা সদস্য নিয়োগ পাওয়ার পর তাঁদের মিরপুরের ডুপ্লেক্স বাসভবনে থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হতো। তবে বেশির ভাগ সদস্যই সেখানে থাকতে চাননি। কেউ জানিয়েছেন, ঢাকার তাঁদের নিজস্ব বাসভবন রয়েছে। কেউ আবার রাজধানীর অন্য এলাকার ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে জানিয়েছেন।
ইউজিসির কয়েকটি লিখিত নথি পর্যালোচনা জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর ইউজিসির তৎকালীন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিনা খান লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি ইউজিসির ডুপ্লেক্স বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাসা থাকায় তিনি মিরপুরের বাসভবনে উঠতে চান না। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউজিসির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু তাহের জানান, উত্তরায় তাঁর ভাড়া বাসা রয়েছে। তাই ইউজিসির বাসভবনে থাকতে চান না তিনি।
চেয়ারম্যানের বাসভবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মিরপুর ও ধানমন্ডিতে চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবনগুলো বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী। এ কারণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া ফ্ল্যাটে থাকছেন।
মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, ইউজিসি
চেয়ারম্যানের জন্য ঢাকার ধানমন্ডিতেও একটি বাসভবন রয়েছে। তবে আট বছর ধরে প্রায় ২২ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত এই ভবনও অব্যবহৃত পড়ে আছে। ঝুঁকি বিবেচনায় এখন সেই ভবন ব্যবহার করা নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী বাসভবনগুলো ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ইউজিসি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
ইউজিসির তিন ডুপ্লেক্স বাসভবন কত টাকা খরচে নির্মিত হয়েছিল? প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে মিরপুরের ১৪ নম্বর এলাকায় এই তিনটি ডুপ্লেক্স বাসভবন নির্মিত হয়েছিল।
কেন সদস্যরা ইউজিসির ডুপ্লেক্স বাসভবনে থাকতে চান না? বেশির ভাগ সদস্য ঢাকার নিজস্ব বাসভবন বা ভাড়া বাসায় থাকতে পছন্দ করেন। হাসিনা খান গুলশানে নিজস্ব বাসা থাকায় এবং আবু তাহের উত্তরায় ভাড়া বাসা থাকায় মিরপুরের বাসভবনে উঠতে চাননি।
চেয়ারম্যানের জন্য ধানমন্ডির বাসভবনটি কেন ব্যবহার হচ্ছে না? আট বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ধানমন্ডির বাসভবনটি ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যবহার করা নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাসভবনগুলো সংস্কার করতে কত টাকা খরচ হবে? দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা বাসভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি ঠিকমতো। এখন সেগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইউজ স র ১০ ক ট ট?ইউজ স র ১০ ক ট ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইউজ স র ১০ ক ট ট matter?ইউজ স র ১০ ক ট ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.