Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আরএসএস–বিজেপির সমর্থক মা–বাবার বিরুদ্ধেও লড়ছেন জেন–জি সন্তানেরা, ছাড়ছেন বাড়িও

Published August 14, 2026 · Updated August 14, 2026 · By Linda Hernandez - banglaprabah.com

Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

জেন-জি সন্তানরা আরএসএস-বিজেপি সমর্থক অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও লড়ছেন

Banglaprabah.com – আরএসএস ব জ প র সমর থক - জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন কুনাল চৌধুরী অন্য এক বিক্ষোভকারীর সাথে, যিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত। কিন্তু সেই উৎসবের পরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি যান্ত্র মন্তর ছাড়বেন না। ১৪ জুলাই তারিখে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা শহর থেকে রওনা হয়ে তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। সেখানে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে যোগ দেন। তখন থেকেই তিনি জানতেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সুযোগ খুবই কম।

পাঞ্জাবের জালন্ধরে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করেন কুনাল। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের দাবিতে এবং নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী যান্ত্র মন্তরে সমবেত হয়েছিল। কুনালও সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন। সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

আন্দোলনের ইতিহাস ও আরএসএসের ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে ভারতে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জেন-জিদের ওই আন্দোলন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন। পাশাপাশি সরকার ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে। এসব ঘটনা বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদি সরকারের অজেয় ভাবমূর্তিতে ফাটল ধরিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরএসএস হলো বিজেপির চরম ডানপন্থী আদর্শিক পথপ্রদর্শক। ১৯২৫ সালে ইউরোপের ফ্যাসিবাদী দলগুলোর আদলে প্রতিষ্ঠিত এই গোপন আধা সামরিক সংগঠনটি ডজনখানেক হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়। তাদের লক্ষ্য হলো, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।

অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে যান্ত্র মন্তরে টানা ৩৬ দিনব্যাপী শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন চলে। ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দিলে সেদিনই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে যান্ত্র মন্তর ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কুনাল সেখানেই থেকে যান।

পরিবারের সাথে সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম

কুনাল আল-জাজিরাকে বলেন, 'আমার বাবা ভারতীয় জনতা পার্টি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য। আমিও দিল্লিতে আসার জন্য বাড়ি ছাড়ার আগপর্যন্ত আরএসএসের সদস্য ছিলাম। বিক্ষোভের সময়সূচির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আমি আমার শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষাগুলো দিতে পারিনি।' তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু যা হয়েছে, হয়েছে। চারপাশের পৃথিবীকে ভেঙে পড়তে দেখে চুপচাপ বসে থাকা এবং তা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।' এই আন্দোলন তাঁর জীবন আমূল বদলে দিয়েছে।

কুনালের বাবা জীবন চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী। কুনাল তাঁর পরিবারের এমন কোনো সদস্যকে দেখেননি, যিনি আরএসএস করেন না। তিনিও তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও একই পথ অনুসরণ করেন। যদিও মন থেকে তিনি কখনো সত্যিকার অর্থে এর মধ্যে ছিলেন না বলে দাবি করেন।

আরএসএসের কার্যক্রম নিয়ে কুনাল বলেন, 'তারা এমন কোনো কিছু শেখায় না, যেটা আপনার কাজে লাগতে পারে। তারা শুধু শেখায়, কীভাবে মুসলিম ও দলিতদের ঘৃণা করতে হয়।' দলিতরা ভারতের সবচেয়ে প্রান্তিক ও বঞ্চিত জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর একটি। একসময় তাদের 'অস্পৃশ্য' হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

প্রিয়া সিংয়ের বাবা বিজেপির একজন কট্টর সমর্থক। প্রিয়া যখন যান্ত্র মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর বাবা তাঁকে মারধর করার হুমকি দেন।

আরএসএসের সবচেয়ে পরিচিত কর্মকাণ্ড হলো সাপ্তাহিক পাড়াভিত্তিক সভা, যাকে 'শাখা' বলা হয়। সেখানে সাধারণত সাদা শার্ট ও খাকি শর্টস পরা পুরুষেরা সামরিক কায়দার প্রশিক্ষণ ও আদর্শগত দীক্ষা নেন। আরএসএসের সদর দপ্তর মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুর শহরে। ১৯৪৮ সালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার ঘটনায় এর এক সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরের বছর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ১৯৫১ সালে সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক শাখা ভারতীয় জনসংঘ গঠন করে, যা পরে ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে আরএসএসের আজীবন সদস্যদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতাসহ দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো সদস্য রয়েছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is আরএসএস ব জ প র সমর থক?

আরএসএস ব জ প র সমর থক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আরএসএস ব জ প র সমর থক matter?

আরএসএস ব জ প র সমর থক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.