Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

‘আমি পাঠান, গুলি করে দাও’, আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি যেভাবে সামলেছিলেন শাহরুখ

Published September 7, 2026 · Updated September 7, 2026 · By Mark Gonzalez - banglaprabah.com

Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com

বলিউডের আন্ডারওয়ার্ল্ড-যুগে একমাত্র যে তারকা মাথা নাটেননি, তাঁর গল্প ফের আলোচনায়

Banglaprabah.com – আম প ঠ ন গ ল কর - নব্বইয়ের দশক থেকে চলতি শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রশিল্পে অপরাধ চক্রের হাত ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী—কেউই এই চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন না। ফোনকলের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, শুটিং সেটে সরাসরি উপস্থিতি, ভবিষ্যৎ প্রজেক্টের কাগজপত্রে সই করানো—এসব ছিল সেই যুগের নিত্যনৈমিতিক অভিজ্ঞতা। তবে সেই ভয়ংকর পরিবেশে একজন শিল্পীর নাম আলাদাভাবে উঠে আসে, যিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন—চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। সেই শিল্পী হলেন শাহরুখ খান।

সঞ্জয় গুপ্তার স্মৃতি: মুম্বাইয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্ডারওয়ার্ল্ড-সময়

নির্মাতা সঞ্জয় গুপ্তা সম্প্রতি ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে হোসেইন জাইদি ফাইলস নামক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেই যুগের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সময় তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। চলচ্চিত্রজগতের মানুষ তখন ছিল অত্যন্ত সহজ লক্ষ্য—কোনো বড় তারকাই নিরাপদ ছিলেন না।

গুপ্তা স্মরণ করেন, এক পাঞ্জাবি অভিনেতার মরদেহ ফিল্ম সিটিতে পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই অভিনেতা পুলিশের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করতেন। অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার এক সাধারণ স্বভাবের সচিবকেও একদিন তাঁর অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নির্মাতা রাকেশ রোশনের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গুপ্তার মতে, এসব শুধু ফোনকলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের ব্যাপার ছিল না—আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব ছিল আরও গভীর ও সিস্টেম্যাটিক।

শুটিং সেট থেকে ভবিষ্যৎ প্রজেক্টের কাগজপত্র

সঞ্জয় গুপ্তা উল্লেখ করেন, সেই সময়ে প্রায় সব শীর্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে এমন চলচ্চিত্রের কাগজপত্রে সই করানো হতো, যেসব ছবি তখনও তৈরি হওয়ার কথা ছিল না। আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন অনেক সময় সরাসরি শুটিং সেটে হাজির হতেন এবং কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করতেন। এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল—শিল্পীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও অপরাধ চক্রের হাতের মুঠোয় রাখা হতো।

শাহরুখের উত্তর: 'আমি পাঠান—চাইলে গুলি করে দাও'

তবে এই সমস্ত চাপের মধ্যে শাহরুখ খান ছিলেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অস্তিত্ব। সঞ্জয় গুপ্তার বর্ণনা অনুযায়ী, যখন শাহরুখকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তিনি সরাসরি বলেছিলেন—

আমি তোমাদের জন্য কোনো ছবি করব না, কোনো অনুষ্ঠানও করব না। আমি পাঠান—চাইলে গুলি করে দাও।

এই উক্তি ছিল কেবল এক মুখের কথা নয়। শাহরুখের অবস্থান ছিল আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট: তিনি ভয় পাচ্ছেন না, এমনটাই জানিয়ে দিচ্ছিলেন; তবে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কাজ করবেন না। এই সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি শেষ পর্যন্ত অপরাধ চক্রের লোকজনের কাছেও তাঁর প্রতি এক ধরনের সম্মান তৈরি করেছিল। গুপ্তার ভাষ্য, হয়তো তারাও ভেবেছিল—'অন্তত একজন তো আছে, যে ভয় পাচ্ছে না।'

ফারাহ খানের সাক্ষ্য: চাপের বাস্তবতা নিশ্চিত

নব্বইয়ের দশকে বলিউডের ওপর আন্ডারওয়ার্ল্ডের চাপের কথা বিভিন্ন তারকার বক্তব্যে আগেও উঠে এসেছে। নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, সে সময়ে চলচ্চিত্রজগতের ওপর এমন চাপের বাস্তবতা ছিল। রনবীর আল্লাহবাদিয়ার একটি পডকাস্টে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—নব্বইয়ের দশকে তিন খান, অর্থাৎ শাহরুখ, সালমান ও আমির, কি আন্ডারওয়ার্ল্ডের চাপে পড়েছিলেন? উত্তরে ফারাহ বলেছিলেন, 'হ্যাঁ।' তবে শাহরুখকে সরাসরি কোনো ফোন করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

ফারাহ স্মরণ করেন, 'ডুপ্লিকেট' কিংবা 'কুচ কুচ হোতা হায়' ছবির প্রিমিয়ারের সময় নির্মাতা করণ জোহর আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি পেয়েছিলেন বলে আলোচনা চলছিল। পরিস্থিতি এতটাই আতঙ্কজনক ছিল যে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান বাতিল করা হবে নাকি নির্ধারিত সময়েই আয়োজন করা হবে—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলেছিল।

টিভি থেকে বড় পর্দা: শাহরুখের পথ

টেলিভিশন দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করা শাহরুখ খান নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মুম্বাইয়ে এসে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন। 'ফৌজি', 'সার্কাস'সহ কয়েকটি টিভি সিরিজে জনপ্রিয় হওয়ার পর ১৯৯২ সালে 'দিওয়ানা' দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড শাসন করা এই তারকার ক্যারিয়ারে যেমন অসংখ্য সাফল্যের গল্প আছে, তেমনি আছে ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা নিয়ে নানা কিংবদন্তি। সঞ্জয় গুপ্তার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই তালিকায় যোগ করল আরেকটি আলোচিত অধ্যায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: 'কিং'-এর অপেক্ষা

২০২৩ সালে 'পাঠান' ও 'জওয়ান' দিয়ে বক্স অফিসে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর এবার শাহরুখ খানের পরবর্তী ছবি 'কিং' নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ছবিটি ডিসেম্বর ২০২৬ সালে মুক্তির কথা রয়েছে। সেই অপেক্ষার মাঝে, তিন দশক আগে আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির মুখে যে অবস্থান তিনি নিয়েছিলেন, তার কথা সঞ্জয় গুপ্তার এই সাক্ষ্য নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—বলিউডের ইতিহাসে সাহসিকতার এক অধ্যায় কখনো মুছে যায়নি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is আম প ঠ ন গ ল কর?

আম প ঠ ন গ ল কর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আম প ঠ ন গ ল কর matter?

আম প ঠ ন গ ল কর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.