আমিরাতে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন জাহেদ, হঠাৎ আগুনে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে প্রাণ গেল
শারজাহর বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় রাউজানের প্রবাসীর মৃত্যু
Banglaprabah.com – আম র ত ব স য় ঘ - সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের রাউজানের প্রবাসী মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮)। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি বাসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু জাহেদ রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিঙ্গলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা প্রয়াত মোহাম্মদ এজাহার মিয়া। প্রবাসে তিনি শারজাহর একটি মুদিদোকানে বিক্রয়কর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন।
পাশের কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত
ঘটনার সময় আবু জাহেদ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে তিনি ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারান বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আগুনের সরাসরি তাপে নয়, বরং ঘরের ভেতরে জমে থাকা ঘন ধোঁয়াই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘুমন্ত অবস্থায় এমন পরিস্থিতি বুঝে ওঠার সুযোগ খুব কম থাকে, বিশেষত যখন আগুন অন্য কোনো কক্ষ থেকে শুরু হয়।
রোববার সকালে বাংলাদেশে থাকা স্বজনেরা আবু জাহেদের মৃত্যুর খবর পান। দূরদেশে পরিবারের একজন উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তর হিঙ্গলা গ্রামে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দুই কন্যাসন্তান রেখে গেলেন
আবু জাহেদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে জেরিন আক্তারের বয়স ১০ বছর এবং ছোট মেয়ে আফরিন আক্তারের বয়স ৩ বছর। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কাজ করছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সামনে গভীর অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।
রাউজান কলেজে পড়াশোনা শেষ করার পর আবু জাহেদ উপজেলা সদর এলাকার ফকিরহাট বাজারে টেলিযোগাযোগ-সংক্রান্ত ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে জীবনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের আশায় ২০০৩ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। শুরুতে দুবাইয়ে অবস্থান করলেও পরবর্তী সময়ে শারজাহতে কর্মজীবন গড়ে তোলেন।
দেশ ও পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল নিবিড়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষ ভাগে তিনি ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কয়েক মাস স্বজনদের সঙ্গে কাটিয়ে আবার জীবিকার প্রয়োজনে আমিরাতে ফিরে যান। সেই ফেরাই যে তাঁর শেষ বিদেশযাত্রা হবে, তা পরিবারের কেউ ভাবতে পারেননি।
মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি
আবু জাহেদ রাউজান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিনের ভগ্নিপতি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
“আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আবু জাহেদের লাশ দেশে আনার কথা রয়েছে। এ জন্য স্বজনেরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।”
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার পর মরদেহ দেশে আনতে স্থানীয় প্রশাসন, দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং পরিবারের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া ও যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
আবু জাহেদের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর গ্রামের মানুষও মর্মাহত। দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় প্রবাসে থেকে পরিবারের দায়িত্ব বহন করা একজন মানুষের জীবন এভাবে শেষ হওয়ায় পরিচিতজনদের মধ্যে শোক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে ফিরলে দুই মেয়েকে সময় দেওয়া এবং পরিবারের পাশে থাকার যে স্বপ্ন তিনি নিয়ে এসেছিলেন, তা আর পূরণ হলো না।
বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে রাতের সময়ে ঘুমন্ত মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবু জাহেদের মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের আবাসনে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, আগুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বের হওয়ার পথ সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এনেছে।
পরিবার এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে যিনি পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁর শেষ বিদায়ের আয়োজনের প্রস্তুতিই এখন স্বজনদের প্রধান কাজ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আম র ত ব স য় ঘ?আম র ত ব স য় ঘ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আম র ত ব স য় ঘ matter?আম র ত ব স য় ঘ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.