সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার
Banglaprabah.com – আম র পর র মত ম য় – চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের আমিরাবাদ এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী সিরাজুম মুনিরার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ছোট মেয়েটিকে হারিয়ে বাবা-মা, নানি ও স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
সিরাজুম মুনিরা উপজেলা সদরের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মো. নুরুন্নবী ও হাসান বানু দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। নুরুন্নবী এলাকায় ডিশ সংযোগ দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। মা হাসান বানু একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।
মুনিরার মা হাসান বানু বলেন, মেয়েটি সাজতে ভালোবাসত এবং ঘুরে বেড়ানোর প্রতি ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। দুপুরের সময় হলে বাবাকে ফোন করে বাড়িতে এসে ভাত খাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিত। কথা বলতে বলতে সন্তানের চলে যাওয়ার ঘটনাটি তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
“আমার মেয়েটা সারাক্ষণ সেজেগুজে থাকতে চাইত, বেড়াতে যেতে খুব ভালোবাসত। দুপুর হলেই বাবাকে ডাকত, যেন বাড়িতে এসে খেয়ে যায়। এমন পরির মতো মেয়েটা কথা বলার মধ্যেই চলে গেল। এই শোক নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব?”
জ্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ১০ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে মুনিরার জ্বর শুরু হয়। পরদিন জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু গত রোববার আবার জ্বর দেখা দিলে স্বজনেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
সেদিনই চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় পরদিন সোমবার। তবে যে চিকিৎসক পরীক্ষাটি করাতে বলেছিলেন, তিনি সেদিন চেম্বারে না থাকায় পরিবারটি রিপোর্ট সংগ্রহ করে তাঁর কাছে যেতে পারেনি। মঙ্গলবার সেই রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠার বিষয়টি সামনে আসে।
হাসান বানু জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য মেয়েটি নিজে হেঁটেই গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে তার হাত-পা ফুলতে শুরু করে এবং মলের রং কালো হয়ে যায়। চিকিৎসক দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবার বিলম্ব না করে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্দেশিত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিশুদের জ্বরের সঙ্গে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, হাত-পা ফোলা বা অন্য কোনো উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা জরুরি।
স্কুলব্যাগে রয়ে গেছে লেখা ও আঁকা
শুক্রবার সকালে মুনিরাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে দুই কক্ষের একতলা ঘরটিতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। শোকাহত পরিবেশে একটি ঘরের খাটের ওপর রাখা হলুদ রঙের স্কুলব্যাগ খুলে মুনিরার হাতের লেখা ও আঁকা ছবি দেখাচ্ছিলেন তার মা এবং নানি সালেহা বেগম।
হাসান বানু দুই মেয়ের কক্সবাজার ভ্রমণের ছবিও স্বজনদের দেখান। ছবির স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের শূন্যতা মিলিয়ে নিতে পারছেন না তিনি। ছোট মেয়েটি পড়াশোনাতেও ভালো ছিল বলে জানান মা। বড় মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
“বড় মেয়েটা সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। ছোটটাকেও স্কুলে ভর্তি করেছিলাম, পড়াশোনায় ভালো ছিল। মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”
বাবা নুরুন্নবী বলেন, মুনিরা নতুন জামার কথা বলত, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করত। রাতে তাঁর ফিরতে দেরি হলে ফোন করে খোঁজ নিত। মেয়ের সেই ফোন আর আসবে না—এই সত্য তাঁকে বারবার কাঁদিয়ে তুলছে।
“ও ঘুরতে যেতে পছন্দ করত, নতুন পোশাকের কথা বলত। রাতে দেরি হলে আমাকে ফোন দিয়ে খবর নিত। এখন আর কেউ ফোন করবে না। এত অল্প সময়ে এত মায়া রেখে চলে গেল; এই কষ্ট ভুলে কীভাবে থাকব জানি না।”
নানির স্মৃতিতে প্রাণবন্ত মুনিরা
নানি সালেহা বেগমের স্মৃতিতে মুনিরা ছিল খুবই প্রাণচঞ্চল ও মনোযোগী একটি শিশু। ইউটিউব দেখে সে হাতের লেখা অনুশীলন করত। বয়স কম হলেও তার লেখা সুন্দর ছিল, ছবি আঁকতও যত্ন নিয়ে। বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে সাঁতার শেখানো হয়েছিল; গোসলের সময় পুকুরে নামলে সে আনন্দে খেলত।
“আমার পরিটা দেখতে যেমন সুন্দর ছিল, তার কাজকর্মও ছিল তেমন। ইউটিউব দেখে হাতের লেখা চর্চা করত। খুব সুন্দর ছবি আঁকত। পুকুরের পাশে থাকত বলে সাঁতারও শিখেছিল, গোসল করতে গেলেই পানিতে খেলত।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, মুনিরা যে শ্রেণিতে পড়ত, তাঁর মেয়েও একই শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিজের মেয়ের কাছ থেকেই তিনি প্রথম শিশুটির মৃত্যুর খবর পান। ঘটনাটি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
“নিহত সিরাজুম মুনিরা যে ক্লাসে পড়ত, আমার মেয়েও সেই ক্লাসে পড়ে। আমার মেয়ের কাছ থেকেই প্রথম মৃত্যুর খবরটি পাই। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক; শুনে আমিও নিজেকে সামলাতে পারিনি।”
শিশুটির স্কুলব্যাগ, আঁকিবুঁকি, হাতের লেখার খাতা এবং পারিবারিক ছবিগুলো এখন তার স্বজনদের কাছে স্মৃতির একেকটি নিদর্শন। একটি পরিবারের দৈনন্দিন হাসি, ফোনকল ও ছোট ছোট আবদার যে কত দ্রুত গভীর শূন্যতায় পরিণত হতে পারে, মুনিরার মৃত্যু সেই বেদনারই স্মারক হয়ে রইল।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আম র পর র মত ম য়?
আম র পর র মত ম য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আম র পর র মত ম য় matter?
আম র পর র মত ম য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

