Uncategorized

আগুনে পুড়েছে সব, ফেরেননি স্বামী, তিন সন্তানকে আঁকড়ে অপেক্ষায় এক মা

আগুনে পুড়েছে সব, ফেরেননি স্বামী, তিন সন্তানকে আঁকড়ে অপেক্ষায় এক মা আগ ন প ড় ছ সব ফ - কালশী উড়ালসড়কের র‍্যাম্পের নিচে মাটিতে বিছানো পাতলা মাদুরে শুয়ে আছে

Desk Uncategorized
Published May 26, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

আগুনে পুড়েছে সব, ফেরেননি স্বামী, তিন সন্তানকে আঁকড়ে অপেক্ষায় এক মা

আগ ন প ড় ছ সব ফ – কালশী উড়ালসড়কের র‍্যাম্পের নিচে মাটিতে বিছানো পাতলা মাদুরে শুয়ে আছে তিন শিশু। তাদের গায়ে কালো কম্বল জড়িয়ে দিয়েছেন মা রাজিয়া বেগম। পাশে তিনি বসে আছেন। তাঁর চোখে ঘুম নেই, মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়।

গতকাল সোমবার সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় বস্তিতে আগুন লাগে। তখন প্রায় ১ হাজার ২০০ ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রাজিয়া ও তিন সন্তানের ঘরটি সেই বস্তিতে ছিল। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় ছিল এক কক্ষের ঘরে যার মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা।

‘পোলা-মাইয়া নিয়া খাইতে বইসিলাম। হঠাৎ কারেন্ট চইলা গেল। তহন মাইনষের চিৎকার–চেঁচামেচি, আগুন লাগসে, আগুন। কোনোমতে পোলারে কোলে নিয়া, মাই দুইডারে হাতে ধইরা ঘর থেইকা বাইর আইসি। কিস্যু আনতে পারি নাই। সব পুইড়া ছাই হইয়া গেসে।’

রাজিয়া রাগ করে বাসা থেকে বের হন ২০ মে। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। সারা রাত তিনি সন্তানদের সাথে উড়ালসড়কের নিচে কাটিয়েছেন। খাওয়াদাওয়ার অবস্থাও ছিল করুণ।

‘রাইতে কোনো খাওন জুটে নাই। পোলা-মাইয়ারে রুটি আর কলা কিননা দিসিলাম। নিজে কিসু খাই নাই। আইজকা সকালে তিন প্যাকেট খিচুড়ি পাইসি। ওইডাই খাওয়া। দুপুরে কিসু পাইনাই এহনো।’

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুসারে, বস্তিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ঘর ও দোকান ছিল। আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার লোক এ এলাকায় বাস করতেন। গতকাল রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের তথ্য জানায় ফায়ার সার্ভিস।

দুপুরে দেখা যায় পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে ছাইয়ের মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বেঁচে থাকা জিনিস। কারও হাতে ভাঙা লাঠি, কেউ খালি হাতে সরাচ্ছেন পোড়া টিন আর কয়লার স্তূপ।

রাজিয়া বলেন, ‘এহন কেমনে চলুম, জানি না। হেগো (সন্তানদের) বাপেও তো খবর নিল না।’ কথা বলতে বলতে সন্তানদের মুখে বসা মশা-মাছি হাত নেড়ে সরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। তাঁর অপেক্ষা—স্বামী তাদের খোঁজ নিক, ফিরে আসুক। তবেই নতুন করে শুরু করার সাহস পাবেন তিনি।

যোগাযোগ করেছিলেন কি না এমন প্রশ্নে অভিমানের সুরে বললেন রাজিয়া, ‘ফোন করমু কেন, আগুন লাগসে দুনিয়ার মানুষ জানে। আমার লগে নই রাগ আছে, তার কি সন্তানগো লাগি কোনো মায়া নাই?’

Leave a Comment