সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাবার কর্মসূচি: সম্প্রসারণ, বাধা ও ভবিষ্যৎ
Banglaprabah.com – আগ ম বছর থ ক স র – ক্ষুধার পেটে পাঠশালায় বসে কেউ মনোযোগ দিয়ে শিখতে পারে না — এই সহজ সত্যই বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে নেমে আসার, ঝরে পড়ার এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ হারানোর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি — যাকে সাধারণত ‘মিড ডে মিল’ বলা হয় — চালু করা হয়। এখন সেই কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণের দিকে ঝুঁকছে রাষ্ট্র।
সম্প্রসারণের সময়সীমা ও আকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সব উপজেলায় একসঙ্গে কর্মসূচিটি কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার আগামী বছরের মধ্যে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এই বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থী দুই কোটি এক লাখের বেশি, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এক কোটি ছয় লাখের বেশি।
বর্তমান পরিসর ও খাবারের ধরন
বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন খাবারের ধরন পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়; সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ; মঙ্গলবার ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা। ইউএইচটি মানে আলট্রা হাই টেম্পারেচার — এক ধরনের দুধ সংরক্ষণ পদ্ধতি, যার প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়। ফর্টিফাইড বিস্কুট বাজার পুষ্টিসমৃদ্ধ।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তিনটি: শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে, ঝরে পড়া কমাতে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখতে। ক্ষুধার্ত শিশু যখন বিদ্যালয়ে আসে, তখন তার মন পাঠশালার দিকে থাকে — এই সহজ যুক্তিই কর্মসূচির ভিত্তি।
সরবরাহ ব্যবস্থা ও খরচ
খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো পালন করছে। দুধ সরবরাহে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, বিস্কুটে দুটি এবং বানরুটি, ডিম ও কলার প্যাকেজে ১২টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা ও বিস্কুট ১৯ টাকা ধরে খাবারের ব্যয় হিসাব করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাস্তবায়িত ১৫০ উপজেলার জন্য কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। যদি আরও ৩৪৮ উপজেলায় — অর্থাৎ সারা দেশে — কর্মসূচি চালু করা হয়, তবে মোট ব্যয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এই বিশাল আর্থিক বরাদ্দ দেশের শিক্ষা খাতের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রার প্রতিনিধিত্ব করবে।
মান-নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ
কর্মসূচি চালুর পর সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কোরবানির ঈদের পর এ বিষয়ে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি নিজে এক মাসে ১২ থেকে ১৪টি জেলা পরিদর্শন করেছেন।
কর্মসূচির শুরুর দিকে যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলো এখন প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে।
অনিয়ম রোধে মায়েদের যুক্ত করে ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে খাবারের মান ও পরিমাণ নজরে রাখার ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ খাবার-নীতি
সারা দেশে কর্মসূচি চালু হলে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আসবে কি না, সেই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ কাজ করে বর্তমান খাবারের ধরন নির্ধারণ করেছেন। তবে পুষ্টিমান একই রেখে অন্য কোনো ধরনের খাবার দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে।
১২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, তিন কোটি শিশুর পুষ্টি-নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মান — এই তিনটি বিষয় একসাথে সামলে নেওয়া হবে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা নীতির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কর্মসূচি যদি সফলভাবে সম্প্রসারিত হয়, তবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উপস্থিতি-হার ও ঝরে-পড়ার হারে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আগ ম বছর থ ক স র?
আগ ম বছর থ ক স র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আগ ম বছর থ ক স র matter?
আগ ম বছর থ ক স র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

