Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আখতার হুসেন বেঁচে থাকবেন তাঁর ছড়ায়, গানে

Published October 3, 2026 · Updated October 3, 2026 · By Elizabeth Smith - banglaprabah.com

Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com

গান ও ছড়ার ভেতরেই স্মরণীয় আখতার হুসেন

Banglaprabah.com – আখত র হ স ন ব চ - শিশুসাহিত্যিক, গীতিকার, সাংবাদিক ও শিশু সংগঠক আখতার হুসেনকে স্মরণ করতে গান, ছড়াপাঠ এবং আবেগমাখা স্মৃতিচারণায় মিলিত হন খেলাঘর আসরের প্রবীণ ও নবীন কর্মীরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে খেলাঘরের কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত শোকসভায় তাঁর কর্মজীবন, সাহিত্যচর্চা, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের জন্য নীরব মানবিক উদ্যোগের নানা দিক উঠে আসে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮১ বছর বয়সে মারা যান আখতার হুসেন। খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাকালের অন্যতম সদস্য এবং সংগঠনের দলীয় সংগীতের রচয়িতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বিশেষভাবে উজ্জ্বল। শোকসভায় বক্তাদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অনুপস্থিতি গভীর বেদনার হলেও শিশুদের মনন গঠনে যে সৃজনশীল পথ তিনি তৈরি করেছেন, তা তাঁর গান ও ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকবে।

নীরবতা, গান ও শ্রদ্ধার আয়োজন

আখতার হুসেনের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে খেলাঘরের সদস্যরা দুটি গান পরিবেশন করেন। প্রথমে শোনা যায় রবীন্দ্রসংগীত

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম

। পরে পরিবেশিত হয় আখতার হুসেনের লেখা খেলাঘরের দলীয় সংগীত—

আমরা তো সৈনিক শান্তির সৈনিক, অক্ষয় উজ্জ্বল সূর্য

।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খেলাঘরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। কেন্দ্রীয় সম্পাদক ফারুক মহসীন সঞ্চালনা করেন শোকসভাটি। যাঁরা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই দীর্ঘ সময়ে খেলাঘরের বিভিন্ন স্তরে আখতার হুসেনের সহকর্মী ছিলেন। ফলে আলোচনার মধ্যে ছিল সংগঠনের কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি এবং প্রিয় সহযোদ্ধাকে হারানোর গভীর অনুভব। অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, কেউ কেউ স্মৃতির আবেগ সামলাতে পারেননি।

শিশুদের জন্য নীরব সহায়তা

আখতার হুসেনের মানবিকতার একটি কম আলোচিত দিকও স্মরণ করা হয় সভায়। খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জানান, তিনি আড়ালে বহু দরিদ্র পরিবারের শিশুর পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতেন। বাংলা একাডেমির পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থও তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি দরিদ্র পরিবারের কন্যাশিশুর শিক্ষার জন্য ব্যয় করেছিলেন।

নিজের সামর্থ্য যথেষ্ট না হলে পরিচিতজনদের কাছেও তিনি সহায়তার আবেদন করতেন, যাতে কোনো শিশুর পড়াশোনা থেমে না যায়। এই প্রসঙ্গ তাঁর শিশু সংগঠক পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করে। কেবল সাহিত্য রচনা বা সাংগঠনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের জীবন ও শিক্ষার বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন—স্মৃতিচারণায় এমন কথাই উঠে আসে।

গান ও ছড়ায় খেলাঘরের আদর্শ

খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতান বলেন, সম্মেলন কিংবা বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে আখতার হুসেন প্রায়ই নতুন গান ও ছড়া লিখতেন। তাঁর রচনায় খেলাঘরের লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং শিশুদের জন্য ইতিবাচক সমাজ গড়ার প্রত্যয় সহজ ভাষায় প্রকাশ পেত। তিনি এসব গান সংগ্রহ করে স্বরলিপিসহ সংরক্ষণ এবং আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

শিশুদের জন্য লেখা গান ও ছড়া শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়; এগুলো মূল্যবোধ, কল্পনা ও সমষ্টিগত চেতনা গঠনেরও মাধ্যম। আখতার হুসেনের রচনাগুলোকে সংরক্ষণ করা হলে খেলাঘরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভবিষ্যৎ কর্মীদের কাছে পৌঁছাবে। শোকসভায় তাঁর সৃষ্টি নিয়ে এমন ভাবনারও প্রতিফলন দেখা যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেলাঘর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আলী ইদ্রিস বলেন, যাঁদের নিরলস শ্রমে খেলাঘর দেশের অন্যতম প্রধান শিশু-কিশোর সংগঠনে পরিণত হয়েছে, আখতার হুসেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। গীতিকার, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হলেও শিশু সংগঠক হিসেবে তাঁর অসামান্য ভূমিকা অনেক সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঐক্যের স্বপ্ন ও আপনজনের সম্পর্ক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ বলেন, খেলাঘরের বর্তমান দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি আখতার হুসেনকে ব্যথিত করত। তিনি সংগঠনের ঐক্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন এবং শিশুদের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবতেন। তাঁর আশা ছিল, প্রিয় সংগঠনটি নতুন উদ্যমে আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়াত আলীর বক্তব্যে উঠে আসে কর্মীদের প্রতি আখতার হুসেনের গভীর স্নেহের কথা। তিনি অনেক সময় কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিতেন। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক তাই শুধু সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্যে আটকে থাকত না; তা ছিল আন্তরিকতা ও পারিবারিক আপনত্বে ভরা।

আখতার হুসেনের বহু গানের সুরকার সেলিম রেজা বলেন, তাঁকে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। খেলাঘরের কর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও খুব সহজে বন্ধন তৈরি করতে পারতেন তিনি। সেলিম রেজা

সেতু গড়ি চলো, সেতু গড়ি

এবং

মেলা লেগেছে মেলা

গান দুটির সুরারোপের স্মৃতি তুলে ধরে গানগুলোর অংশও পরিবেশন করেন।

আলোচনায় অংশ নেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, রথীন চক্রবর্তী এবং সদস্য প্রকৌশলী শ্যামল বিশ্বাসসহ অন্যরা। তৌহিদ রিপন পাঠ করেন আখতার হুসেনের জীবনী। অনুষ্ঠানে মারুফ হোসেন পরিবেশন করেন

স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে

গানটি এবং শাহিন আক্তার পাঠ করেন

ভূগোলে যা নেই

ছড়াটি।

শোকসভার পরিবেশে বারবার ফিরে আসে একটি কথাই—আখতার হুসেনের জীবন ছিল শিশুদের জন্য সৃজন, সংগঠন এবং মানবিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়। তাঁর লেখা ও কর্মের স্মৃতি ধরে রাখা তাই কেবল একজন গুণী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নয়; শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি প্রয়োজনীয় উত্তরাধিকার সংরক্ষণের কাজও।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is আখত র হ স ন ব চ?

আখত র হ স ন ব চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আখত র হ স ন ব চ matter?

আখত র হ স ন ব চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.