Banglaprabah
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আইসিইউতে শেষবার মা–বাবাকে ডেকেছিল, একটু হেসে নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছোট্ট ইয়াসির

Published October 12, 2026 · Updated October 12, 2026 · By William Jones - banglaprabah.com

Foto : William Jones - banglaprabah.com

ডেঙ্গুতে তিন বছরের ইয়াসিরের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ সীতাকুণ্ডের একটি পরিবার

Banglaprabah.com – আইস ইউত শ ষব র ম ব - চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারিতলা এলাকায় এখন নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। যে ছোট্ট ঘরটিতে তিন বছরের ইয়াসির আরাফাতের কথায় প্রাণচাঞ্চল্য থাকত, সেখানে এখন কেবল সন্তানহারা বাবা রুবেল হোসেনের কান্না আর স্বজনদের সান্ত্বনার চেষ্টা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মারা যায় শিশুটি।

রুবেল হোসেন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ক্রেনচালক হিসেবে কাজ করেন। ছেলের কবর জিয়ারত করে ফেরার পর টিনের ছাউনির ঘরের সামনের কক্ষে বসে তিনি বারবার থেমে যাচ্ছিলেন। পরনে ছিল নীল পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি। মুঠোফোনে ছেলের একটি ছবি দেখাতে গিয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি।

“আমার ছেলেটার খুব কষ্ট হচ্ছিল। ভেতরে কী যন্ত্রণা চলছিল, তা বোঝাতে পারছিল না। হঠাৎ তার নানি দেখতে পান, তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এ কথা শুনেই আমি আর তার মা আইসিইউতে ঢুকি। সেখানে যেতেই ‘বাবা’, ‘মা’ বলে ডেকে ওঠে ইয়াসির। এরপর একটু হেসেই নিস্তেজ হয়ে যায়। ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে।”

জ্বর থেকে জটিল অবস্থায়

রুবেল জানান, ইয়াসিরের প্রথম জ্বর দেখা দেয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর। তখন শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০১ ডিগ্রি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর এক দিনের মধ্যে জ্বর কমেও গিয়েছিল। পরিবারটি ভেবেছিল, হয়তো শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু কিছুদিন পর, গত মঙ্গলবার, তার জ্বর হঠাৎ ১০৪ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়।

দ্বিতীয় দফায় জ্বরের চিকিৎসা শুরু হলেও তা কমছিল না। একই দিনে শিশুটির খিঁচুনিও শুরু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তার শরীর, হাত ও পা ঠান্ডা হয়ে যেতে থাকে। অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি না হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

রুবেল দ্রুত ছেলেকে নিয়ে ওই হাসপাতালে যান। তাঁর ভাষ্য, শুরুতে সেখানে ভর্তি করানো কঠিন ছিল; পরে অনেক চেষ্টার পর ইয়াসিরকে আইসিইউতে রাখা হয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে তার রক্তবমি শুরু হয় এবং পায়খানার সঙ্গেও রক্ত যেতে থাকে। চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি অক্সিজেন দিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

একটি পরিবারের অপূরণীয় শূন্যতা

ইয়াসির ছিল রুবেল ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল নাইমার একমাত্র ছেলে। সন্তান হারানোর ধাক্কায় জান্নাতুল নাইমা ভেঙে পড়েছেন। স্বজনেরা তাঁকে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মাত্র ছয় মাস আগে রুবেলের বাবার মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোক সামলে ওঠার আগেই তাঁকে হারাতে হলো নিজের একমাত্র সন্তানকে।

স্বজনদের বর্ণনায়, কথা বলতে শেখার পর থেকেই ইয়াসির ছিল খুবই প্রাণবন্ত। ঘরের পরিবেশ মাতিয়ে রাখত সে। পথে যাকেই দেখত, তার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করত। শিশুটির সেই চেনা উপস্থিতি হারিয়ে যাওয়ায় মা-বাবার পাশাপাশি পুরো পরিবারই দিশেহারা।

রুবেলের মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি। গত ঈদের সময় তোলা ছবিতে পাঞ্জাবি পরা ইয়াসিরকে এক হাত মেলে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রুবেল শুধু বলেন,

“ছেলেটার জন্য দোয়া কইরেন।”

বসতবাড়ির পাশের নালা ও মশার বিস্তার

পরিবারটির ছোট বাড়িটির দুই পাশে খোলা নালা রয়েছে। সেখানে প্রচুর মশার লার্ভা দেখা যায়। পরিবারের ধারণা, ওই নালায় জন্ম নেওয়া মশার কামড় থেকেই ইয়াসির ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। খোলা নালা, জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তার বাড়াতে পারে—এ কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা জরুরি।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক জানান, ইউনিয়নের আটজন গ্রাম পুলিশকে নিয়ে সপ্তাহের সাত দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ওষুধ ছিটিয়েও ডেঙ্গুর বাহক মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“যতক্ষণ না স্থানীয় বাসিন্দারা সচেতন হবেন, ততক্ষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হবে।”

তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি কোথাও জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। বাড়ির আঙিনা, নালা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও প্রত্যেক বাসিন্দার। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সতর্কতার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়াসিরের মৃত্যু সেই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও বেদনাদায়কভাবে সামনে এনেছে। গামারিতলার ছোট্ট ঘরটিতে এখন শিশুর হাসির বদলে রয়ে গেছে একটি ছবি, কিছু স্মৃতি এবং বাবা-মায়ের না-ফুরোনো শোক।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is আইস ইউত শ ষব র ম ব?

আইস ইউত শ ষব র ম ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আইস ইউত শ ষব র ম ব matter?

আইস ইউত শ ষব র ম ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.