‘বনলতা সেন’: চলচ্চিত্র কেবল গল্প দিয়ে কথা বলে
সূচনা থেকে ভাষা গড়ে ওঠে কিন্তু গল্প নয়
বনলত স ন – পৃথিবীর প্রথম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল লুই লে প্রিন্সের রাউন্ডহে গার্ডেন সিন। এই দীর্ঘ দুই সেকেন্ডের দৃশ্যে কোনো গল্প নেই, কোনো চরিত্র বিকাশ নেই, কোনো সংঘাতও দেখা যায় না। কেবল কয়েকজন মানুষ হেঁটে বেড়ানোর প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু এই অতি সামান্য দৃশ্য একটি নতুন শিল্পমাধ্যমের জন্ম দেয়।
সেই জন্মের পর থেকে চলচ্চিত্র নিজের ভাষা নির্মাণ করেছে। সাহিত্য থেকে ধার নিয়েছে আবার সাহিত্যকে অতিক্রমও করেছে। নাটক, সংগীত, চিত্রকলা, আলোছায়ার বিন্যাস এবং ক্যামেরার গতি সবগুলো অনুভূতি তৈরি করেছে এক নতুন শিল্পের মাধ্যমে।
নবরস: সাহিত্যের আঁচ ছাড়া অনুভূতির মূল উপাদান
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র আলোচনার বড় অংশ গল্পের ওপর ভরসা করে। কিন্তু চলচ্চিত্রের ভাষা গল্পের চেয়ে বেশি গভীর অনুভূতিকে প্রকাশ করতে পারে। যেমন নীরবতা বা ফ্রেমের স্থিরতা। এটি সাহিত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষার কথা।
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে…”
জীবনানন্দ দাশের কবিতাটি অনুভূতির সম্পূর্ণ মাধ্যম। এখানে গল্প কেবল একটি উপাদান হতে পারে, পরিচয় নয়। কবিতার শুরুতে দেখা যায় ক্লান্ত পথিকের চিত্র, যা অস্তিত্বের জন্য দীর্ঘ যাত্রার প্রতিফলন। এরপর বনলতা সেনের প্রবেশ করে শৃঙ্গার রসে, কিন্তু এটি নারীসৌন্দর্য থেকে বেশি গভীর অনুভূতির প্রতিফলন।
ভারতীয় নন্দনতত্ত্বের নবরস হলো সাহিত্য ও নাট্যশাস্ত্রের নূতন ধারণা। শৃঙ্গার, হাস্য, করুণ, রৌদ্র, বীর, ভয়ানক, বীভৎস, অদ্ভুত ও শান্ত রসগুলো একত্রে চলচ্চিত্রের ভাষা গড়ে ওঠে। এগুলো কখনো কখনো মিশে যায় বিস্তৃত প্রকাশের মাধ্যমে।
বাস্তব ধরনের অনুভূতি নির্মাণ
মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ শান্ত রসের চলচ্চিত্র। এখানে করুণ ও শৃঙ্গার রস আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে প্রকৃতি, নিঃসঙ্গতা ও অস্তিত্বের ধ্যানমগ্ন অনুভূতি তৈরি হয়। মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের দেলুপি করুণ ও বীর রসের সম্মিশ্রণ। প্রান্তিক মানুষের বেদনা ছাড়া প্রতিরোধের শক্তি নেই। ফলে এটি শুধু কাঁদায় না, দাঁড়িয়ে থাকার সাহসও দেয়।
আমাদের মনে হয়, চলচ্চিত্রকে সাহিত্য দিয়ে বিচার করার অভ্যাস এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছি যে গল্প যথেষ্ট নয়। এ কারণে যে চলচ্চিত্র অনুভূতি ও প
